বাংলাদেশের রেনে হিগুইতা
Printed Edition
রফিকুল হায়দার ফরহাদ
রেনে হিগুইতা। কলম্বিয়ার এই গোলরক্ষক মাঠে তার বর্ণময় চরিত্রের জন্য বিখ্যাত। লম্বা কোকড়ানো চুলের এই গোলরক্ষক পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে আসে ডিফেন্সের মতো খেলতেন। বল নিয়ে উপরে উঠে যেতেন। প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়দের কাটিয়ে সামনে এগোতেন। পেনাল্টিতে গোল করা ছাড়াও অদ্ভুত স্টাইলে বল ক্লিয়ার করে সবার নজর কাড়তেন। বিশেষ করে পোস্টের নিচে গোল লাইনের উপর দাঁড়িয়ে বিচ্চু স্টাইলে বল ক্লিয়ার করাটা ছিল সবচেয়ে বেশি দৃষ্টি নন্দন। এ ছাড়া বল হাত দিয়ে না ধরে হেডে সে বলের নিয়ন্ত্রণ নিতেন। এরপর এগিয়ে যেতেন সানে। এবার বাংলাদেশে পাওয়া গেল সেই স্ট্রাইলের গোলরক্ষককে। তিনি আরিয়ান খান। চাঁপাইনবাবগঞ্জের এই ফুটবলার এবারের প্যারাগন ডেইরি দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবল লিগে খেলেছেন খিলগাঁও ফুটবল অ্যাকাডেমির হয়ে। হিগুইতা স্ট্রাইলে শূন্যে ভেসে বিচ্চুর মতো দুই পা দিয়ে বল ক্লিয়ার করেছেন এবারের লিগে। এ ছাড়া নিখুঁতভাবে বল গ্রিফ করা এবং দুর্দান্তভাবে বল সেভ করে দ্বিতীয় বিভাগে টিকিয়ে রেখেছেন খিলগাঁও ফুটবল অ্যাকাডেমিকে। দর্শকরা তাকে ডাকা শুরু করেছেন বাংলাদেশের হিগুইতা নামে।
মাইক্রোবাস চালক বাবার ছেলে আরিয়ান। দিয়েছেন এইচএসসি পরীক্ষা। বাবা তোতা মিয়া নিজেই ছিলেন গোলরক্ষক। অবশ্য তার খেলাটা চাঁপাইনবাবগঞ্জেই। তোতা মিয়াই ছেলেকে গোলরক্ষক বানিয়েছেন। আরিয়ানরা দুই ভাই এক বোন। অপর ভাইও ফুটবলে খেলেন।
রেনে হিগুইতা স্ট্রাইলে পোস্টের নিচে বল ঠেকানো নিয়ে আরিয়ান জানান, ‘দর্শকদের মজা দেয়ার জন্যই আমি এ কাজ করি। কখনো পেছনে দুই পা তুলে শূন্যে ভাসা এবং গোল হতে যাওয়া বল ঠেকাই। কখনো পা দিয়ে বল না থামিয়ে নিতম্ব দিয়ে থামাই। এই সবই করি দর্শকদের আনন্দ দিতে এবং নিজের মনের খোরাকের জন্য।’
এবারের দ্বিতীয় বিভাগ লিগে তিনি এভাবে বিচ্চুর মতো গোল লাইনের উপর থেকে বল ঠেকিয়েছিলেন বিজি প্রেসের বিপক্ষে। আরিয়ান জানান, আমার এই স্টাইলে বল ঠেকানো দেখে দর্শকরা খুব মজা পেয়েছিল। কারণ তারা এই প্রথম এমন স্ট্রাইলে বল ঠেকানো দেখেছে।’ এরপর যোগ করেন, ‘সাধারণত আমি কলম্বিয়ার হিগুইতার মতো এমন স্ট্রাইলে বল ঠেকাই না লিগের ম্যাচে। বেশি করি বিভিন্ন জেলা-উপজেলায় হওয়া টুর্নামেন্টে। সে সাথে যে ম্যাচে দল বেশি গোলে জিততে যাচ্ছে, তেমন ম্যাচেই স্করপিওন বা বিচ্চু স্টাইলে বল ঠেকাই।’
শুধু এই স্করপিওন স্টাইলেই বল ঠেকানো নয়। পেনাল্টিতেও গোল করেন। টাইব্রেকারেও নিয়মিত শট নেন। আরিয়ান তথ্য দেন, ‘এখন পর্যন্ত আমার কোনো টাইব্রেকার শট বা পেনাল্টি শট মিস হয়নি। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে স্মরণীয় চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিনোদপুরের একটি টুর্নামেন্টে। সেখানে আমি শট নিয়েছিলাম এক দিকে। কিন্তু বল গেল অন্য দিকে। সেই বল একেবারে দুই পোস্টের কোনা দিয়ে জালে যায়। একেবারেই পকেট গোল ছিল সেটি।’
হিগুইতার মতো খেলাই নয়। পোস্টের নিচে তার পরফরম্যান্সও অসাধারণ। এবারের লিগে শেষ ম্যাচে চ্যাম্পিয়ন বিকেএসপিকে গোলশূন্যতে রুখে দিয়েছিল খিওগাঁও ফুটবল অ্যাকাডেমি। সেই ম্যাচে পোস্টের নিচে অতন্দ্র প্রহরী ছিলেন এই আরিয়ান। দুর্দান্ত সব সেভ করেছেন এই কিপার।
আরিয়ানের পারফরম্যান্সে দারুণ খুশি খিলগাঁও ফুটবল অ্যাকাডেমির ম্যানেজার কাম কোচ ফারুক আহমেদ। তার মতে, আমি মনে করি এবারের দ্বিতীয় বিভাগ লিগে সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার পাওয়া উচিত ছিল আরিয়ানের। বলতে গেলে স্রেফ তার কৃতিত্বেই লিগে রেলিগেশন এড়িয়ে টিকে গেছে আমার ক্লাব। শেষ ম্যাচেই দেখুন। কী চমৎকার ছিল তার পারফরম্যান্স। পুরো লিগে সে ১০০টির মতো চমৎকার সেভ করেছে।’ আরো যোগ করেন, ‘আরিয়ানের আরেকটি বৈশিষ্ট ক্রস বা কর্নার থেকে আসা যে বলটি সে গ্রিফ করে তা একেবারেই নিখুঁত। একটি বলও তার হাত ফসকে বের হয় না।
এবারেই প্রথম ঢাকার মাঠে খেলা নয় আরিয়ানের। পিডব্লিউডির হয়ে অনূর্ধ্ব-১৬ বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়ন্স শিপ লিগে খেলেছেন। এ ছাড়া তৃতীয় বিভাগ লিগেও লালবাগ তরুণ সংঘের হয়ে।