লালমোহনে সেচ প্রকল্প দখলের অভিযোগ, আবাদ নিয়ে শঙ্কা

Printed Edition

লালমোহন (ভোলা) সংবাদদাতা

ভোলার লালমোহন উপজেলায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) অনুমোদিত একটি সেচ প্রকল্প জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের লেজছকিনা এলাকার একতা বাজারসংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে অবস্থিত ওই সেচ প্রকল্পটি দখলের ফলে পানি সরবরাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এতে প্রায় অর্ধশত একর জমির ধান আবাদ মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে বলে কৃষকরা অভিযোগ করছেন।

এ ঘটনায় সেচ প্রকল্পের মালিক মো: ইউসুফ লালমোহন থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি কালমা ইউনিয়নের বেপারি বাড়ির বাসিন্দা মো: মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে। অভিযোগে মো: ইউসুফ জানান, ২০০১ সাল থেকে তিনি স্থানীয় কৃষকদের জমিতে ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা দিয়ে আসছেন। ২০১৯ সালে বিএডিসি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সেচ প্রকল্প পরিচালনার লাইসেন্সও পেয়েছেন তিনি। কিন্তু কয়েক দিন আগে স্থানীয় মো: নাগর মাতাব্বরের নেতৃত্বে তার ছেলেরা জোরপূর্বক সেচ পাম্পের ঘরে ঢুকে তাকে বের করে দেয় এবং ঘরের চাবি নিয়ে নেয়। ফলে তিনি আর পাম্প চালু করতে পারছেন না।

ইউসুফ আরো বলেন, ‘ঘটনাটি স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা করেছি। কিন্তু কোনো সুরাহা না পেয়ে থানায় অভিযোগ করতে বাধ্য হয়েছি। দ্রুত সেচ প্রকল্পটি চালু না হলে প্রায় ২০০ কৃষকের অন্তত ৫০ একর জমিতে ধান রোপণ ব্যাহত হবে। এতে ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।’ তিনি দখলদারদের কাছ থেকে প্রকল্পটি উদ্ধার করে তার কাছে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

স্থানীয় কৃষক আব্দুস সাত্তার হাওলাদার, মো: এরশাদ ও মো: মোস্তফাসহ কয়েকজন জানান, দীর্ঘ দিন ধরে ইউসুফের ব্যবস্থাপনায় সেচ প্রকল্পটি পরিচালিত হয়ে আসছিল। সম্প্রতি নির্বাচনের পর নাগর মাতাব্বর প্রকল্পটি জোরপূর্বক দখল করে নেন। ফলে এখন ঠিকমতো পানি পাওয়া যাচ্ছে না, ধানের চারা শুকিয়ে যাচ্ছে। দ্রুত সমাধান না হলে তার কয়েক লাখ টাকার ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে মো: নাগর মাতাব্বর বলেন, ‘২০০১ সালে আমি এবং ইউসুফের ভাই আইয়ুব আলী যৌথভাবে এই সেচ প্রকল্প শুরু করি। পরে ইউসুফ ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রকল্পটি নিজের দখলে নেয়। এখন আমাদের অধিকার ফিরে এসেছে। তাই আমরা প্রকল্পটি দখলে নিয়েছি।’

এ প্রসঙ্গে লালমোহন থানার ওসি মো: অলিউল ইসলাম জানান, সেচ প্রকল্প দখলের বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া করা হবে।