মেধাভিত্তিক ‘জনপ্রশাসন’ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি কাগজে-কলমেই !
দীর্ঘদিনের অচলায়তন ভাঙা বড় চ্যালেঞ্জ বলছে সরকারি দল
Printed Edition
ক্ষমতাসীন দল বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে ‘মেধাভিত্তিক’ জনপ্রশাসন বা মেরিটোক্রেসি প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি উল্লেখ ছিল। সরকার গঠনের পর মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র গড়ে তোলার ব্যাপারে সিনিয়র নেতাদের পক্ষ থেকে বারবার গুরুত্বারোপও করা হয়েছিল। কিন্তু ছয় মাস পার হলেও দলীয় আনুগত্য ও রাজনীতি ঘনিষ্ঠ প্রশাসনিক কাঠামোর সংস্কৃতির বাইরে গিয়ে মেধাকে প্রাধান্য দিয়ে প্রশাসন সাজাতে দেখা যাচ্ছে না। এমন মন্তব্য সংশ্লিষ্টদের। তারা বলছেন, অতীতের দলীয়করণের সংস্কৃতির বন্ধ্যাত্ব থেকে বর্তমান সরকারও বের হতে পারছেন না। অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ পদেই দলীয় লোকদের প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। যারা মেধাবী ও সৎ, তাদের ওএসডি করে কর্মহীন করে রাখা হচ্ছে। অন্য দিকে দীর্ঘদিনের অচলায়তন ভাঙা বড় চ্যালেঞ্জ বলছে সরকারি দল বিএনপি।
সূত্র মতে, বিএনপির ৩১ দফার ১০ নম্বর দফায় বলা হয়, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ পরিষেবা, জনপ্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে যোগ্য, অভিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি ‘প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন’ গঠন করে প্রশাসন সংস্কার ও পুনর্গঠন করা হবে। মেধা, সততা, সৃজনশীলতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণ বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে যোগ্যতার একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে বিবেচনা করা হবে। নির্বাচনী ইশতেহারেও রাষ্ট্র পরিচালনায় দলীয় প্রভাবমুক্ত এবং সম্পূর্ণ মেধাভিত্তিক একটি প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা হবে বলে জানানো হয়েছিল। ইশতেহারে মেধানির্ভর জনপ্রশাসন সম্পর্কে প্রধান যে বিষয়গুলো উল্লেখ ছিল তা হলো, বেসামরিক ও সামরিক প্রশাসনে নিয়োগ, বদলি এবং পদোন্নতির ক্ষেত্রে দলীয় বিবেচনা বাদ দিয়ে মেধা, সততা, সৃজনশীলতা, দক্ষতা, অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণকে একমাত্র মাপকাঠি হিসেবে গণ্য করা হবে। গণমুখী, জনকল্যাণমূলক ও মেধানির্ভর প্রশাসন গড়ে তোলার লক্ষ্যে যোগ্য, অভিজ্ঞ ও প্রাজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি ‘প্রশাসনিক সংস্কার কমিশন’ গঠন করা হবে। জনপ্রশাসনকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত পেশাদার বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলা হবে। কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে অন্যায়ভাবে বা রাজনৈতিক কারণে সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করা হবে না। বর্তমান সময়ের চাহিদা এবং সংবিধানের আলোকে একটি যুগোপযোগী ‘সিভিল সার্ভিস অ্যাক্ট’ বা বেসামরিক সেবা আইন প্রণয়ন করা হবে।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিএনপি সরকার গঠন করলেও নির্বাচনী ইশতেহার মেনে জনপ্রশাসন সাজাতে পারছে না। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, দীর্ঘদিনের দলীয় প্রভাবযুক্ত প্রশাসনকে আলাদা করা সম্ভব হচ্ছে না। আবার একাধিক বড় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব একজন মন্ত্রীর ওপর থাকার কারণে প্রশাসনে কার্যকর নজরদারি সম্ভব হচ্ছে না। অন্য দিকে ছোট মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা দায়িত্বে থাকায় সমন্বয়ের অভাব হচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে তারা বলছেন, ধর্ম, মুক্তিযুদ্ধ, পার্বত্য চট্টগ্রাম, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ, বস্ত্র ও পাট, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, সংস্কৃতি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান, তথ্য ও সম্প্রচারের মতো মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা দায়িত্ব পেয়েছেন। অতীতে এগুলোতে শুধু একজন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব পালন করেছেন। এবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন দু’জন। এখানেও উপদেষ্টা আছেন। ছোট মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, একাধিক প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টা দায়িত্বে থাকায় নিজেদের মধ্যে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ আস্তে আস্তে সামনে আসছে। ফলে জনপ্রশাসনকে সাজানোর কাজটি কঠিন হয়ে উঠছে।
সাবেক সচিব, জনপ্রশাসন সংস্কার ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া বলেন, বিএনপির ৩১ দফা ও নির্বাচনী ইশতেহারের সাথে সরকারের কাঠামোর মিল পাওয়া যাচ্ছে না। মন্ত্রীদের মুখে সংস্কারের কথাও শোনা যায় না। জনপ্রশাসনকে দলীয়করণ মুক্ত রাখার যে ঘোষণা ছিল, সেটিও সেভাবে দৃশ্যমান নয়। ফলে অতীতে যেভাবে প্রশাসনকে দলীয়করণ করা হয়েছিল, যোগ্য ও মেধাবী কর্মকর্তাদের নানাভাবে ট্যাগ দিয়ে বাদ দেয়া হয়েছিল বা ক্ষমতাহীন রাখা হয়েছিল, এখনো সেই চর্চাই হচ্ছে বলে মনে হচ্ছে।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার নয়া দিগন্তকে বলেন, বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে প্রশাসনকে দলীয়মুক্ত রাখার বিষয়ে অঙ্গীকার করেছে। কিন্তু বাস্তবে তারা পুরনো পথেই হাঁটছে। এরই মধ্যে অভিযোগ উঠেছে যে, তারাও দলীয় সম্পৃক্ত লোকদের প্রশাসনে বসাচ্ছে। যারা যোগ্য ও মেধাবী তাদের বাদ দিচ্ছে। ফলে প্রশাসনে অনেকটা হ-য-ব-র-ল অবস্থা বিরাজ করছে। তিনি বলেন, প্রশাসনে জবাবজিহিতা নিশ্চিৎ করতে হলে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে।
সূত্র মতে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন নির্বাচিত সরকারের মন্ত্রিসভায় সর্বোচ্চ ২৩ জন মন্ত্রী এবং ১২ জন প্রতিমন্ত্রী রাখার সুপারিশ করেছিল। পাশাপাশি বিদ্যমান মন্ত্রণালয়ের সংখ্যা ৪৩ থেকে ২৫-এ নামিয়ে আনার সুপারিশ করা হয়। কমিশনের সুপারিশ ছিল, মন্ত্রণালয়গুলো থাকবে পাঁচটি গুচ্ছে। সংস্কার কমিশনের সুপারিশে প্রধানমন্ত্রীর হাতে থাকা মন্ত্রণালয়গুলোর নামও নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়। যদিও বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীসহ ৫১ জন মন্ত্রী রয়েছেন। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় উপদেষ্টা ১০ জন এবং বিশেষ সহকারী তিনজন। মোট ৬৪ জন। জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের একাধিক সদস্য বলেন, কমিশন চিন্তাভাবনা করেই ৩৫ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীর প্রস্তাব রেখেছিল। দেশের আর্থিক বাস্তবতা বিবেচনায় মন্ত্রীর সংখ্যা যৌক্তিক পর্যায়ে রাখা উচিত। কারণ, ডিজিটাল যুগে একজন ব্যক্তি আগের তুলনায় অনেক বেশি কাজ করতে পারেন।
সূত্র জানিয়েছে, প্রশাসন পুনর্বিন্যাসের অংশ হিসেবে সরকারের ছয় মাসের মাথায়ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিল, নতুন করে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগসহ বিভিন্ন দফতরে কর্মকর্তাদের রদবদল অব্যাহত রয়েছে। জানা গেছে, বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিব পদে রদবদলের জন্য প্রাথমিকভাবে যে কর্মকর্তাদের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে সেখানে মেধাবীদের বাদ রাখা হয়েছে। যারা অতীতে কোনো না কোনোভাবে সরকার সমর্থিত দলের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন, তাদের অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। আবার অনেক জায়গায় পর্যাপ্ত অভিজ্ঞতা না থাকার পরও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পদায়ন করায় প্রশাসন প্রত্যাশিত গতিতে এগোচ্ছে না।
পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, মেধাভিত্তিক প্রশাসন বলতে বোঝায়, যোগ্য মানুষকে সঠিক জায়গায় দেয়া এবং তার কাজ করার স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। শুধু যোগ্য লোক নিয়োগ দিলেই হবে না, নিয়ম-কানুন, সমন্বিত কাজের পরিবেশ এবং পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন, সবকিছু নিশ্চিত করলেই প্রকৃত অর্থে মেরিটোক্রেসি প্রতিষ্ঠা পাবে। এ জায়গায় এখনো শক্তিশালী অগ্রগতি চোখে পড়ছে না। তিনি আরো বলেন, বিভিন্ন সেক্টরে দলীয় আনুগত্য এতটাই প্রভাবশালী যে পেশাদারত্ব অনেক সময় চাপা পড়ে যাচ্ছে। তবে স্পষ্টভাবে বলা যায়, বাংলাদেশকে এগোতে হলে এ জায়গাগুলো অতিক্রম করতেই হবে। দলীয় আনুগত্য নয়, পেশাদারত্বই হতে হবে মূল মানদণ্ড।
মন্ত্রিপরিষদের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জ্যেষ্ঠ সচিব ও সচিব পদমর্যাদায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দফতরে যারা কর্মরত রয়েছেন, তাদের মধ্যে ২০ সিনিয়র সচিব ও সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে কর্মরত রয়েছেন। এদের অধিকাংশের বিরুদ্ধে দলীয় সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সম্প্রতি ওএসডি হওয়া এক সচিব এ প্রতিবেদককে বলেন, দলীয় সম্পৃক্ততা না থাকায় আমাকে ওএসডি করা হয়েছে। যদিও আমার এতে কোনো ক্ষোভ নেই। কারণ আমি চাকরি জীবনে কখনোই দলীয় লেজুড়ভিত্তিকে প্রাধান্য দেয়নি। যেটি দেশের জন্য, জনগণের জন্য মঙ্গল, সেটিই করার চেষ্টা করেছি। তিনি বলেন, দেশটাকে রক্ষা করতে হলে মেধাবী ও দক্ষ পেশাদার কর্মকর্তাদের খুঁজে বের করতে হবে। অপেশাদার বা দলের সাথে সম্পৃক্ত এমন লোকদের দিয়ে দেশের উন্নয়ন অসম্ভব।
সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের (বিপিএটিসি) সাবেক রেক্টর এ কে এম আবদুল আউয়াল মজুমদার বলেন, মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র গড়ে তোলার এ পুরো প্রক্রিয়া এক দিনে পরিবর্তনযোগ্য নয়, বরং ধীরে ধীরে সময় নিয়ে গড়ে তোলার একটি প্রশাসনিক বাস্তবতা।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, বাংলাদেশে আমলাতন্ত্রের কাঠামোগত সঙ্কট দীর্ঘদিনের। স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সরকার জনপ্রশাসন সংস্কারের প্রতিশ্রুতি ও কমিশন গঠন করলেও কার্যকর পরিবর্তন আসেনি। ১৯৭২ সালের সংস্কার প্রস্তাবে জনমুখী প্রশাসনের কথা থাকলেও সে সময়ের আমলাদের প্রতিরোধ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের সীমাবদ্ধতায় তা বাস্তবায়ন হয়নি। পরে জিয়াউর রহমানের সময়ে অনেক ইতিবাচক পরিবর্তন এলেও তা পরবর্তীকালে স্থায়ী হয়নি। পরবর্তী শাসকের আমলে পুরনো ধারা ফিরে আসে। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী সরকারের দীর্ঘ কর্তৃত্ববাদী শাসন টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা রাখে প্রশাসন, এমন অভিযোগ এসেছে বিভিন্ন মহল থেকেই। ফলে জনপ্রশাসনে দক্ষতা ও সেবামুখী সংস্কৃতির ঘাটতি তৈরি হয় বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. সাদিক হাসান বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে বিভিন্ন সরকার বারবার আমলাতান্ত্রিক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে; কিন্তু সেগুলোর বেশির ভাগই কার্যকর হয়নি। এর প্রধান কারণ বাংলাদেশের আমলাতন্ত্র নিজস্ব একটি শক্তিশালী কাঠামো ও স্বার্থ নিয়ে পরিচালিত হয়। এ কাঠামো স্বাভাবিকভাবেই এমন কোনো উদ্যোগের বিরোধিতা করে, যা তাদের বিদ্যমান ক্ষমতা, প্রভাব বা সুবিধা কমিয়ে দিতে পারে।
জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়বিষয়ক উপদেষ্টা মো: ইসমাইল জবিউল্লাহ নয়া দিগন্তকে বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আমলাতন্ত্রকে পুরোপুরি রাজনৈতিকীকরণ করা হয়েছিল। সেখানে মেধাকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে, যার প্রভাব আমরা স্পষ্টভাবে দেখেছি। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তা পরিবর্তনের চেষ্টা করা হয়েছিল, তবে দীর্ঘদিনের অচলায়তন ভাঙা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। মেরিটোক্রেসিকে প্রাধান্য দেয়া নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা বিষয়ে তিনি বলেন, ‘পোস্টিং, প্রমোশন বা নিয়োগ, কোনোটাই যেন প্রভাবান্বিত না হয়, সেটাই আমাদের মূল পরিকল্পনা। জনপ্রশাসন উপদেষ্টা আরো বলেন, আগের সময়ে প্রশাসনে যে অবস্থা ছিল, তা মূলত দলীয়করণ, সবকিছুই রাজনৈতিক প্রভাবের মধ্যে ছিল। সেখান থেকে বেরিয়ে এসে নতুন করে একটি ভারসাম্যপূর্ণ প্রশাসন গড়ে তোলা সহজ নয়। তার পরও আমাদের এগোতে হচ্ছে।
জানতে চাইলে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার নয়া দিগন্তকে বলেন, গণভোটের রায় ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন না করা, প্রশাসনে দলীয়করণ, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানি সঙ্কট মোকাবেলায় ব্যর্থতার মধ্য দিয়ে সরকার জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের বড় বড় আমলা, সচিবরা এখন প্রমোশন পাচ্ছেন, বিভিন্ন জায়গায় নিয়োগ পাচ্ছেন। তাতে বোঝা যাচ্ছে একদলীয় শাসন এবং আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে পুনর্বাসনের একটা ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান ও বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতি দেয়া হচ্ছে এবং বিএনপি-মনোভাবাপন্ন নন এমন সৎ কর্মকর্তাদের বদলি ও ডিমোশন দেয়া হচ্ছে।