আদানি চুক্তির ফাঁদে বছরে বাড়তি বিদ্যুৎ খরচ ৬ হাজার কোটি টাকা
২৫ বছরে সোয়া লাখ কোটি টাকা অতিরিক্ত ব্যয়ের শঙ্কা
Printed Edition
ভারতের আদানি পাওয়ারের সাথে বাংলাদেশের ২৫ বছর মেয়াদি বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি এখন বড় ধরনের আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে। জাতীয় পর্যালোচনা কমিটির অনুসন্ধানে চুক্তির মূল্য নির্ধারণ, ঝুঁকি বণ্টন এবং বিভিন্ন শর্তে বাংলাদেশের স্বার্থের তুলনায় আদানি পাওয়ারকে বেশি সুবিধা দেয়ার অভিযোগ উঠেছে। কমিটির হিসাবে, অন্যান্য উৎস থেকে বিদ্যুৎ কেনার তুলনায় আদানির বিদ্যুতের দাম প্রতি ইউনিটে প্রায় ৪ থেকে ৫ সেন্ট বেশি। এর ফলে বাংলাদেশকে বছরে অতিরিক্ত ৪০০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পরিশোধ করতে হচ্ছে। বর্তমান বিনিময় হারে যার পরিমাণ আনুমানিক পাঁচ থেকে ছয় হাজার কোটি টাকা। আর চুক্তি বহাল থাকলে ২৫ বছরে বাড়তি ব্যয় করতে হবে সোয়া লাখ কোটি টাকা।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শুধু বর্তমান ব্যয়ের হিসাবেই বিষয়টি শেষ নয়। জাতীয় পর্যালোচনা কমিটি বলছে, চুক্তির বর্তমান কাঠামো বহাল থাকলে আগামী ২৫ বছর ধরে এই অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে হবে। অর্থাৎ দীর্ঘমেয়াদে বাড়তি ব্যয়ের অঙ্ক প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে বৈদেশিক মুদ্রা মজুদের ওপর। পাশাপাশি বাজেট ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকি এবং শিল্পের উৎপাদন ব্যয়েরও চাপ বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
২০১৭ সালে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) আদানি পাওয়ারের সাথে এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি করে। গোড্ডা কেন্দ্রের দু’টি ইউনিটের প্রতিটির উৎপাদনক্ষমতা ৮০০ মেগাওয়াট। ২০২৩ সালে বাণিজ্যিকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হয়। চুক্তির মেয়াদ ২৫ বছর। চুক্তিটির অন্যতম বিতর্কিত বিষয় হলো এর মূল্য কাঠামো। ২০২৪ অর্থবছরে আদানির বিদ্যুতের জন্য বাংলাদেশ গড়ে প্রতি ইউনিট ১৪.৮৭ টাকা পরিশোধ করেছিল। একই সময়ে ভারতের অন্যান্য বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারীদের কাছ থেকে আমদানি করা বিদ্যুতের গড় মূল্য ছিল প্রায় ৯.৫৭ টাকা প্রতি ইউনিট। অর্থাৎ ইউনিটপ্রতি ব্যবধান ছিল প্রায় ৫.৩০ টাকা। জাতীয় পর্যালোচনা কমিটির হিসাবে, আদানির বিদ্যুতের দাম নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর তুলনায় প্রায় ৩৯.৭ শতাংশ বেশি। কমিটি আরো বলেছে, চুক্তির কিছু নির্দিষ্ট শর্তই এই মূল্যবৈষম্য সৃষ্টি করেছে। এখানে শুধু বিদ্যুতের ইউনিট দাম দেখলে পুরো চিত্র পাওয়া যায় না। কারণ চুক্তিতে ক্যাপাসিটি চার্জ রয়েছে।
চুক্তির বিতর্কিত দিক?
আদানি পাওয়ারের সাথে চুক্তিটি আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে করা হয়েছিল। এটি সাধারণ প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের পরিবর্তে বিশেষ আইনি কাঠামোর আওতায় করা হয়েছিল বলে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে বিদ্যুৎ খাতের বিভিন্ন চুক্তি পর্যালোচনার জন্য জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি আদানি চুক্তিতেও একাধিক অনিয়ম ও অসঙ্গতি খুঁজে পেয়েছে। জাতীয় কমিটির অনুসন্ধান ও সুপারিশের ভিত্তিতে এখন বিষয়গুলো যাচাই-বাছাইয়ের পর্যায়ে রয়েছে। এ কারণে চুক্তির প্রতিটি ধারা, মূল্য নির্ধারণের সূত্র এবং সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া প্রকাশ্যে এনে স্বাধীনভাবে যাচাই করা জরুরি।
বিদ্যুৎ না নিলেও যে বিল দিতে হয়
ক্যাপাসিটি চার্জ হলো এমন একটি নির্দিষ্ট অর্থ, যা বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রস্তুত ও সক্ষম রাখার বিনিময়ে দিতে হয়- কেন্দ্র থেকে বাস্তবে কত বিদ্যুৎ নেয়া হচ্ছে, তার সাথে এর সরাসরি সম্পর্ক নেই। ২০২২ সালের হিসাব অনুযায়ী, আদানি কেন্দ্রের ক্যাপাসিটি চার্জ ছিল প্রতি ইউনিটে প্রায় ৩.২৬ টাকা, যেখানে বাংলাদেশের অনুরূপ কেন্দ্রগুলোর ক্ষেত্রে তা ছিল প্রায় ২.৮৩ টাকা। পরবর্তীকালে জাতীয় পর্যালোচনা কমিটির হিসাব আরো উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে। ২৫ বছরের মেয়াদে, ভবিষ্যতে অতিরিক্ত মূল্যস্ফীতি বা অন্যান্য সমন্বয় না ধরেও শুধু ফিক্সড ক্যাপাসিটি চার্জের পরিমাণ ১০ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে। অর্থাৎ ২৫ বছরের পুরো চুক্তিকে কেবল বিদ্যুতের দাম দিয়ে বিচার করলে ভুল হবে। ক্যাপাসিটি চার্জ, জ্বালানি ব্যয়, কয়লা পরিবহন, কর এবং অন্যান্য চুক্তির মেয়াদ, সবকিছু মিলিয়েই প্রকৃত আর্থিক দায় নির্ধারিত হবে। ২০২৫ সালের নভেম্বরেও বিপিডিবিকে প্রতি মাসে আনুমানিক ২৫-২৮ মিলিয়ন ডলার ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হচ্ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তারা জানিয়েছেন, আদানি চুক্তি নিয়ে সাম্প্রতিক বিরোধের আরেকটি বড় জায়গা কয়লার দাম। চুক্তি অনুযায়ী কয়লার দাম হিসাব করে আদানি পাওয়ার বিল দিচ্ছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড বা পিডিবি কিছু ক্ষেত্রে বাজারদর বিবেচনা করে বিল পরিশোধ করছে। এতে দুই পক্ষের হিসাবের মধ্যে বড় পার্থক্য তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি আদানি পাওয়ারের দাবিকৃত বকেয়া এবং পিডিবির হিসাবের মধ্যে প্রায় ৪৬ কোটি ডলারের পার্থক্যের কথা প্রকাশ্যে এসেছে। বিষয়টি শুধু হিসাবের পার্থক্য নয়; এর সাথে জড়িয়ে আছে চুক্তির শর্ত কিভাবে ব্যাখ্যা করা হবে এবং কোন দামে কয়লার মূল্য গ্রহণযোগ্য হবে-সেই প্রশ্ন। ফলে বিদ্যুৎ বিল নিয়ে বাংলাদেশ ও আদানি পাওয়ারের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে টানাপড়েন চলছে।
সূত্র জানায়, চুক্তির আর্থিক চাপ সবচেয়ে স্পষ্ট হয়ে ওঠে বকেয়া বিলের ঘটনায়। ২০২৪ সালের শেষ দিকে আদানি বাংলাদেশ সরকারের কাছে ৮০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি পাওনা দাবি করেছিল। এক পর্যায়ে আদানির পক্ষ থেকে বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলার বলা হয়। ২০২৫ সালের মে মাসে আদানি পাওয়ার জানায়, মোট প্রায় দুই বিলিয়ন ডলারের বিলের বিপরীতে বাংলাদেশ প্রায় ১.২ বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করেছে এবং তখনো প্রায় ৯০০ মিলিয়ন ডলার পাওনা ছিল। তবে বকেয়ার অঙ্ক নিয়ে দুই পক্ষের হিসাব সবসময় এক ছিল না। ২০২৫ সালের নভেম্বরের এক পর্যায়ে আদানি প্রায় ৪৯৬ মিলিয়ন ডলার দীর্ঘদিনের বকেয়া দাবি করে; বিপিডিবি নিজে স্বীকার করেছিল প্রায় ২৬২ মিলিয়ন ডলার। এই পার্থক্যটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ বিরোধটি শুধু ‘বাংলাদেশ কত টাকা দেয়নি’ এত সরল নয়। কোন বিল চুক্তি অনুযায়ী বৈধ, কয়লার মূল্য কিভাবে হিসাব হবে, কর-সুবিধা সমন্বয় হয়েছে কি না এবং সারচার্জ কত হবে- এসব প্রশ্নও বকেয়ার অঙ্ক নির্ধারণ করে।
চুক্তিতে বিল পরিশোধে দেরি হলে বিলম্বিত সারচাজর্জের বিধান রয়েছে। ২০২৫ সালের তথ্য অনুযায়ী, এই সারচার্জ ছিল মাসে ২ শতাংশ, যা কার্যকর বার্ষিক হারে প্রায় ২৭ শতাংশের সমান। এটি বকেয়া অর্থকে আরো ব্যয়বহুল করে তোলে। এমনকি ২০২৫ সালের শুরুতে আদানির পক্ষ থেকে ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রায় ৫০ মিলিয়ন ডলার সারচার্জ আদায়ের হিসাবের কথা প্রকাশ্যে আসে। ফলে বাংলাদেশের জন্য সমস্যাটি দ্বিমুখী-একদিকে উচ্চমূল্যের বিদ্যুৎ, অন্যদিকে সময়মতো পরিশোধ করতে না পারলে অতিরিক্ত আর্থিক জরিমানা।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, দেনা ও মূল্য নিয়ে বিরোধ শেষ পর্যন্ত আন্তর্জাতিক সালিশের দিকে গড়িয়েছে। ২০২৫ সালের নভেম্বরে আদানি পাওয়ার আন্তর্জাতিক সালিশ প্রক্রিয়ায় যাওয়ার উদ্যোগ নেয়। চুক্তিতে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সিঙ্গাপুরভিত্তিক সালিশের ব্যবস্থা রয়েছে। বাংলাদেশের হাইকোর্ট অবশ্য তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সালিশ কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছিল। এখানেই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কৌশলগত প্রশ্ন: চুক্তি বাতিল, পুনঃআলোচনা নাকি বিদ্যমান শর্তে চালিয়ে যাওয়া-কোন পথ রাষ্ট্রের জন্য কম ব্যয়বহুল? সরকারের আইনি পরামর্শদাতারা দুর্নীতি বা প্রতারণার প্রমাণের ভিত্তিতে চুক্তি বাতিলের সম্ভাবনাও বিবেচনা করেছেন। তবে একই সাথে আইনজীবীরা সতর্ক করেছেন, বাংলাদেশ যদি দীর্ঘ সময় চুক্তি কার্যকর রাখে এবং বিদ্যুৎ গ্রহণ করতে থাকে, পরে চুক্তিটিকে শুরু থেকেই অবৈধ দাবি করলে আন্তর্জাতিক সালিশে সেই অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চুক্তির অন্যতম আলোচিত বিষয় হলো ‘টেক-অর-পে’ ব্যবস্থা। এই শর্ত অনুযায়ী, নির্দিষ্ট পরিমাণ বিদ্যুৎ না নিলেও চুক্তিবদ্ধ ক্ষমতার জন্য বাংলাদেশকে অর্থ পরিশোধ করতে হয়। অর্থাৎ চাহিদা কম থাকলে কিংবা বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী বিদ্যুৎ নেয়া না গেলেও নির্দিষ্ট কিছু ব্যয় বহনের দায় থেকে বাংলাদেশ সহজে বের হতে পারে না। জাতীয় কমিটির পর্যালোচনায় এটিকে বাংলাদেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ শর্ত হিসেবে দেখা হয়েছে। এর সাথে রয়েছে ক্যাপাসিটি চার্জ। একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে যতটা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে, তার ওপর শুধু জ্বালানি খরচ নির্ভর করে না; কেন্দ্রের সক্ষমতা ধরে রাখার জন্যও নির্দিষ্ট অর্থ পরিশোধ করতে হয়। ফলে কেন্দ্রের উৎপাদন কম হলেও ব্যয়ের বড় অংশ অব্যাহত থাকতে পারে। এ ধরনের কাঠামো বিদ্যুতের প্রকৃত ইউনিট মূল্যকে আরো বাড়িয়ে দিতে পারে।
এদিকে, বকেয়া অর্থ নিয়ে বিরোধের মধ্যেই আদানি পাওয়ার বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ কমিয়েছে। গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, একপর্যায়ে কেন্দ্রটির উৎপাদন অর্ধেকের নিচে নেমে আসে। এতে বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় অতিরিক্ত চাপ তৈরি হয়। অন্যদিকে বকেয়া বিল পরিশোধের জন্য বাংলাদেশের ওপর চাপও বাড়তে থাকে। এই পরিস্থিতি দেখিয়ে দেয়, একটি দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ চুক্তিতে শুধু বিদ্যুতের দাম নয়, সরবরাহের নিশ্চয়তা, অর্থ পরিশোধের শর্ত, জ্বালানি মূল্যের ঝুঁকি এবং বিরোধ নিষ্পত্তির পদ্ধতিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আদানি চুক্তি নিয়ে সরকারের সামনে এখন মূলত তিনটি প্রশ্ন। প্রথমত, চুক্তির কোন কোন ধারা বাংলাদেশের জন্য আর্থিকভাবে ক্ষতিকর এবং সেগুলো সংশোধনের সুযোগ আছে কি না। দ্বিতীয়ত, চুক্তি বাতিল বা পরিবর্তন করা হলে আন্তর্জাতিক সালিশি কিংবা আইনি প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ কী ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তৃতীয়ত, চুক্তি বহাল রাখার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে বাড়তি ব্যয় কিভাবে কমানো যায়। বিদ্যুৎমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু গত এপ্রিল মাসে সংসদে জানিয়েছেন, আদানি চুক্তি সংশোধন কিংবা আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার বিষয়টি সরকার সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে। অর্থাৎ সরকারও চুক্তিটির বর্তমান কাঠামো নিয়ে প্রশ্নের মুখে রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ উৎপাদন নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি প্রয়োজন হতে পারে। কিন্তু সেই চুক্তি যদি বাজারদরের তুলনায় অতিরিক্ত ব্যয় সৃষ্টি করে, তাহলে তা শেষ পর্যন্ত রাষ্ট্রের অর্থনীতিতে চাপ তৈরি করে। বছরে ৪০০ থেকে ৫০০ মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত ব্যয়ের অর্থ হলো প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা একটি নির্দিষ্ট চুক্তির পেছনে ব্যয় হচ্ছে। জাতীয় কমিটিও বলেছে, দীর্ঘমেয়াদে এ ব্যয় দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ, বাজেট ব্যবস্থাপনা এবং উন্নয়ন ব্যয়ের সক্ষমতার ওপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই আদানি চুক্তি নিয়ে এখন সবচেয়ে জরুরি হলো আবেগ নয়, তথ্যভিত্তিক ও স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত। চুক্তির সব ধারা জনসমক্ষে প্রকাশ, স্বাধীন অডিট, আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞের মতামত এবং বাংলাদেশের আর্থিক স্বার্থের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন প্রয়োজন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ কেনার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ও স্বচ্ছ মূল্য নির্ধারণ নিশ্চিত করতে হবে। কারণ বিদ্যুৎ শুধু একটি পণ্য নয়- এর ব্যয় সরাসরি দেশের শিল্প, কৃষি, ব্যবসা ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার সাথে যুক্ত। ফলে একটি ২৫ বছরের চুক্তির বাড়তি কয়েক হাজার কোটি টাকার বোঝা শেষ পর্যন্ত শুধু সরকারের নয়, বহন করতে হয় পুরো দেশের মানুষকেই।