নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কবর রচনা হয়েছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী
‘মক্কা প্যাক্ট’ এ উদ্বেগের কোনো কারণ নেই
Printed Edition
সংসদ প্রতিবেদক
বর্তমান সরকারের সুদৃঢ় ও আত্মনির্ভরশীল পররাষ্ট্রনীতির বদৌলতে বাংলাদেশ বিশ্বমঞ্চে সোজা হয়ে দাঁড়িয়েছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেছেন, বিগত ১৫ বছরের দুর্বল কূটনৈতিক অবস্থান থেকে বেরিয়ে এসে দেশের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কবর রচনা করা হয়েছে। সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সমন্বয়ে গঠিত ‘মক্কা প্যাক্ট’ নিয়ে অন্য কারও উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
গতকাল জাতীয় সংসদে বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাব দেয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বের সুবাদে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজস্ব মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে। এই দিকনির্দেশনামূলক নেতৃত্বের ওপর ভর করেই দেশের পররাষ্ট্রনীতিকে আরো সুসংগঠিতভাবে এগিয়ে নেয়া হবে।
বিদেশে অবস্থানরত দূতাবাসগুলোর কর্মদক্ষতা ও নতুন শ্রমবাজার সৃষ্টিসংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্বীকার করেন, কূটনৈতিক মিশনগুলোর জন্য বর্তমানে কোনো বিশেষ প্রণোদনা বা ‘রিওয়ার্ড ব্যবস্থা’ নেই, যা পুনর্মূল্যায়নের দাবি রাখে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, বিগত ১৫ বছরের দুঃশাসনে কূটনৈতিক মিশনগুলো কার্যত সরকারের নিয়ন্ত্রণে ছিল না। সে সময় প্রবাসীদের সেবা দেওয়া কিংবা দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষায় পূর্ববর্তী সরকারের কোনো কার্যকর উদ্যোগ ছিল না। বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর সেই স্থবির অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে।
দূতাবাসগুলোর জবাবদিহিতা ও দক্ষতা বাড়াতে ‘কী পারফরম্যান্স ইন্ডিকেটর’ (কেপিআই) পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, আগামীতে কেপিআই মূল্যায়নের ভিত্তিতেই দূতাবাসগুলোর কাজের মান ও গ্রেডিং নির্ধারিত হবে। এছাড়া আগামী বাজেটে প্রতিটি দূতাবাসের সাফল্য ও ব্যর্থতার বিস্তারিত তথ্য সংসদে উপস্থাপন করা হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বর্তমান বাজেট অপ্রতুল উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে প্রয়োজনীয় নীতিগত সংস্কার ও বাজেট বরাদ্দের মাধ্যমে বৈদেশিক কূটনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা হবে।
‘মক্কা প্যাক্ট’ নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই
সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সমন্বয়ে গঠিত ‘মক্কা প্যাক্ট’ নিয়ে অন্য কারও উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই বলে মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্যাক্টটিতে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার সুযোগ সম্পর্কে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘চুক্তিটি তিনটি দেশের মধ্যে হয়েছে এবং বাংলাদেশ বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখছে। তবে এতে যোগদানের বিষয়টি সদস্য দেশগুলোর আগ্রহের ওপর নির্ভর করে। তারা বাংলাদেশ প্রস্তাব দিলে আমরা ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করব।’
তিনি স্পষ্ট করেন, এখনই এই জোটের লাভ-ক্ষতি নিয়ে আলোচনার সময় আসেনি। তবে প্যাক্টটির তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি যদি বিস্তৃত হয়, তবে তা হবে মুসলিম সমাজের আত্মরক্ষার একটি ব্যবস্থা এবং আমাদের মুসলিম পরিবারের অভ্যন্তরীণ বিষয়। তাই এটি নিয়ে বাইরের কারো উদ্বেগের অবকাশ নেই।
জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে স্বজনপ্রীতির সুযোগ নেই
জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি পদে থেকে বিশ্বমঞ্চে ১৯৩টি দেশের প্রতিনিধি হিসেবে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করতে হয় বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম আরমানের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জাতীয় সংসদের স্পিকার যেভাবে দলমত নির্বিশেষে সংসদ পরিচালনা করেন, সাধারণ পরিষদের সভাপতিকেও ঠিক তেমনি নিরপেক্ষ থাকতে হয়। ফলে এই পদে থেকে নিজ দেশের জন্য বিশেষ কোনো আর্থিক সুবিধা বা পৃথক তহবিল আনার সুযোগ নেই।
তিনি বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের এই সাফল্যকে দেশের কূটনৈতিক সক্ষমতা ও সুনামের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রতি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আস্থার প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেন।