তাপস-নানকের নির্দেশে মোহাম্মদপুরে নারকীয়তা

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিচার / মানবতাবিরোধী অপরাধ

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

  • ২৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিলেন ট্রাইব্যুনাল
  • ফারহান ফাইয়াজসহ ৯ জনকে হত্যার রোমহর্ষক বর্ণনা
  • ২৪ আসামি পলাতক, সাক্ষী করা হয়েছে ৫০ জনকে

জুলাই গণ অভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডি এলাকায় ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে ছাত্র-জনতাকে নির্বিচারে হত্যার এক ভয়াবহ নীলনকশার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। গত ১৮ ও ১৯ জুলাই মারণাস্ত্রের গুলিতে শিক্ষার্থী ফারহান ফাইয়াজসহ ৯ জনকে হত্যার দায়ে সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক ও সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসসহ ২৮ জনের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়েছে।

গতকাল রোববার বিচারপতি মো: গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন। বেঞ্চের অপর দুই সদস্য হলেন- বিচারপতি মো: শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো: মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

আদালতের কার্যক্রম ও প্রসিকিউশনের বক্তব্য আদালতে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ উপস্থাপন করেন চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। তিনি জানান, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে ধানমন্ডি-২৭ ও মোহাম্মদপুর এলাকায় আসামিদের প্রত্যক্ষ প্ররোচনা ও নির্দেশে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং সশস্ত্র ক্যাডাররা নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালায়। এতে নিরপরাধ শিক্ষার্থী ফারহান ফাইয়াজসহ ৯ জন প্রাণ হারান এবং অসংখ্য মানুষ গুরুতর আহত হন। প্রসিকিউশন এই মামলায় মোট ৫০ জনকে সাক্ষী হিসেবে তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করেছে।

আসামিদের বর্তমান অবস্থা : মামলার মোট ২৮ জন আসামির মধ্যে ২৪ জনই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন- জাহাঙ্গীর কবির নানক ও শেখ ফজলে নূর তাপস। তবে গ্রেফতার থাকা চার আসামিকে রোববার ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তাদের মধ্যে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের নেতা নাইমুর রহমান অন্যতম।

অভিযোগের ভয়াবহতা : মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, তৎকালীন মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস ও সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানকের সরাসরি উসকানিতে মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডি এলাকায় চাইনিজ রাইফেল ও শটগানের মতো মারণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল। বিশেষ করে আন্দোলনকারীদের অবস্থান শনাক্ত করতে ড্রোন ব্যবহার এবং আকাশ থেকে গুলি করতে হেলিকপ্টার ব্যবহারের মতো যুদ্ধংদেহী ষড়যন্ত্রের তথ্যও অভিযোগে উঠে এসেছে।

এ বিষয়ে ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে প্রেসব্রিফিংয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, জুলাই-আগস্টের প্রত্যেক শহীদের নিজস্ব গল্প ও মহাকাব্যিক উপাখ্যান রয়েছে। চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ২০২৪ সালে জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালীন ১৮ ও ১৯ জুলাই দেশের ইতিহাসের অন্যতম রক্তাক্ত দিন। এই দু’দিনে হত্যাকাণ্ডের অন্যতম হটস্পট ছিল মোহাম্মদপুর এলাকা। এখানে ৯ জনকে হত্যা করা হয়। আহত হন অসংখ্য মানুষ। আত্মত্যাগকারী ৯ শহীদ হলেন ফারহান ফাইয়াজ, মাহমুদুর রহমান সৈকত, রাজু আহমেদ, মাহিন, মোহাম্মদ রনি, আল শাহরিয়ার রোকন, ইসমাইল হোসেন, জসিম উদ্দীন ও জুবাইদ হোসেন ইমন। তিনি বলেন, এসব শহীদের রক্তের বিনিময়ে আজকের এই বাংলাদেশ। আমাদের অঙ্গীকার ছিল জুলাই অভ্যুত্থানের সময় যারা হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে, যারা রাজপথে সরাসরি হত্যাকাণ্ড চালানোর জন্য ভূমিকা পালন করেছে, যারা পরিকল্পনাকারী, নির্দেশদাতা বা মাস্টারমাইন্ড ছিলেন, তাদের প্রত্যেককে আমরা বিচারের মুখোমুখি করব। সেই অঙ্গীকারের ফলে আমাদের তদন্ত সংস্থা কাজ করছে। এসব অপরাধীর ব্যাপারে তারা তদন্ত প্রতিবেদন ও অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ আদালতে দাখিল করেছেন। আগামী ২৯ জানুয়ারির পর পরবর্তী কার্যক্রমের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচারকাজ শুরু হবে।

শহীদ মাহমুদুর রহমান সৈকত প্রসঙ্গে তাজুল বলেন, খুবই প্রাণবন্ত ছেলে ছিল সৈকত। ফারহান ফাইয়াজও অত্যন্ত হাস্যোজ্জ্বল ছিল। আমাদের প্রত্যেক শহীদের একটা নিজস্ব গল্প বা নিজস্ব মহাকাব্যিক উপাখ্যান রয়েছে। সৈকতের উচ্চতা ছয় ফুটের মতো ছিল। ১৯ জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালে মা-কে না জানিয়ে মোহাম্মদপুর এলাকায় আন্দোলনে গিয়েছিল ছেলেটি। চায়না রাইফেল থেকে পুলিশের একটা দল যখন গুলিবর্ষণ শুরু করে, গুলিটা তখন সরাসরি তার কপাল ভেদ করে পেছন দিয়ে বেরিয়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলে শাহাদাত বরণ করেন সৈকত। তিনি আরো বলেন, ফাইয়াজ ও সৈকতের শাহাদাতের ঘটনা ওই সময় ব্যাপক আলোচিত ও আবেগ সৃষ্টি করেছিল। ছাত্র-জনতার এ আন্দোলনকে মারাত্মকভাবে উদ্বেলিত করেছিল। এসব ঘটনা আমরা এখানে বিচারের জন্য উপস্থাপন করেছি। বাংলাদেশের মাটিতে এই নিষ্ঠুরতম হত্যাকারীদের বিচার নিশ্চিত করা হবে ইনশাআল্লাহ।

যেই তিন অভিযোগে বিচার

অভিযোগ ১ : প্রথম অভিযোগে বলা হয় ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ঢাকা মহানগরীর ধানমন্ডি-২৭ নম্বর সড়ক (পুরাতন) এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি করে মোহাম্মদ ফারহানুল ইসলাম ভূঁইয়া ওরফে ফারহান ফাইয়াজকে হত্যা এবং হত্যার উদ্দেশ্যে সাদিদ রহমান সানি ও ফাতহীন মহতাদী ত্বকীদ্বয়কে গুরুতর জখম করার অপরাধ।

আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিবরণে বলা হয়, জুলাই ২০২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে শেখ হাসিনা মারণাস্ত্র ব্যবহার করে যেকোনো মূল্যে আন্দোলন দমনের নির্দেশ দেন। শেখ হাসিনার ওই নির্দেশ তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন তাদের অধীনস্থ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে বাস্তবায়ন করেন। ওই অপরাধ সংঘটনে তৎকালীন সেতুমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ অন্য নেতারা শেখ হাসিনার নির্দেশ অনুসরণ করেন। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি দলীয় ক্যাডার বাহিনীকে সুযোগ করে দিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রের মাধ্যমে সারা দেশে এক হাজার ৪০০ এর বেশি মানুষকে হত্যা এবং ২৫ হাজারের বেশি মানুষকে গুরুতর জখম করেন। এটি ছিল আসামিদের জ্ঞাতসারে সংঘটিত একটি ব্যাপক, সুপরিকল্পিত এবং লক্ষ্যনির্ধারিত মানবতাবিরোধী অপরাধ।

আসামি শেখ ফজলে নূর তাপস ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে শেখ হাসিনাকে আন্দোলন দমনে নিয়মিত পরামর্শ ও প্ররোচনা দিতেন। এরই অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই তিনি টেলিফোনে আন্দোলনকারীদের ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেন এবং মোহাম্মদপুরসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও দলীয় ক্যাডারদের মাধ্যমে পরিচালিত হত্যাযজ্ঞ আরো তীব্র করার পরামর্শ দেন। এ ছাড়া তিনি আন্দোলনকারীদের অবস্থান শনাক্ত করতে ড্রোন ব্যবহার এবং হেলিকপ্টার থেকে মারণাস্ত্র দিয়ে গুলি করে আন্দোলন নির্মূল করার ষড়যন্ত্রমূলক পরামর্শ প্রদান করেন।

আসামি জাহাঙ্গীর কবির নানক স্থানীয় সংসদ সদস্য হিসেবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও তার সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনীকে সরাসরি নির্দেশনা ও প্ররোচনা দেন। তিনি নিয়মিতভাবে শেখ হাসিনা, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান, অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার, ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার ও এডিসি রৌশানুল হক সৈকতদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে নির্দেশনা প্রদান ও গ্রহণ করতেন। অতিরিক্ত ডিআইজি প্রলয় কুমার জোয়ারদার পুলিশ সদর দফতর থেকে বেতার বার্তার মাধ্যমে সব ইউনিটের নিয়ন্ত্রণ কক্ষকে মারণাস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেন। তৎকালীন ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান ১৭ ও ১৮ জুলাই চাইনিজ রাইফেল ব্যবহার করে নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের হত্যার নির্দেশ দেন এবং অপরাধী কর্মকর্তাদের শাস্তির বদলে পুরস্কৃত করেন। ডিএমপি যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার এবং এডিসি রৌশানুল হক সৈকত ১৮ জুলাই মোহাম্মদপুর থানায় উপস্থিত হয়ে চাইনিজ রাইফেল ব্যবহারের নির্দেশ দেন এবং থানার অস্ত্রাগার থেকে ২০০ রাউন্ড চাইনিজ রাইফেলের গুলি ও এক হাজার ৮০০ রাউন্ড শটগানের গুলি নিয়ে তা আন্দোলনকারীদের ওপর ব্যবহার করেন।

এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই দুপুর আনুমানিক ১২টা থেকে ধানমন্ডি-২৭ ও মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ এলাকায় আসামিদের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সশস্ত্র ক্যাডাররা অবস্থান নেয়। অন্য দিকে ছাত্র-জনতার ‘পূর্ণাঙ্গ অবরোধ’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনকারীরা সেখানে অবস্থান করছিলেন। বেলা আনুমানিক ২টার দিকে আসামিদের নির্দেশে ক্যাডার বাহিনী ও পুলিশ বাহিনী নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের লক্ষ্য করে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ শুরু করে। এতে বেলা ২টা ৩০ মিনিটের দিকে ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজের একাদশ শ্রেণীর ছাত্র মোহাম্মদ ফারহানুল ইসলাম ভূঁইয়া ফারহান ফাইয়াজ (১৭) বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এ ছাড়া সাদিদ রহমান সানি ও ফাতহীন মহতাদী তকীকে ধারালো অস্ত্র ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।

আসামিরা আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর ৩(২)(এ), (জি), (এইচ) এবং ৪(১), ৪(২), ৪(৩) ধারা অনুযায়ী মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করেছেন, যা ওই আইনের ২০(২) ও ২০এ ধারায় শাস্তিযোগ্য।

অভিযোগ ২: ২০২৪ সালের ১৮ জুলািই শহীদ মো: মাহিন মিয়া ও মো: রনিকে গুলি করে হত্যা এবং অসংখ্য আন্দোলনকারীকে গুরুতর জখম করার মাধ্যমে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন।

আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিবরণে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সকাল থেকে মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড, বছিলা সড়ক ও নূরজাহান রোড এলাকায় বিপ্লব কুমার সরকার এবং রৌশানুল হক সৈকতের নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী চাইনিজ রাইফেল, শটগান, কাঁদানে গ্যাস ও শব্দবোমা নিয়ে অবস্থান নেয়। পাশাপাশি জাহাঙ্গীর কবির নানকের নির্দেশে সশস্ত্র ক্যাডার বাহিনী বিকাল ৪টার দিকে ওই এলাকায় অবস্থান গ্রহণ করে। শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার ওপর আসামিদের নির্দেশে নির্বিচারে গুলিবর্ষণ করা হয়। এর ফলে রাত আনুমানিক ৯টা ৫০ মিনিটের দিকে বছিলা রোডের পদচারী সেতুর নিচে রিকশাচালক মো: মাহিন মিয়া এবং রাত আনুমানিক ১২টা ৩০ থেকে ১ টার মধ্যে নূরজাহান রোডে রিকশাচালক মো: রনি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। এ সময় অসংখ্য আন্দোলনকারী গুরুতর আহত হন। আসামিরা আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করেছেন।

অভিযোগ ৩ : ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই শহীদ আল শাহরিয়ার হোসেন ওরফে রোকনসহ ছয়জনকে গুলি করে হত্যা এবং মো: নাহিদ হাসানসহ কমপক্ষে আটজনকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুরুতর জখম করার অপরাধ।

গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন : ১. আল শাহরিয়ার হোসেন ওরফে রোকন (২৩) ময়ূর ভিলার সামনে। ২. মো: রাজু আহমেদ (২৪), বাঁশবাড়ী রোড। ৩. মাহমুদুর রহমান সৈকত (১৯), নূরজাহান রোড। ৪. মো: জসিম, বছিলা রোড। ৫. মো: ইসমাইল (১৭), আল্লাহ করিম জামে মসজিদ এলাকা। ৬. জোবায়েদ হোসেন ইমন (১২) মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ড। আসামি মোহাম্মদ ওমর ফারুক বাঁশবাড়ী রোড এলাকায় আশ্রয় নেয়া নিরস্ত্র মো: রাজু আহমেদকে ধরে এনে কাছ থেকে শটগান দিয়ে গুলি করে হত্যা করেন। ওই ঘটনায় আরো অন্তত ৯ জন আন্দোলনকারী গুরুতর আহত হন।

আসামিরা আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন, ১৯৭৩-এর ৩(২)(এ), (জি), (এইচ) এবং ৪(১), ৪(২), ৪(৩) ধারা অনুযায়ী মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটন করেছেন, যা আইনের ২০(২) ও ২০এ ধারায় শাস্তিযোগ্য।