সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে নবগঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ থেকে আমানত ফেরত নিতে এখন পর্যন্ত ৭৪ হাজার ২২১টি আবেদন জমা পড়েছে। এসব আবেদনে মোট ৩ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা উত্তোলনের আবেদন করা হয়েছে। তবে নতুন ব্যাংকটি গঠনের পর আমানতকারীদের টাকা তুলে নেয়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, বাস্তবে আবেদন ও দাবি করা অর্থের পরিমাণ তার তুলনায় অনেক কম।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আমানত উত্তোলনের আবেদন তুলনামূলক কম হওয়া নবগঠিত ব্যাংকটির প্রতি গ্রাহকদের আস্থা ও বিশ্বাসের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো: আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, তুলনামূলক কমসংখ্যক আমানতকারীর টাকা উত্তোলনের আবেদন ব্যাংকের প্রতি তাদের আস্থার বিষয়টি তুলে ধরেছে। একইসাথে আমানতকারীদের স্বার্থ সুরক্ষায় ব্যাংকটির সক্ষমতার ওপর তাদের আস্থাও এতে প্রতিফলিত হয়েছে।
ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম দিনে ১৮ হাজার ৪৬টি আবেদনের বিপরীতে ১ হাজার ৩২৯ কোটি, দ্বিতীয় দিনে ১৯ হাজার ৬১৩টি আবেদনের বিপরীতে ১ হাজার ১৬ কোটি, এরপর যথাক্রমে ২১ হাজার ৮৬টি আবেদনের বিপরীতে ৯২৩ কোটি এবং ১৫ হাজার ৪৭৬টি আবেদনের বিপরীতে ৬৫৭ কোটি টাকা উত্তোলনের আবেদন করা হয়েছে।
মো: আবেদুর রহমান সিকদার বলেন, যেসব আমানতকারী তাদের অর্থ ব্যাংকে রেখে দেবেন, তারা তাদের নিজ নিজ চুক্তিতে নির্ধারিত হারে মুনাফা পাবেন।
তিনি বলেন, ব্যাংকের সার্বিক কার্যক্রম স্বাভাবিক হলে প্রচলিত নিয়ম ও বিদ্যমান বিধিবিধান অনুযায়ী আমানতকারীরা মুনাফাসহ যেকোনো পরিমাণ অর্থ জমা ও উত্তোলন করতে পারবেন।
এর আগে, গত ৩১ আগস্ট বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংক রেজল্যুশন বিভাগ আমানতকারীদের অর্থ উত্তোলন সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে।
সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক একীভূত করে গঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গত ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যক্তিগত হিসাবধারীদের মূল আমানত উত্তোলনের আবেদন গ্রহণ শুরু করে। আজ ছিল আবেদন গ্রহণের শেষ দিন। সূত্র : বাসস