কৃষি রূপান্তরের স্বপ্ন গতিহীন
Printed Edition
- ৭ হাজার কোটি টাকার পার্টনার প্রকল্পে তিন বছরে ২১ শতাংশ অগ্রগতি
- বিশ্বব্যাংকের অসন্তুষ্টি; হাজার কোটি টাকার অডিট আপত্তি
- শুরু থেকেই প্রকল্পটি পরিকল্পনা ও নেতৃত্বের দুর্বলতায় ভুগছে -ডিএইর সাবেক ডিজি
দেশের কৃষি খাতে উৎপাদন, নিরাপদ খাদ্য, গবেষণা, রফতানি, ডিজিটাল কৃষিসেবা ও জলবায়ু সহনশীল প্রযুক্তিতে যুগান্তকারী পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়ে প্রায় ছয় হাজার ৯১১ কোটি টাকা ব্যয়ে তিন বছর আগে শুরু হয় পার্টনার (প্রোগ্রাম অন এগ্রিকালচারাল অ্যান্ড রুরাল ট্রান্সফরমেশন ফর নিউট্রিশন, এন্ট্রেপ্রেনরশিপ অ্যান্ড রেসিলেন্স ইন বাংলাদেশ) প্রকল্প। কৃষি খাতের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিদেশী অর্থায়ননির্ভর এ কর্মসূচিকে বাংলাদেশের কৃষির রূপান্তরের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছিল।
কিন্তু পাঁচ বছর মেয়াদি প্রকল্পের তিন বছর শেষে বাস্তবায়নের চিত্র উদ্বেগজনক। যেখানে এ সময়ে অন্তত ৬৫ শতাংশ অগ্রগতি হওয়ার কথা ছিল, সেখানে আর্থিক ও ভৌত অগ্রগতি মাত্র ২১ শতাংশ। ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাংক প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতিকে ‘টহংধঃরংভধপঃড়ৎু’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছে। আইএমইডির নিবিড় পরিবীক্ষণ প্রতিবেদনে শতাধিক অডিট আপত্তি এবং হাজার কোটি টাকার বেশি আর্থিক অনিয়মের বিষয় উঠে এসেছে। অন্য দিকে প্রকল্পের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর বা পিসি নিয়োগে ডিপিপির শর্ত উপেক্ষার অভিযোগও রয়েছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষি খাতে এর আগে সবচেয়ে বড় প্রকল্প ছিল প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার সমন্বিত কৃষি যান্ত্রিকীকরণ প্রকল্প। অনিয়ম, দুর্বল ব্যবস্থাপনা ও নেতৃত্বের কারণে সেই প্রকল্প কাক্সিক্ষত সাফল্য পায়নি। একই পরিস্থিতি পার্টনার প্রকল্পেও তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শুরু থেকেই নেতৃত্ব নিয়ে প্রশ্ন
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, ডিপিপি ও বিশ্বব্যাংকের নির্ধারিত শর্ত যথাযথভাবে অনুসরণ না করেই প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু হয়। বিদেশী অর্থায়নপুষ্ট বৃহৎ প্রকল্প পরিচালনায় প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতা না থাকা কর্মকর্তাদের প্রশাসনিক বিবেচনায় দায়িত্ব দেয়ায় পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়েছে।
দৈনিক নয়া দিগন্ত ২০২৩ সালের ১২ অক্টোবর ‘অনভিজ্ঞ কর্মকর্তার কাঁধে বিদেশী ঋণের কৃষি প্রকল্প’ শিরোনামে প্রথম এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। তখন প্রায় ছয় হাজার ৯১০ কোটি টাকার প্রকল্পে এমন একজন কর্মকর্তাকে প্রকল্প সমন্বয়কারী (পিসি) করা হয়েছিল, যার বিদেশী অর্থায়নে প্রকল্প পরিচালনার অভিজ্ঞতা ছিল না।
ডিপিপিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ ছিল, প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর হিসেবে এমন কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিতে হবে, যার বিদেশী সহায়তাপুষ্ট প্রকল্প বাস্তবায়নে কমপক্ষে সাত বছরের অভিজ্ঞতা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সেই শর্ত উপেক্ষা করেই তৎকালীন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক ও সচিব ওয়াহিদা আক্তার কুমিল্লার তৎকালীন উপপরিচালক মো: মিজানুর রহমানকে দায়িত্ব দেন। পরে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাকে সরিয়ে দিয়ে কিশোরগঞ্জের তৎকালীন উপপরিচালক মো: আবুল কালাম আজাদকে দায়িত্ব দেয়। তারও বিদেশী অর্থায়নপুষ্ট প্রকল্প পরিচালনার অভিজ্ঞতা নেই বলে জানা যায়।
কৃষির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিদেশী অর্থায়ন
কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাস্তবায়নাধীন পার্টনার প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ছয় হাজার ৯১০ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে শুধু কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের (ডিএই) অংশেই বরাদ্দ রয়েছে প্রায় তিন হাজার ৭১ কোটি টাকা। দেশের ১৪টি কৃষি অঞ্চলের ৬৪ জেলার ৪৯৫ উপজেলায় প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালিত হওয়ার কথা। ডিএই ছাড়াও প্রকল্প বাস্তবায়নে যুক্ত রয়েছে কৃষি বিপণন অধিদফতর (ডিএএম), বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি), বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি), বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএআরআই), বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিআরআরআই) এবং বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিএমডিএ)। ডিএইর মতো অন্য সংস্থাগুলোরও প্রকল্প অগ্রগতির হার সন্তোষজনক নয় বলে জানা যায়।
তিন বছরে অগ্রগতি মাত্র ২১ শতাংশ
২০২৩ সালের জুন থেকে ২০২৮ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদের প্রকল্পটির গত জুন পর্যন্ত সামগ্রিক আর্থিক অগ্রগতি প্রায় ২১ শতাংশ। ডিএই অংশে বিদেশী ঋণের বিপরীতে ব্যয় হয়েছে মাত্র ১৮ দশমিক ৫৭ শতাংশ।
চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত প্রকল্পে ব্যয় হয়েছে ৬৮০ কোটি ৫৮ লাখ টাকা, যা ডিএই অংশের বরাদ্দের ২৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ। অর্থাৎ বাকি ২৬ মাসে প্রায় ৭৬ শতাংশ কাজ শেষ করতে হবে। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান গতিতে তা প্রায় অসম্ভব। ফলে প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে।
সম্প্রতি খামারবাড়িতে অনুষ্ঠিত এডিবি সভার তথ্য অনুযায়ী, একই সময়ে শুরু হওয়া ফ্লাড রিকনস্ট্রাকশন এমার্জেন্সি অ্যাসিস্ট্যান্স প্রজেক্টের (ফ্রিপ) অগ্রগতি ইতোমধ্যে ৮১ শতাংশ। একই সময়ে অনুমোদিত দু’টি বিদেশী অর্থায়ননির্ভর প্রকল্পের বাস্তবায়ন সক্ষমতায় এত বড় ব্যবধান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
বিশ্বব্যাংকের অর্থ ছাড় নির্ভর করছে ফলাফলের ওপর
পার্টনার প্রকল্পটি বিশ্বব্যাংকের প্রোগ্রাম ফর রেজাল্টস (চভড়ৎজ) পদ্ধতিতে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এ ব্যবস্থায় নির্ধারিত ১০টি ডিসবার্সমেন্ট লিংকড ইন্ডিকেটর (উখও) ও ২৪টি ডিসবার্সমেন্ট লিংকড রেজাল্ট (উখজ) অর্জনের ভিত্তিতেই অর্থ ছাড় হয়।
বিশ্বব্যাংকের একাধিক মিশন প্রতিবেদনে দক্ষ জনবল ব্যবহারের ঘাটতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মিশন প্রতিবেদনে প্রকল্পটির সার্বিক অগ্রগতিকে ‘টহংধঃরংভধপঃড়ৎু’ হিসেবে মূল্যায়ন করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে শুধু পার্টনার নয়, ভবিষ্যতে কৃষি খাতে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নও ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
হাজার কোটি টাকার বেশি অডিট আপত্তি
আইএমইডির নিবিড় পরিবীক্ষণ প্রতিবেদনে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২৫টি অডিট আপত্তির সাথে প্রায় ৮৩৫ কোটি টাকা এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তিনটি আপত্তির সাথে ২১০ কোটির বেশি টাকা জড়িত থাকার তথ্য উঠে এসেছে। বর্তমানে অডিট আপত্তির সংখ্যা শতাধিক।
উল্লেখযোগ্য আপত্তির মধ্যে রয়েছে- ডিপিপির তহবিল ব্যবস্থাপনা অনুসরণ না করে ২৬৪ কোটি ৫১ লাখ টাকা ছাড়, পণ্য সরবরাহের আগেই ৮৮ কোটি ৬০ লাখ টাকা পরিশোধ, ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক বিবরণীর মধ্যে ৩৭৭ কোটি ২৫ লাখ টাকার গরমিল, প্রায় ৯৯ কোটি ৬১ লাখ টাকার সরকারি সম্পদের তালিকা প্রস্তুত না করা, মজুদ রেজিস্টারে অসঙ্গতি এবং অনিয়মিতভাবে যানবাহন ভাড়া পরিশোধ।
মূলধনী কাজের বড় অংশই শুরু হয়নি
প্রকল্পের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি ছিল দুই কোটি ২৭ লাখ কৃষকের স্মার্ট কার্ড চালু করা। কিন্তু এ খাতে উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি। এ ছাড়া তিন বছরে পাঁচ হাজার ৯২০টি কৃষিযন্ত্রের একটিও সরবরাহ করা যায়নি। কৃষি পর্যটন ও প্রিসিশন কৃষির জন্য অ্যাগ্রো ইকোপার্ক, আন্তর্জাতিক মানের প্ল্যান্ট কোয়ারেন্টাইন, কোয়ালিটি কন্ট্রোল ল্যাবরেটরি ও প্যাকিং হাউজ নির্মাণ শুরু হয়নি।
২৩টি অনাবাসিক ভবনের একটিরও কাজ শুরু হয়নি। মোবাইল ক্রপ ক্লিনিং ভেহিক্যাল কেনার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৫৩টি; কেনা হয়েছে ১৩৩টি।
কোথাও অগ্রগতি, কোথাও স্থবিরতা
সব খাতেই যে ব্যর্থতা, তা নয়। ২৮ হাজার ৫৯৭টি ফিল্ড স্কুলের মধ্যে প্রায় ১৮ হাজার ৫০০টির কার্যক্রম চলছে। ডিএই কর্মকর্তাদের গ্যাপ সার্টিফিকেশন প্রশিক্ষণের ৩০ ব্যাচের মধ্যে ২৭টি সম্পন্ন হয়েছে। তবে কৃষকদের জন্য গ্যাপ প্রশিক্ষণের ২০ হাজার ব্যাচের মধ্যে হয়েছে মাত্র সাড়ে চার হাজার। জাতীয় ও আঞ্চলিক পর্যায়ের ১১২টি কর্মশালার মধ্যে হয়েছে ৩১টি। কমিউনিটিভিত্তিক বীজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রারও মাত্র ১৮ শতাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে।
শুরু থেকেই প্রকল্পটি পরিকল্পনা ও নেতৃত্বের দুর্বলতায় ভুগছে
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক ড. মো: আসাদুল্লাহ নয়া দিগন্তকে বলেন, ‘পার্টনার প্রকল্পের তিন বছর পার হলেও আর্থিক অগ্রগতি মাত্র প্রায় ২১ শতাংশ। এত বড় একটি প্রকল্পের জন্য এটি মোটেই সন্তোষজনক নয়। শুরু থেকেই প্রকল্পটি পরিকল্পনা ও নেতৃত্বের দুর্বলতায় ভুগছে। প্রকল্পের উদ্দেশ্য, বাস্তবায়ন কৌশল এবং মাঠপর্যায়ে কাজ এগিয়ে নেয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের যথেষ্ট ধারণার ঘাটতি ছিল।’
তিনি বলেন, শুরুতেই উপযুক্ত প্রকল্প পরিচালক ও দক্ষ টিম নির্বাচন করা হয়নি। ফলে মাঠপর্যায়ে প্রত্যাশিত প্রভাব তৈরি হয়নি। বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয়ও গড়ে ওঠেনি।
ড. আসাদুল্লাহর মতে, এখনও সময় আছে। অভিজ্ঞ ও দক্ষ একজন প্রকল্প পরিচালক এবং কার্যকর একটি টিম দিয়ে প্রকল্পটি পুনর্গঠন করা গেলে কাক্সিক্ষত অগ্রগতি অর্জন সম্ভব। কারণ কৃষি সম্প্রসারণের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম এই প্রকল্পের আওতায় রয়েছে। কিন্তু সময়ের অর্ধেকের বেশি পার হলেও মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান প্রভাব তৈরি হয়নি।
ডিপিপির কাঠামোগত সীমাবদ্ধতায় প্রকল্পের অগ্রগতি কম
অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে পার্টনার প্রকল্পের প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর (পিসি) আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি কম হওয়ার প্রধান কারণ ডিপিপির কাঠামোগত সীমাবদ্ধতা। কৃষক স্মার্ট কার্ডের জন্য শুরুতে ৭৪১ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হলেও বাস্তবে প্রয়োজন প্রায় এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া ডিপিপিতে নির্ধারিত প্যাকেজ কাঠামোয় কাজ বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। বিশ্বব্যাংকের মিড-টার্ম রিভিউয়ের সুপারিশ পাওয়ার পর এখন ডিপিপি সংশোধনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।
তিনি জানান, রামু হর্টিকালচার সেন্টারে এগ্রো পার্ক, পূর্বাচলে কেন্দ্রীয় প্যাকহাউজ এবং কিছু যানবাহন ক্রয়সহ কয়েকটি বড় ব্যয়ের খাত ইচ্ছাকৃতভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। যাত্রাবাড়ীতে ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় প্যাকহাউজ থাকায় পূর্বাচলে একই ধরনের আরেকটি স্থাপনা নির্মাণকে অর্থের অপচয় মনে করে তা বাদ দেয়া হয়েছে। এসব খাতের প্রায় ৫৯১ কোটি টাকা পুনর্বিন্যাস করে কৃষক স্মার্ট কার্ডসহ অগ্রাধিকারমূলক কার্যক্রমে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।
অডিট আপত্তির বিষয়ে তিনি বলেন, অধিকাংশ আপত্তি তার দায়িত্ব গ্রহণের আগের সময়ের। ফান্ড ফ্লো, রিকনসিলিয়েশন ও গাড়ি ক্রয়সংক্রান্ত আপত্তিগুলোরও সমাধান হয়েছে বা নিষ্পত্তির চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
নিজের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘আমি ছয় বছরের প্রকল্প পরিচালনার অভিজ্ঞতা নিয়ে এখানে এসেছি। বিদেশে প্রকল্প ব্যবস্থাপনার প্রশিক্ষণও নিয়েছি। কেউ যদি প্রমাণ করতে পারে আমি প্রকল্প বুঝি না, তাহলে আমি পদত্যাগ করতেও প্রস্তুত।’
তিনি বলেন, ‘শুধু আর্থিক অগ্রগতি বাড়ানোর জন্য রাষ্ট্রের অর্থ অপচয় করা যাবে না। জনগণের ঋণের অর্থ সঠিক খাতে ব্যয় নিশ্চিত করাই আমার দায়িত্ব। অপচয় করে শতভাগ ব্যয় দেখানোর চেয়ে প্রয়োজনীয় খাতে সঠিকভাবে অর্থ ব্যয় করাই গুরুত্বপূর্ণ।’
প্রকল্পের ধীরগতি নিয়ে প্রকাশ্যে অসন্তোষ জানিয়েছেন কৃষি সচিব ড. রফিকুল ই মোহামেদ। সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, আগের সরকারের সময়ের এই প্রকল্পে অনেক সমস্যা রয়েছে। যাদের পারফরম্যান্স খারাপ, তাদের সরিয়ে হলেও প্রকল্পে গতি আনতে হবে। শুধু মেয়াদ বাড়িয়ে সমস্যার সমাধান হবে না।