সিরিয়ায় অভিযানের নতুন পর্ব ঘোষণা ইসলামিক স্টেটের
Printed Edition
রয়টার্স
সিরিয়ার ক্ষমতাসীন শাসকদের বিরুদ্ধে অভিযানের এক নতুন পর্ব শুরুর ঘোষণা দিয়েছে ইসলামিক স্টেট (আইএস)। পাশাপাশি দেশটির উত্তরাঞ্চলে ও পূর্বাঞ্চলে সেনাবাহিনীর সদস্যদের ওপর পৃথক দু’টি হামলার দায় স্বীকার করেছে। শনিবার গোষ্ঠীটি তাদের বার্তা সংস্থাকে জানিয়েছে, দেইর আল-জোর প্রদেশের মায়াদিন শহরে তারা পিস্তল ব্যবহার করে ‘সিরীয় শাসকদের এক ধর্মত্যাগীর’ ওপর হামলা চালিয়েছে আর উত্তরাঞ্চলীয় শহর রাক্কায় আরো দুই ব্যক্তির ওপর মেশিনগান নিয়ে হামলা চালিয়েছে।
সিরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শনিবার সেনাবাহিনীর এক সেনা ও এক বেসামরিক ‘অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীদের’ হামলায় নিহত হয়েছেন। সিরিয়ার সামরিক বাহিনীর এক কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, নিহত সেনা সেনাবাহিনীর ৪২তম ডিভিশনের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।
সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট আহমদ আল শারার সরকারের বিরুদ্ধে সম্প্রতি আক্রমণ তীব্রতর করে তুলেছে আইএস। তার মধ্যেই এসব হামলা চালানো হয়েছে। শারা কায়েদার সাবেক নেতা। ২০১৬ সালে তিনি আল কায়েদার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে সিরিয়ার বিদ্রোহী উপদলগুলোর নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। তার নেতৃত্বাধীন এই বাহিনী ২০২৪ সালের শেষ দিকে প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করে।
শনিবার সন্ধ্যার দিকে আইএস রেকর্ড করা একটি বিবৃতিতে প্রকাশ করে। তাতে গোষ্ঠীটির মুখপাত্র আবু হুদায়ফা আল-আনসারি বলেন, ‘সিরিয়া ইরানের দখল থেকে তুরস্ক-আমেরিকার দখলে চলে গেছে।’ গোষ্ঠীটি বলেছে, তারা সিরিয়ায় ‘নতুন পর্বের অভিযান’ শুরু করেছে। তারা প্রেসিডেন্ট শারাকে মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক জোট বাহিনীর ‘তদারক’ বলে অভিহিত করেছে। শারার পরিণতিও আসাদের মতো হবে বলে শপথ করে বলেছে তারা। শারা গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্র সফরে গিয়ে আইএস বিরোধী আন্তর্জাতিক জোটে সিরিয়ার যোগদান নিশ্চিত করেন। ওই সময় তিনি হোয়াইট হাউজে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাথে সাক্ষাৎ করেছিলেন।