‘রুহুল আমীন গাজী কারাজীবনের ১৭ মাস’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

Printed Edition
Nagar-1
জাতীয় প্রেস কাবে আমিন গাজী : ‘কারা জীবনের ১৭ মাস’ বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে অতিথিরা : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

সাংবাদিক রুহুল আমিন গাজী অধিকার আদায়ে ছিলেন আপসহীন মন্তব্য করে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, তার ত্যাগে আমাদের অনেক কিছু শেখার আছে। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস কাবের বরেণ্য সাংবাদিক নেতা মরহুম রুহুল আমীন গাজীর কারাগারের জীবনের কাহিনী নিয়ে রচিত বই ‘রুহুল আমীন গাজী : কারাজীবনের ১৭ মাস’ শীর্ষক বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয় প্রেস কাবে জহুর আহমেদ হলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বইটির লেখক ও রুহুল আমীন গাজীর ছেলে আফফান আবরার আমীন। স্বাগত বক্তব্যে আফফান তার বাবার সাথে ঘটা অন্যায় মামলা, জেল ও জুলুমের ব্যাপারে কথা বলেন। একইসাথে রুহুল আমীন গাজীর জেলজীবনের দুঃসহ সময়ের বর্ণনা ও বইটির রচনার প্রোপট নিয়ে তিনি আলোচনা করেন।

স্বাগত বক্তব্যের পর রুহুল আমীন গাজীর জীবন ও কর্মের ওপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলাম। মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে রুহুল আমীন গাজী ফাউন্ডেশন।

স্মৃতিচারণ বক্তব্যে কাদের গনি বলেন, রুহুল আমিন গাজী ছিলেন সৎ নির্ভীক সাংবাদিক। কখনো অন্যায়ের সাথে মাথা নত করেননি। তার মতো যোগ্য নেতার বিকল্প নেই। তিনি ডিজিটাল আইনের বিরুদ্ধে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা আর পেশাদারিত্বের জন্য কারাবরণ করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তার প্রতি বিগত সরকার বিন্দুমাত্র মানবতাবোধ দেখায়নি। গণতন্ত্রের জন্য তিনি আজীবন সংগ্রাম করেছেন। তাকে বিনা চিকিৎসায় হত্যা করা হয়েছে। সর্বশেষ তার দেশপ্রেম, দৃঢ়তায় তার নেতৃত্বে হাসিনা পতনের আন্দোলন হয়েছে।

এ সময় বক্তারা সাংবাদিক রুহুল আমীন গাজীর সাথে যে অন্যায় করা হয়েছে তার বিচার দাবি করেন। তারা বলেন, রুহুল আমীন গাজীকে হত্যা করা হয়েছে। জেলখানায় তার প্রতি অমানবিক আচরণ করা হয়েছে।

আজকের ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশ রুহুল আমিন গাজীর অবদানে হয়েছে মন্তব্য করে তারা বলেন, এই বাংলাদেশের জন্য গাজী ভাইয়ের লড়াই ছিল অসামান্য। কিন্তু তাকে স্মরণ করার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো- স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তার যে লড়াই সেই লড়াইকে চালিয়ে নেয়া।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলমের সঞ্চালনায় এতে উপস্থিত ছিলেন দৈনিক নয়া দিগন্তের নির্বাহী সম্পাদক মাসুমুর রহমান খলিলী, বিএফইউজের সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহিন, মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, সহকারী মহাসচিব বাছির জামাল, সাবেক সভাপতি এম এ আজিজ, জাতীয় প্রেস কাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমদ, রুহুল আমীন গাজীর স্ত্রী লুৎফুন নাহার, ফটোজার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ কে এম মহসিন, সিনিয়র সাংবাদিক রফিকুর রহমান, মোদাব্বের হোসেন, মাহবুবুল আলম, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সহসভাপতি হাসনাত করিম পিন্টু, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের দফতর সম্পাদক আবু বকর ও সাব এডিটরস কাউন্সিলের নেতা মনির হোসেন জারিফ।