বেশ কিছু আসনে ভোট গণনা হলেও ঘোষণা করা হচ্ছে না: জামায়াত আমির
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেশ কিছু আসনে ভোট গণনা শেষ হলেও ফলাফল ঘোষণা করা হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. মো. শফিকুর রহমান।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘অনেকগুলো আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীরা এগিয়ে আছেন। কিন্তু সেসব আসনে রিটার্নিং অফিসাররা ফলাফল ঘোষণা করছেন না।’ তিনি দাবি করেন, দ্রুত ফলাফল প্রকাশ না হলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। এদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নিজস্ব প্রতিবেদক জানান, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান বলেছেন, জামায়াতসহ ১১ দল বিজয়ী হলে আমরা সবাইকে নিয়ে একসাথে চলব। আমরা কোনো হিংসা রাখব না। প্রতিবেশী দেশসহ সবার সাথে সুসম্পর্ক রাখার চেষ্টা করব। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোট গ্রহণ শেষে সন্ধ্যায় ঢাকা-১৫ আসনে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন। জামায়াত আমির বলেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে অনেক শঙ্কা, ভয়ভীতির পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়েছিল। তবে দেশের জনগণ সবকিছু পেছনে ফেলে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলাবাহিনী বিশেষ করে সেনাবাহিনী ভালো ভূমিকা রেখেছে। তিনি বলেন, গত তিনটি নির্বাচনে আমরা ভোট দিতে পারিনি। এবার মানুষ ভোট দিতে পারায় খুশি।
এ পর্যন্তÍ যেগুলোর খবর এসেছে তাতে ১১ দলীয় নির্বাচনী ঐক্যের প্রার্থী এগিয়ে আছে জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কিছু দুর্বলতা ও অনিয়ম থাকা সত্ত্বেও সামগ্রিকভাবে এই নির্বাচন দেশবাসী উপভোগ করেছে।
এ সময় জামায়াত আমিরের সাথে ছিলেন, নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির আব্দুর রহমান মুসা, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সেক্রেটারি আতিকুর রহমান, বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতরুজ্জামান, শিবিরের সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলাম প্রমুখ।
কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে গতকাল বিকেল ৫টায় ১১ দলের পক্ষে ব্রিফিং করেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। এ সময় উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব মাওলানা আবদুল হালিম, এনসিপির জাতীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যসচিব মনিরা শারমিন, এবি পার্টির নেতা আলতাফ হোসেন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির ভাইস চেয়ারম্যান এস এম ইউসুফ আলী, দফতর সম্পাদক মো: মিরাজ খান, খেলাফত মজলিসের প্রচার সম্পাদক প্রকৌশলী আবদুল হাফিজ খসরু, এলডিপির উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য অধ্যক্ষ মো: মাহবুবুর রহমান, জাগপার প্রচার সম্পাদক এস এম জিয়াউল আনোয়ার, ব্যারিস্টার সাইফ উদ্দীন খালেদ।
অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, নির্বাচন সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে। বিগত ১৪, ১৮ ও ২৪ সালের নির্বাচনে জাতির আশা-আকাক্সক্ষা পূরণ হয়নি, যেহেতু ফ্যাসিবাদী সরকার নির্বাচন ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছিল। বাংলাদেশের রাজনীতি, অর্থনীতি ও সমাজনীতি- সবকিছুকেই তারা ধ্বংস করেছিল। এ ধ্বংসস্তূপের ওপর চব্বিশের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থানের ফলে যে সরকার গঠিত হয়েছে, সেই অন্তর্বর্তী সরকারের তিনটি অগ্রাধিকার ছিল। এর মধ্যে ছিল বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন। আজ সেই নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হলো। এই নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য বাংলাদেশের মানুষ গভীর আগ্রহের সাথে ছিলেন এবং তারা এতে অংশগ্রহণ করেছেন। তিনি আরো বলেন, নির্বাচন অনুষ্ঠানে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের কমিটমেন্ট ছিল। তারা কতটুকু কমিটমেন্ট রক্ষা করতে পেরেছে- দেশবাসী সেটি বিবেচনা করবে। আমরা ভোর ৭টা থেকে মানুষের দীর্ঘ লাইন দেখেছি; মানুষ অংশগ্রহণ করেছে। অ্যাডভোকেট জুবায়ের আরো বলেন, আমরা ৫২ হাজার ৫০০-এর কিছু বেশি কেন্দ্রের ফলাফল পাবো। একটি আসনে নির্বাচন স্থগিত রয়েছে। পোস্টাল ভোট, গণভোট এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গণনা হবে। আমরা ও দেশবাসী গভীর আগ্রহের সাথে অপেক্ষা করছি।
তিনি আরো বলেন, এই নির্বাচনে খুব বড় আকারের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তবে অনেকগুলো ভোটকেন্দ্রে সমস্যা হয়েছে- সেগুলো সকালে বলেছি। বিশেষ করে শরীয়তপুর-২, কুমিল্লা-৮, পটুয়াখালী-১ আসনসহ আরো অনেকগুলো কেন্দ্রে আমাদের এজেন্টদের ঢুকতে দেয়া হয়নি, হুমকি দেয়া হয়েছে; কোনো কোনো জায়গায় শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে, নির্বাচনী কাজে জড়িতদের হুমকি-ধমকি দেয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আমরা তাৎক্ষণিকভাবে নির্বাচন কমিশন ও প্রশাসনকে জানিয়েছি- তারা চেষ্টা করেছেন। এরপরও কিছু কিছু জায়গায় এ ধরনের অনিয়ম হয়েছে, কিছু বাধা-প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি করা হয়েছে। সবমিলিয়ে আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম, একটি সচেতন জনগোষ্ঠী সবধরনের সন্ত্রাস ও চক্রান্ত রুখে দিতে পারে; বাংলাদেশের মানুষ সেটি প্রমাণ করেছে।
অ্যাডভোকেট জুবায়ের বলেন, গতকাল থেকে বিভিন্ন ধরনের মিডিয়া ট্রায়াল দেখেছি। অনেক উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছিল। সবকিছুকে ব্যর্থ প্রমাণ করে দিয়ে সাধারণ মানুষের নির্বাচনে অংশগ্রহণ ও নির্বাচনকে অর্থবহ করার ক্ষেত্রে দেশবাসীর চমৎকার অংশগ্রহণ ছিল। তিনি বলেন, নির্বাচনের ভোট গণনা ও ফলাফল যাতে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে হয়, আমরা সেটি পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা আমাদের ও ১১ দলের পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনে গিয়ে এ বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করব। কেন্দ্রীয় অফিসেও পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা থাকবে। সাংগঠনিক প্রক্রিয়া মেনে ১১ দলের পক্ষ থেকে সময়ে সময়ে ২৯৯ আসনের ফলাফল কতটুকু হচ্ছে তা জানানো হবে। রাতের একটি সময়ের মধ্যে একটি ফলাফল দেখতে পারব। চূড়ান্ত ফলে কাল সকাল পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। সবমিলিয়ে দেশবাসীকে মোবারকবাদ জানাই।