মাদরাসা শিক্ষাকে আরো উচ্চপর্যায়ে উন্নীত করতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী

Printed Edition
3rd-3
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান ও কৃতী শিক্ষার্থীদের মধ্যে অ্যাওয়ার্ড প্রদান করেন : পিআইডি

শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, মাদরাসা শিক্ষাকে শুধু প্রচলিত কাঠামোর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে চলবে না। এমনভাবে এই খাতকে গড়ে তুলতে হবে, যাতে এখানকার শিক্ষার্থীরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নেতৃত্ব দেয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে। এ ক্ষেত্রে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়কে আরো কার্যকর, গবেষণানির্ভর ও পরিকল্পিত ভূমিকা নিতে হবে। গতকাল রাজধানীর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ফাজিল ও কামিল স্তরের ‘শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান ও অনন্য শিক্ষার্থীদের অ্যাওয়ার্ড প্রদান’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অতীতে মাদরাসা শিক্ষার কাঠামো ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন সীমাবদ্ধতা ছিল। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে আরো সমন্বিত ও কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে। ফাজিল-কামিল শিক্ষাকে মূলধারার উচ্চশিক্ষার সাথে আরো শক্তভাবে যুক্ত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা এখন আরো বেশি অনুভূত হচ্ছে। ইসলামী শিক্ষা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজন দক্ষ শিক্ষক, আধুনিকায়িত শিক্ষাব্যবস্থা এবং বাস্তবমুখী কারিকুলাম। মাদরাসা খাতে শিক্ষক সঙ্কটের বিষয় তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ দেয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে ইসলামী শিক্ষায় দক্ষ শিক্ষক পাওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় কারিকুলাম উন্নয়ন ও শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো সক্রিয় হতে হবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শুধু সনদ অর্জন নয়, জ্ঞান, গবেষণা ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। ইসলামী শিক্ষার শিক্ষার্থীদেরও দেশের সব খাতে অবদান রাখার সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। ফাজিল-কামিল শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা, বিসিএসসহ বিভিন্ন জাতীয় সুযোগের সাথে যুক্ত করার উদ্যোগ আরো সম্প্রসারণ করা হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান বলেন, ফাজিল ও কামিল শিক্ষার স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠিত হলেও এখনো বিভিন্ন ক্ষেত্রে এসব ডিগ্রিধারীরা কাক্সিক্ষত সুযোগ-সুবিধা ও মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সরকারি নিয়োগ ও উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ে ফাজিল-কামিল শিক্ষার্থীদের জন্য আরো সুস্পষ্ট স্বীকৃতি ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, মাদরাসা শিক্ষাকে আধুনিকায়ন ও মূলধারার শিক্ষার সাথে সমন্বয় করেই দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে।

বিশেষ অতিথিদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব, আবদুল খালেক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক, প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, নওগাঁ বিশ^বিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো: হাছানাত আলী, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ^বিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান খান, ইসলামী আরবি বিশ^বিদ্যালয়ের প্রোভিসি (শিক্ষা) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, প্রোভিসি (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইলিয়াছ ছিদ্দিকী, ট্রেজারার শাহীনুল ইসলাম, কামিল (স্নাতকোত্তর) শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের ডিন, প্রফেসর ড. মো: ইদ্রিস আলী, মাদরাসা পরিদর্শক (অতি: দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মুহাম্মদ গোলাম রব্বানী, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ফাহাদ আহমদ মোমতাজী এবং ইআবির শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ অধিভুক্ত মাদরাসাগুলোর অধ্যক্ষ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। বিজ্ঞপ্তি।