গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস আজ

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

আজ ৩০ আগস্ট গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। ২০০৬ সালের ২০ ডিসেম্বর গুম হওয়া থেকে সমস্ত ব্যক্তির সুরক্ষার জন্য একটি আন্তর্জাতিক সনদ জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয়, যা ২০১০ সাল থেকে কার্যকর হয়।

দিবসটি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক বাণী দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে বলেন আজ আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস। এ দিবসে আমি বাংলাদেশসহ বিশ্বের সব গুম হওয়া ব্যক্তি এবং তাদের পরিবারের সদস্যদেরকে গভীর সহানুভূতি ও সহমর্মিতা জানাই। বিশ্বের নিকৃষ্টতম অপরাধগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর হচ্ছে গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স। এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং মানবাধিকারের চরমতম লঙ্ঘন। বিশেষ করে বিশ্বের স্বৈরতান্ত্রিক ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক সঙ্ঘাতপূর্ণ অঞ্চলে এ ধরনের অমানবিক ঘটনা ঘটে। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বাহিনী বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা অনেক সময় সরকারবিরোধী আন্দোলন বা ভিন্নমতের রাজনৈতিক নেতাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের নির্দয়, নির্মম ও নিষ্ঠুর পথ বেছে নেয়।

বাংলাদেশের পতিত, পরাজিত ও পলাতক ফ্যাসিস্ট সরকার জনগণের গণতান্ত্রিক ও রাজনৈতিক অধিকার দমন করার জন্য গুম-অপহরণের অমানবিক পথ বেছে নিয়েছিল। গুম-অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের মাসের পর মাস কিংবা বছরের পর বছর ধরে আটক রাখার জন্য তৈরি করেছিল গোপন বন্দিশালা। পলাতক ফ্যাসিস্ট আমলের এসব গোপন বন্দিখানা জনপরিসরে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিতি পেয়েছিল।

জানা গেছে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার সাড়ে ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকাকালীন রাষ্ট্রীয় নিপীড়নের হাতিয়ার হিসেবে গুমকে ব্যবহার করে। এ সময়ে বিরোধীদলীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মী ভিন্নমতাবলম্বীসহ সাধারণ নাগরিকরা গুম নির্যাতন ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডসহ ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হন। আয়নাঘর নামক গোপন বন্দিশালাতে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার বিরোধিতাকারী এবং ভারতের স্বার্থের বিপক্ষে যারা সোচ্চার ও প্রতিবাদী হতেন তাদেরই গুম করে নির্যাতন করা হতো।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট হাসিনা সরকারের পতন হলে ৮ আগস্ট আর্ন্তবর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। ২৯ আগস্ট গুম হতে সব ব্যক্তির সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক সনদ অনুমোদন করে বাংলাদেশ। যার ফলে গুমের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীন আইন প্রণয়নে বাধ্যবাধকত্ াতৈরি হয় এবং অন্তর্বর্তী সরকার গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ ২০২৫ জারি করে। কিন্তু ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এসে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ ২০২৫ সংসদে পাস না করায় সেটি বাতিল হয়ে যায়। তবে গত ৩ আগস্ট মন্ত্রিসভা গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন-২০২৬ অনুমোদন করে। আর ২৭ আগস্ট খসড়া আইনের কিছুটা পরিবর্তন করে এটি জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়।

কর্মসূচিতে ১১ দলীয় ঐক্যের সমর্থন : আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আজ রোববার গুম প্রতিরোধ জাতীয় কমিটির উদ্যোগে জাতীয় সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা ও স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান কর্মসূচির প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে ১১ দলীয় ঐক্য। বিকেল ৩টায় রাজধানীর বাংলামোটরের রূপায়ণ টাওয়ারের সামনে থেকে সংসদ অভিমুখে পদযাত্রা শুরু হবে। পরে মিছিল নিয়ে সংসদ ভবনের সামনে গিয়ে স্পিকারের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করা হবে।