পিকেকে বিলুপ্তিতে তুরস্কে ঐতিহাসিক আইন পাস

চার দশকের সঙ্ঘাতের অবসান

Printed Edition
onno-1
আবদুল্লাহ ওজালান

রয়টার্স

দীর্ঘ চার দশকের রক্তক্ষয়ী সঙ্ঘাতের স্থায়ী নিরসনে ঐতিহাসিক আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে তুরস্ক। দেশটিতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সশস্ত্র দল কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টিকে (পিকেকে) আনুষ্ঠানিকভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করা এবং তাদের সদস্যদের মূলধারার সমাজে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে একটি নতুন বিল অনুমোদন করেছে তুর্কি পার্লামেন্ট। সোমবার রাতে আইনসভায় ব্যাপক রাজনৈতিক সমর্থনে বিলটি চূড়ান্তভাবে পাস হয়।

নতুন এই আইনের বিধানে বলা হয়েছে, পিকেকের যেসব সাবেক সদস্য সরাসরি কোনো সহিংসতা বা মারাত্মক অপরাধের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন না, তাদের আইনগত সুরক্ষা দেয়া হবে। এ ছাড়া কেবল এ সংগঠনের সদস্য হওয়ার কারণে যাদের কারাদণ্ড দেয়া হয়েছিল, তাদের সাজা আপাতত স্থগিত থাকবে। এর ফলে অস্ত্র ত্যাগ করে আসা হাজার হাজার সদস্যের নিজ সমাজে পুনর্বাসনের নতুন দুয়ার উন্মোচিত হলো। তুরস্কের ৬০০ আসনের আইনসভায় ৪৬৮টিরও বেশি বিপুল ভোটে বিলটি পাস হয়। লক্ষণীয় বিষয় হলো, প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগানের ক্ষমতাসীন একে পার্টি, তাদের জাতীয়তাবাদী মিত্র এমএইচপি এবং কুর্দিপন্থী দল ডিইএম পার্টি-রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী এ দলগুলো একসঙ্গে বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছে। চার দশক ধরে চলা সঙ্ঘাত নিরসনে এটিই আঙ্কারার তরফ থেকে নেয়া সবচেয়ে বড় আইনি পদক্ষেপ। এ প্রক্রিয়ার সূচনা ঘটেছিল ২০২৪ সালের অক্টোবরে, যখন জাতীয়তাবাদী নেতা দেভলেত বাহচেলি নতুন করে শান্তি আলোচনার তাগিদ দেন। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ১৯৯৯ সাল থেকে বন্দী থাকা পিকেকে প্রধান আবদুল্লাহ ওজালান দলটিকে অস্ত্র ত্যাগের নির্দেশনা দেন। এরই ধারাবাহিকতায় মে মাসে পিকেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সশস্ত্র তৎপরতার অবসান ঘটায় এবং জুলাই মাসে উত্তর ইরাকে এক বিশেষ অনুষ্ঠানে নিজেদের অস্ত্র পুড়িয়ে ফেলে এই সমঝোতাকে চূড়ান্ত রূপ দেয়।

১৯৮৪ সাল থেকে চলে আসা এই ভয়াবহ সঙ্ঘাতে প্রাণ হারিয়েছেন ৪০ হাজারেরও বেশি মানুষ, যা একই সঙ্গে দেশটির কুর্দি সংখ্যাগরিষ্ঠ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অর্থনীতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। তুর্কি সরকার এই বিল পাসকে ‘সন্ত্রাসমুক্ত তুরস্ক’ গড়ার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত বলে অভিহিত করেছে। তবে কুর্দি রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর অভিমত, প্রকৃত ও টেকসই শান্তির লক্ষ্যে তাদের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার নিশ্চিতকরণসহ আরও গভীর আইনি পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।