চৌহালীতে যমুনার গ্রাসে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা

গত এক সপ্তাহে ৭০০ মিটার বিলীন

Printed Edition

চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা

সিরাজগঞ্জের চৌহালীর দক্ষিণে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে শুরু হয়েছে ভয়াবহ নদীভাঙন। গত এক সপ্তাহে উপজেলার চরছলিমাবাদ এলাকার প্রায় ৭০০ মিটার এলাকা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। যমুনার তীব্র স্রোতে ইতোমধ্যে বেশ কিছু বসতভিটা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নদীতে চলে গেছে। বর্তমানে হুমকিতে রয়েছে শতাধিক ঘরবাড়ি ও কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

সরেজমিন চরছলিমাবাদ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, তীব্র স্রোতের কারণে একের পর এক বসতভিটা চোখের পলকে নদীতে বিলীন হচ্ছে। অসহায় মানুষ নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে নিজেদের শেষ সম্বল হারানোর দৃশ্য দেখছেন। অনেকে ঘরের টিন, কাঠ ও আসবাবপত্র নৌকায় তুলে নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যাচ্ছেন। ইতোমধ্যে ঘরবাড়ি হারানো অন্তত ২০টি পরিবার খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন। বিস্তীর্ণ এলাকা নদীতে চলে যাওয়ায় চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগে দিন পার করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয়রা জানান, বাঘুটিয়া ইউনিয়নের সম্ভুদিয়া বহুমুখী উচ্চবিদ্যালয় সংলগ্ন ঘাটের উত্তর-দক্ষিণে এবং চরছলিমাবাদ উত্তর ও দক্ষিণ পাড়ায় মুহূর্তের মধ্যে নদীতে চলে যায় বিস্তীর্ণ এলাকা। এতে বসতবাড়ির পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি নদী গ্রাস করেছে। গত শুক্রবার দুপুরে হঠাৎ তীব্র ভাঙনে আব্দুল হাই, মাওলানা আব্দুল মজিদ, মাওলানা আবু সাইদ ও কোরবান আলীর বাড়িসহ অন্তত ৬টি পরিবারের বসতবাড়ি আসবাবপত্রসহ সম্পূর্ণ তলিয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও চৌহালী উপজেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ফকির জুয়েল রানা বলেন, ভাঙন এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। ফলে এলাকাটি এখনো চরম ঝুঁকিতে রয়েছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী সোলায়মান ভূঁঞা জানান, নদীতে তীব্র স্রোতের কারণে কাজ করতে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে। তবে ভাঙন রোধে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ও ডাম্পিং টিউব নিক্ষেপ করা হচ্ছে, যার ফলে কিছু অংশের ভাঙন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে।