কুষ্টিয়ায় ট্রাক-অটো সংঘর্ষে ৫ জন নিহত
অন্যান্য স্থানে প্রাণ গেল আরো ৭ জনের
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
কুষ্টিয়ায় সিএনজিচালিত অটোর সাথে ট্রাকের সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া দেশের অন্যান্য স্থানে পৃথক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন আরো সাতজন।
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি জানান, কুষ্টিয়া শহরের বাইপাস সড়কে সিএনজি ও গ্যাস সিলিন্ডার বাহী ট্রাকের সংঘর্ষে সিএনজির চালকসহ পাঁচজন নিহত হয়েছেন। গতকাল শনিবার দুপুর আড়াইটার দিকে কুষ্টিয়া শহর বাইপাসের কুষ্টিয়া স্টোরের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সিএনজিটি শহরের ত্রিমোহনী থেকে বাইপাস হয়ে খাজানগরের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি গ্যাস সিলিন্ডার বাহী ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সিএনজিটির সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে সিএনজিটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত আরো দুইজনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নেয়ার পর তারাও মারা যান। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন কুষ্টিয়ার খাজানগর এলাকার মৃত সিরাজুল ইসলামের দুই স্ত্রী আমেনা খাতুন (৬৫) ও কমেলা খাতুন (৬২), আমেনা খাতুনের মেয়ের জামাই সিএনজিচালক জাকারিয়া সরকার (৪০), খাজানগর এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে আশরাফুল (২৮) ও আশরাফুলের স্ত্রী শিরিনা খাতুন (২০)। নিহত আমেনা ও কমেলা তাদের মেয়ের বাড়ি রাজশাহী জেলার বাঘা থানার চকরাজাপুর এলাকা থেকে নিজ বাড়ি কুষ্টিয়ার খাজানগর এলাকায় ফিরছিলেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক ইকবাল হোসেন হাসপাতালের মর্গে ছুটে যান। তিনি নিহতদের স্বজনদের সাথে কথা বলেন এবং দ্রুত লাশ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করেন। তিনি নিহতদের বিআরটিএর মাধ্যমে পাঁচ লাখ টাকা করে অনুদানের আশ^াস দেন। নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে লাশের ময়না তদন্ত ছাড়াই লাশ স্বজনেরা নিয়ে যান। এ সময় নিহতদের স্বজনদের আহাজারিতে হাসপাতাল এলাকার পরিবেশ ভারী হয়ে উঠে। ট্রাক চালক পলাতক রয়েছে। পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দু’টি জব্দ করেছে।
মৌলভীবাজার প্রতিনিধি জানান, মৌলভীবাজারে সড়ক দুর্ঘটনায় তিনজন নিহত হয়েছে। শুক্রবার রাত প্রায় ১২টার দিকে মৌলভীবাজার-শ্রীমঙ্গল সড়কের গিয়াসনগর শাহপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দ্রুতগতির একটি সিএনজি চালিত অটোরিকশা সাথে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ভথ্যান গাড়ির সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই দু’জনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় একজনকে মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসক তাকেও মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতরা হলেন সদর উপজেলার খলাপাড়া এলাকার রেহান- (২৩) রুবেল (২২) ও কালেঙ্গা গ্রামের অটোরিকশা চালক নুর আলী (২৬)। দুর্ঘটনার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান চলাচল স্বাভাবিক করে এবং দুর্ঘটনা কবলিত ভথ্যানগাড়ি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।
কলারোয়া (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা জানান, সাতক্ষীরার কলারোয়ায় ইটবাহী ট্রলির চাকায় পিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয়েছে সজীব হোসেন (১৫) নামের এক স্কুল ছাত্রের। শুক্রবার সন্ধ্যায় কলারোয়া উপজেলার আলাইপুর আতিয়ারের মোড়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত সজীব হোসেন উপজেলার আগুনপুর গ্রামের ব্যবসায়ী রবিউল ইসলামের ছেলে। সে বেত্রবতী স্কুলের অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায় গ্রামের বাড়ি আগুনপুর থেকে বাইসাইকেলে কলারোয়ায় আসার পথে আলাইপুর আতিয়ারের মোড়ে পৌঁছলে ইটবাহী ট্রলি সামনের দিক থেকে ধাক্কা দেয়। এ সময় সাইকেল থেকে ছিটকে পড়ে সজীব ট্রলির চাকায় পিষ্ট হয়। পথচারীরা তাকে উদ্ধার করে কলারোয়া হাসপাতালে নিলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। পুলিশ ঘাতক ট্রলিটি আটক করেছে।
চকরিয়া (কক্সবাজার) জানান, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়া কলেজ গেট এলাকায় ডাম্পার গাড়ির সাথে বিপরীত দিক থেকে আসা মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে মোটরসাইকেল চালক নুরুল হোসেন মনিক (৩৫) নামে একজন নিহিত হয়েছে। এ সময় তার ছেলে মোহাম্মদ শামীম (১২) গুরুতর আহত হয়েছেন। শুক্রবার রাত সাড়ে ৮ টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত নুরুল হোসেন চকরিয়া উপজেলা বরইতলী ইউনিয়নের একতাবাজার এলাকর মহাজার পাড়া ৩নং ওয়ার্ডের গোলাম ছোবাহানের ছেলে বলে জানা যায়।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বরইতলী একাতা বাজার থেকে মোটরসাইকেল নিয়ে নুরুল হোসেন তার অসুস্থ ছেলে কে নিয়ে চকরিয়া সরকারি হাসপাতালে আসার পথে চকরিয়া কলেজ গেট এলাকায় পৌঁছলে বিপরীত দিক আসা ডাম্পার গাড়ির সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে হলে গাড়ি দুইটি রাস্তার পাশে ছিটকে পড়ে। এ সময় স্থানীয় লোকজন নুরুল হোসেন ও তার ছেলেকে উদ্ধার করে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে হাসপাতালের চিকিৎসক নুরুল হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত ছেলেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
গৌরনদী (বরিশাল) সংবাদদাতা জানান, ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় বেপরোয়া গতির একটি বাসের ধাক্কায় তৈয়ব আলী (৫১) নামের এক মাহেন্দ্রা চালক নিহত হয়েছেন। একই ঘটনায় অজ্ঞাতনামা এক ভ্যানচালক গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মহাসড়কের বাটাজোর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত তৈয়ব আলী রাজধানীর খিলক্ষেত থানার কুড়াতলী জোয়ার সাহারা এলাকার বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মহাসড়কে চলাচলরত অবস্থায় বেপরোয়া গতির মুন পরিবহনের একটি বাস পেছন থেকে একটি মাহেন্দ্রা ও একটি ভ্যানকে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে মাহেন্দ্রা চালক তৈয়ব আলী ও ভ্যানচালক গুরুতর আহত হন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত তাদের উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তৈয়ব আলীকে মৃত ঘোষণা করেন।
অপর দিকে গুরুতর আহত ভ্যানচালকের অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তার পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
ঝিনাইদহ প্রতিনিধি জানান, ঝিনাইদহ শহরের পবহাটী কলারহাট এলাকায় ট্রাকের ধাক্কায় শাহরিয়ার রহমান শান্ত (৩১) নামে মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় টোটন মিয়া নামে অপর এক মোটরসাইকেল আরোহী গুরুতর আহত হয়েছেন।
শুক্রবার রাত আনুমানিক ১০টার সময় ঝিনাইদহ শহরের পবহাটি কলারহাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত শান্ত আরাপপুর গ্রামের দুঃখী মাহমুদ সড়কের শাহীন রহমানের ছেলে। আহত টোটন ঝিনাইদহ শহরের ব্যাপারীপাড়ার আব্দুস সাত্তারের ছেলে।
আরাপপুর হাইওয়ে পুলিশের ইনচার্জ মৃত্যুঞ্জয় বিশ্বাস জানান, শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ঝিনাইদহ শহরের পবহাটী এলাকায় একটি ট্রাক মোটরসাইকেলকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায়। এ সময় শান্ত ও টোটন নামে দু’জন মোটরসাইকেল আরোহী গুরুতর আহত হন। এ সময় স্থানীয়তরা তাদের উদ্ধার করে ঝিনাইদহ আড়াইশো শয্যা সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে পৌঁছানোর আগেই মোটরসাইকেল চালক শাহরিয়ার রহমান শান্ত মারা যান।