বই পড়েই সাজা কমানোর সুযোগ পেলেন বলসোনারো
দ্য গার্ডিয়ান
Printed Edition
ব্রাজিলের সাবেক ডানপন্থী প্রেসিডেন্ট জেইর বলসোনারো তার ২৭ বছরের কারাদণ্ড কমানোর জন্য এক ভিন্নধর্মী আইনি পথ বেছে নিয়েছেন। অভ্যুত্থানের ষড়যন্ত্রের দায়ে দণ্ডিত এই নেতা এখন বই পড়ার মাধ্যমে সাজা হ্রাসের সুযোগ পাচ্ছেন।
ব্রাজিলের আইন অনুযায়ী, কোনো কয়েদি একটি বই পড়লে তার সাজা চার দিন করে কমানো যায়। গত বৃহস্পতিবার দেশটির সুপ্রিম কোর্টের এক বিচারক বলসোনারোর আইনজীবীদের আবেদনের ভিত্তিতে তাকে এই বিশেষ প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করার অনুমতি দেন। ব্রাজিলের এই ব্যতিক্রমী বিচারিক প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কারাগারের এই শিক্ষা প্রকল্পের আওতায় বলসোনারোকে যেসব বই পড়তে হবে, তার তালিকাটি বেশ আকর্ষণীয় ও তার রাজনৈতিক আদর্শের ঠিক বিপরীত। তালিকায় এমন সব বই রয়েছে যা আদিবাসীদের অধিকার, বর্ণবাদ, পরিবেশ রক্ষা এবং ব্রাজিলের ১৯৬৪-৮৫ সালের সামরিক স্বৈরতন্ত্রের নৃশংসতা নিয়ে লেখা।
উল্লেখ্য, বলসোনারো প্রকাশ্যে ওই সামরিক শাসনকে সমর্থন করে আসতেন। বইয়ের তালিকায় রয়েছে আনা মারিয়া গনকালভসের ৯৫০ পৃষ্ঠার কালজয়ী গ্রন্থ ‘উম ডিফিটো ডি কর’ যা মূলত একজন কৃষ্ণাঙ্গ নারীর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে ব্রাজিলের ইতিহাসকে তুলে ধরে। এ ছাড়া ফিলিপ বান্টিংয়ের শিশুদের জন্য লেখা অলঙ্কৃত বই ‘ডেমোক্র্যাসি!’ পড়ার জন্যও তাকে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সাজার মেয়াদ কমানোর এই সুবিধা পেতে হলে বলসোনারোকে কেবল বই পড়লেই হবে না, বরং প্রতিটি বই পড়ার পর জেল কর্তৃপক্ষের কাছে তার ওপর একটি লিখিত প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। বলসোনারোর পড়ার তালিকায় লিও তলস্তয়ের ‘ওয়ার অ্যান্ড পিস’ এবং মিগুয়েল ডি সার্ভান্তিসের ‘ডন কিহোতে’-র মতো এক হাজার পৃষ্ঠার বেশি বিশাল সব ধ্রুপদী সাহিত্যও স্থান পেয়েছে। অথচ এক সময় বলসোনারো গর্ব করে বলেছিলেন, পড়ার সময় না থাকায় গত তিন বছরে তিনি কোনো বই ছোঁননি। এখন নিজের দীর্ঘ কারাদণ্ড কয়েক মাস কমিয়ে আনতে তাকে এসব কঠিন সাহিত্যের মুখোমুখি হতে হচ্ছে।
বর্তমানে ব্রাসিলিয়ার একটি সর্বোচ্চ নিরাপত্তা বেষ্টিত কারাগারে বন্দী থাকা বলসোনারো এর আগে ২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় তার প্রিয় বই হিসেবে কর্নেল কার্লোস আলবার্তো ব্রিলহান্তে উস্ত্রার একটি বইয়ের নাম বলেছিলেন। উল্লেখ্য, ওই কর্নেল সামরিক স্বৈরতন্ত্রের সময় শত শত বন্দীকে নির্যাতনের অভিযোগে অভিযুক্ত ছিলেন।