হাছান-নওফেলসহ ২২ জনের বিচার শুরুর আদেশ

গণ-অভ্যুত্থানে চট্টগ্রামে ওয়াসিমসহ ৬ জনকে হত্যা

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় চট্টগ্রামে ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরামসহ ছয়জনকে হত্যার ঘটনায় দায়েরকৃত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়েছে। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এবং সাবেক শিক্ষামন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ ২২ জন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠনের মাধ্যমে এই আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। একই সাথে মামলার সূচনা বক্তব্য উপস্থাপন এবং সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আগামী ৬ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আদালত।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

গতকাল মামলার শুনানির শুরুতে কারাগারে থাকা পাঁচ আসামিকে কড়া নিরাপত্তায় ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন- চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, যুবলীগ নেতা আজিজুর রহমান, তৌহিদুল ইসলাম, মো: ফিরোজ এবং দেবাশীষ পাল দেবু।

আদালতের নিয়ম অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনাল চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী উপস্থিত আসামিদের বিরুদ্ধে আনা সুনির্দিষ্ট অভিযোগগুলো পড়ে শোনান। এরপর তারা নিজেদের দোষী নাকি নির্দোষ দাবি করেন তা জানতে চাওয়া হলে কাঠগড়ায় থাকা চার আসামি নিজেদের সম্পূর্ণ ‘নির্দোষ’ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন। তবে ফজলে করিম চৌধুরী অসুস্থ থাকায় তাকে এজলাসের ভেতর একটি অ্যাম্বুলেন্সের স্ট্রেচারে শুইয়ে রাখা হয়।

শুনানি শেষে আদালত আসামিদের অব্যাহতির আবেদন নামঞ্জুর করে ২২ জনের বিরুদ্ধেই আনুষ্ঠানিক চার্জ গঠনের আদেশ দেন। ড. হাছান মাহমুদ ও মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলসহ মামলার ১৭ জন আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন।

প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে দায়ের করা ফরমাল চার্জ বা আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্রের ওপর ভিত্তি করে আদালত মূলত তিনটি ধারায় এই বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন ১ম অভিযোগ : ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনে চট্টগ্রামের মুরাদপুরে ছাত্রদল নেতা ওয়াসিম আকরাম, ফয়সাল আহমেদ শান্ত এবং মো: ফারুককে গুলি করে হত্যার সুনির্দিষ্ট দায় আনা হয়েছে আসামিদের বিরুদ্ধে। ২য় অভিযোগ : একই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় বহদ্দারহাট ও সংলগ্ন এলাকায় তানভীর সিদ্দিকী, সায়মন ওরফে মাহিম এবং হৃদয় চন্দ্রকে গুলি করে শহীদ করার অভিযোগ। ৩য় অভিযোগ : ওয়াসিম-তানভীরদের হত্যার পাশাপাশি জাহিদ হাসান, আবদুল কাদের, আছিয়া খাতুন, সানজিদা সুলতানা এবং আবদুল্লাহসহ শতাধিক ছাত্র-জনতাকে মারণাস্ত্রের ব্যবহারে গুরুতর আহত ও পঙ্গু করার অভিযোগ আনা হয়েছে।

এর আগে গত সোমবার টানা তিন কার্যদিবসব্যাপী শুনানি শেষে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা এই মামলা থেকে আসামিদের সম্পূর্ণ অব্যাহতি (ডিসচার্জ) চেয়ে আবেদন করেছিলেন। আসামিপক্ষের আইনজীবী মিজানুর রহমান আদালতে দাবি করেন, উদ্ধৃত মামলায় আসামিদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট কোনো অপরাধের উপাদান বা প্রাথমিক প্রমাণ নেই। অন্য দিকে পলাতক ১৭ জন আসামির পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো: আমির হোসেন, আবুল হাসান, ইশরাত জাহান ও মোহাম্মদ এনামও তাদের মক্কেলদের নির্দোষ দাবি করে অব্যাহতির আবেদন জানান।

তবে প্রসিকিউশনের পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম এবং প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, ফারুক আহাম্মদ, মঈনুল করিম ও আবদুস সাত্তার পালোয়ান আসামিদের বিরুদ্ধে প্রাথমিক অপরাধের সংশ্লিষ্টতা ও দায় তুলে ধরে চার্জ গঠনের জোরালো আবেদন জানান। ট্রাইব্যুনাল প্রসিকিউশনের আবেদন আমলে নিয়ে বিচার শুরুর এই আদেশ দেন।