মানবতাবিরোধী অপরাধ
কামরুল-মেননের বিচার শুরু হবে কি না জানা যাবে আজ
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় ছাত্র-জনতার ওপর মরণাস্ত্র ব্যবহারের প্ররোচনা ও হত্যাকাণ্ডের দায়ে সাবেক মন্ত্রী কামরুল ইসলাম ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ আজ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ আজ বৃহস্পতিবার নির্ধারণ করবেন এই দুই প্রভাবশালী নেতার বিচার আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে কি না।
বিচারপতি গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ বিষয়ে আদেশ দেবে। প্যানেলের অপর সদস্য হলেন- বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ বিচারক মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।
গত ১১ মার্চ আসামিপক্ষের আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী তার মক্কলদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে শুনানি করেন। তিনি বলেন, প্রসিকিউশন আসামির বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ এনেছে- তার পক্ষে যথাযত প্রমাণ হাজির করতে পারেনি। তারা কোনো হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত ছিলেন এমন কোনো প্রমাণ প্রসিকিউশন হাজির করতে পারেননি। এ জন্য তিনি আসামিদের অব্যাহতির আবেদন জানান। এরপর প্রসিকিউশন বক্তব্যে তুলে ধরে। চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল বলেন, আমরা আসামিদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ দাখিল করেছি। বিচারের সময় আমরা অপরাধ প্রমাণ করতে সক্ষম হবো। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে এই বিষয়ে আদেশের জন্য ৩০ এপ্রিল দিন ধার্য করে ট্রাইব্যুনাল।
এর আগে গত ২ মার্চ আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠনিকভাবে অভিযোগ গঠনের বিষয়ে প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। এ সময় প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম, মঈনুল করিম ও আবদুস সাত্তার পালোয়ানসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
শুনানিতে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শেখ হাসিনার সরকারকে টিকিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে নানা উসকানি দেন কামরুল ও মেনন। তারা সরকারের শীর্ষ পদে থেকে নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর মারণাস্ত্র ব্যবহার এবং কারফিউ জারির প্ররোচনা দেন। তাদের ধারাবাহিক ষড়যন্ত্রে আন্দোলনকারীদের ওপর মরণাস্ত্র ব্যবহার করে গুলি চালানো হয়। জুলাইয়ে হত্যাকাণ্ডের মামলায় দুই আসামির বিরুদ্ধে সুপিরিয়র কমান্ড রেসপন্সিবিলিটির দায় আনা হয়েছে। শুনানি শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আবেদন জানান চিফ প্রসিকিউটর।
২০২৪ সালের ২২ আগস্ট মেননকে গ্রেফতার করে পুলিশ। একই বছরের ১৮ নভেম্বর রাজধানীর উত্তরা থেকে গ্রেফতার হন কামরুল। এরপর থেকেই বিভিন্ন মামলায় কারাগারে রয়েছেন তারা।
ইনুর পক্ষে ষষ্ঠ দিনের যুক্তিতর্ক শেষ
এ দিকে চব্বিশের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে কুষ্টিয়ায় ছয়জনকে হত্যাসহ আট অভিযোগে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনুর পক্ষে ষষ্ঠ দিনের যুক্তিতর্ক শেষ হয়েছে।
গতকাল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বিচারিক প্যানেলে এ যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়।
ইনুর পক্ষে বিভিন্ন যুক্তি তুলে ধরেন আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী। তার সাথে ছিলেন- আইনজীবী সিফাত মাহমুদ শুভ ও আবুল হাসান। তারা এ মামলায় প্রসিকিউশনের আনা অভিযোগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন যুক্তি উপস্থাপন করেন। একইসাথে হাসানুল হক ইনুকে এ মামলা থেকে বাঁচাতে আইনি লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।
প্রসিকিউশনের পক্ষে ট্রাইব্যুনালে ছিলেন- প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, প্রসিকিউটর আবদুস সোবহান তরফদার, মামুনুর রশিদসহ অন্যরা।