রিজার্ভ চুরি মামলা : তদন্ত প্রতিবেদন জমা ৯২ বার পেছাল
Printed Edition
আদালত প্রতিবেদক
বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরির ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ আবারো পিছিয়েছে। এ নিয়ে মোট ৯২ বার প্রতিবেদন জমার সময় বাড়ানো হলো। সর্বশেষ আগামী ১৮ ফেব্রুয়ারি নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।
গতকাল ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করেন।
এ দিন মামলার প্রতিবেদন জমার কথা থাকলেও তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রায়হান উদ্দিন খান প্রতিবেদন দাখিল করতে ব্যর্থ হন। ফলে আদালত আবার সময় মঞ্জুর করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি সুইফট কোড জালিয়াতির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক থেকে বাংলাদেশ ব্যাংকের আট কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার চুরি হয়। চুরি হওয়া অর্থ ফিলিপাইনে স্থানান্তর করা হয়। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, দেশের অভ্যন্তরের একটি চক্রের সহায়তায় এ অর্থপাচার সংঘটিত হয়।
পরে ওই বছরের ১৫ মার্চ রাজধানীর মতিঝিল থানায় বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড বাজেটিং বিভাগের যুগ্ম পরিচালক জুবায়ের বিন হুদা মামলা দায়ের করেন। অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনে করা ওই মামলায় তখন সরাসরি কাউকে আসামি করা হয়নি।
বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডি। তবে একাধিকবার সময় নেয়া হলেও এখন পর্যন্ত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি সংস্থাটি।
চুরি হওয়া অর্থের বড় অংশ ফিলিপাইনের তিনটি ক্যাসিনোতে স্থানীয় মুদ্রা পেসো আকারে চলে যায়। এর মধ্যে একটি ক্যাসিনোর মালিকের কাছ থেকে প্রায় দেড় কোটি ডলার উদ্ধার করে ফিলিপাইনের সরকার, যা বাংলাদেশকে ফেরত দেয়া হয়েছে। তবে এখনো ছয় কোটি ৬৪ লাখ ডলার উদ্ধার হয়নি।
রিজার্ভ চুরির তিন বছর পর, ২০১৯ সালে অর্থ উদ্ধারের লক্ষ্যে নিউ ইয়র্কের ম্যানহাটন সাদার্ন ডিস্ট্রিক্ট কোর্টে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। তবে ওই মামলাটি খারিজের আবেদন জানায় আরসিবিসি। আদালত রায়ে বলেন, মামলাটি বিচারের জন্য তাদের ‘পর্যাপ্ত এখতিয়ার’ নেই। পরে বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে নিউ ইয়র্কের এখতিয়ারভুক্ত আদালতে নতুন করে মামলা করা হয় বলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছিল।