বাযাউ মানুষ

Printed Edition
nittodin-1
বাযাউ মানুষ

নিকো হক

জানো, হারানো দিনে ‘বাযাউ’রা সাগর-যাযাবর হিসেবে বিশেষভাবে পরিচিত ছিল। নৌকায় ঘুরে বেড়াত দূর সাগরের অজানায়। আর এদের বসবাসই ছিল নৌকায়।

বর্তমানে বাযাউরা নৌকায় স্থায়ী বসবাস প্রায় ছেড়েই দিয়েছে। কিন্তু এদের সাগরের সাথে সংস্রব শেষ হয়নি; বড় ভালোবাসে এরা অগভীর সাগর-উপকূলে খুঁটির ওপর ঘর তৈরি করে বসবাস করতে।

বাযাউ মানুষেরা মালয়েশিয়ার দেশজ জাতি। তবে ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া ও ব্রুনেইতেও এদের বসবাস রয়েছে।

বাযাউরা চ্যাবাক্যানো, কেবোয়ানো, ত্যাগালগ, মালয় ও বাহাসা ইন্দোনেশিয়া ভাষায় কথা বলে। বাযাউদের ভাষাগুলোকে সামা-বাযাউ ভাষা পরিবারের অন্তর্ভুক্ত বলা যায়। কেউ কেউ ইংরেজি ভাষাও জানে।

বাযাউরা ইসলাম ধর্মের অনুসারী। তবে কিছু বাযাউ প্রাক-ইসলামি যুগের অনুশাসন এখনো কিছুটা মেনে চলে। অনেকে সমুদ্রপথে চলার সময় সাগরদেবতাকে ধন্যবাদ জানায়।

বাযাউরা পোশাক ও সৌন্দর্যসচেতন। এরা বেশ পরিপাটি হয়ে থাকতে পছন্দ করে।

মাছ ধরা ও ব্যবসা-বাণিজ্যে বাযাউরা দক্ষ। এরা মাছ ধরে বিশেষভাবে তৈরি নিজস্ব ঘরানার নৌকায়। অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ ধরার নজির আছে এদের।

বাযাউ জনসংখ্যা প্রায় ১ মিলিয়ন। এদের বেশির ভাগই বাস করে মালয়েশিয়ায়।

এ জাতি সারা বিশ্বে বাযাউ হিসেবে পরিচিতি পেলেও নিজেদেরকে এরা বাযাউ হিসেবে পরিচয় দিতে পছন্দ করে না। এরা এদের নিজস্ব নৃতাত্ত্বিক জাতিতেই এদের পরিচিতি তুলে ধরে। আসলে কয়েকটি নৃতাত্ত্বিক জাতির সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে বাযাউ নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী। মালয়েশিয়ায় ব্রিটিশ শাসনের যুগে ব্রিটিশরা বিভিন্ন নৃতাত্ত্বিক জাতিকে বাযাউ নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠী নামে নথিভুক্ত করে। আর এভাবেই বাযাউ নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর উদ্ভব।

সাগরের প্রতি বিশেষ ঝোঁক থাকলে কী হবে, ঘোড়ার প্রতিও বাযাউদের আকর্ষণ প্রবল। সমতলে কিংবা পাহাড়ে গেলে এরা ঘোড়ায় চড়তে পছন্দ করে। সাহসী ঘোড়সওয়ার হিসেবে এদের খ্যাতি আছে।