বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়

রংপুর-রাজশাহী-খুলনায় জামায়াতের সাফল্য

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয় পেতে চলেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। গতকাল গভীর রাত পর্যন্ত ঘোষিত ফলাফলে দেড় শতাধিক আসনে জয় পেয়েছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট। অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট ১০০-র কাছাকাছি আসনে জয়ী হয়েছে বা এগিয়ে রয়েছে। ঢাকা, ময়মনসিং, সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে বিএনপি জোট এককভাবেই ভালো ফল করেছে। আর রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগে জামায়াত জোট ভালো ফল করেছে।

এদিকে ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতের আমির ডা: শফিকুর রহমান বিজয়ী হয়েছেন। ঢাকা-১৭ আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তারেক বগুড়া-৬ আসনেও জয় পেয়েছেন। ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াত প্রার্থী ব্যারিস্টার আরমান বিজয়ী হয়েছেন। বিএনপির মহাসচিব ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাঁকুরগাঁও-১ আসনে জয়ী হয়েছেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক অস্থিরতা, আন্দোলন, গণআন্দোলনের স্মৃতি এবং জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী পরিবর্তিত বাস্তবতার মধ্যেই ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ছাড়া বেশ উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন।

বিএনপি জোটের নেতারা দাবি করছেন, এবারের ভোটে তারা ‘নীতিনির্ভর প্রচারণা’ চালিয়েছেন। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, স্থানীয় সরকার শক্তিশালীকরণ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি- এসব প্রতিশ্রুতি ভোটারদের আকৃষ্ট করেছে। দলটির কেন্দ্রীয় এক নেতা বলেন, ‘মানুষ এবার দল নয়, জবাবদিহি চেয়েছে। সেই প্রত্যাশার প্রতিফলনই ভোটের বাক্সে দেখা যাচ্ছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিএনপি জোটের এগিয়ে থাকা মানেই এককভাবে ক্ষমতায় যাওয়া নিশ্চিত নয়। জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের প্রশ্নও নতুন সংসদের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ। গণতান্ত্রিক সংস্কার, প্রশাসনিক পুনর্গঠন ও দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ- এসব বিষয়ে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। যে দল বা জোটই সরকার গঠন করুক, তাদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে, নচেৎ জনসমর্থন ধরে রাখা কঠিন হবে।

চূড়ান্ত ফলাফল যাই হোক, এ নির্বাচন দেশের গণতান্ত্রিক যাত্রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে- যেখানে ভোটের বাক্সে জনগণ তাদের প্রত্যাশা, ক্ষোভ ও স্বপ্ন একসঙ্গে প্রকাশ করেছে। নতুন সংসদের দায়িত্ব হবে সেই বার্তাকে সম্মান জানিয়ে বাস্তব পরিবর্তন নিশ্চিত করা।

কুড়িগ্রাম-৪ আসনে জিতলেন জামায়াত প্রার্থী

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি জানান, কুড়িগ্রাম-৪ আসনে ২০ হাজার ৯৯৮ ভোট বেশি পেয়ে জামায়াত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। জানা গেছে, মোট ১৩০টি কেন্দ্রের গণনা শেষে দেখা যায়, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৯৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আজিজুর রহমান পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৯৪৫ ভোট।

ভোলা-৩ এ মেজর হাফিজ নির্বাচিত

লালমোহন (ভোলা) সংবাদদাতা জানান, ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন) আসনে বেসরকারিভাবে ধানের শীষ প্রতীকের বিএনপির প্রার্থী মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বীরবিক্রম নির্বাচিত হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত সমর্থিত ফুলকপি প্রতীকের প্রার্থী নিজামুল হক নাঈম এর থেকে ৯৬ হাজার ১১৪ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন তিনি। এ নিয়ে মেজর হাফিজ সপ্তমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন।

এজেন্ট ও অসমর্থিত সূত্রের ফলাফলে বেসরকারিভাবে ধানের শীষ প্রতীক পেয়েছে এক লাখ ৫১ হাজার ৭৭৪ ভোট এবং ফুলকপি প্রতীক পেয়েছে ৫৫ হাজার ৬৬০ ভোট। ভোলা-৩ আসনে ভোট প্রদানের হার ৫৮ শতাংশ।

মেহেরপুর দু’টি আসনে জামায়াত প্রার্থীরা জয়ী

মেহেরপুর প্রতিনিধি জানান, মেহেরপুর-১ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী জামায়াতে ইসলামীর মো: তাজউদ্দিন খান এক লাখ ২২ হাজার ৮২৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম ধানের শীষের প্রার্থী মাসুদ অরুন পেয়েছেন এক লাখ চার হাজার ২২৪ ভোট। মেহেরপুর-২ আসনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মোঃ নাজমুল হুদা ৯৪ হাজার ১৬৮ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম ধানের শীষের প্রার্থী মো: আমজাদ হোসেন পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৬৮৯ ভোট।

ময়মনসিংহ-৩ বিএনপি প্রার্থী বিজয়ী

ময়মনসিংহ অফিস জানায়, ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ১২ হাজার ৬১৬ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসাইন। ৯২টি ভোটকেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফলে তিনি মোট ৭৭ হাজার ১৫২ ভোট পেয়ে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী আহাম্মদ তায়েবুর রহমান পেয়েছেন ৬৪ হাজার ৫৩৬ ভোট।

টাঙ্গাইল-১ এ বিএনপির প্রার্থী বিজয়ী

মধুপুর (টাঙ্গাইল) সংবাদদাতা জানান, টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে সহিংসতা ছাড়াই দুই উপজেলার ১৪৮টি কেন্দ্রের ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। ১৪৮ কেন্দ্রের মধ্যে মধুপুর উপজেলায় রয়েছে ৮৯টি কেন্দ্র। মোট ১৪৮টি কেন্দ্রের মধ্যে বিএনপির প্রার্থী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন পেয়েছেন ১৫৪৫৩৯ ভোট। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ডা: মোহাম্মদ আবদুল্লাহেল কাফী পেয়েছেন ৯২৭৮২ ভোট।

মৌলভীবাজার-২ এ বিএনপির শওকতুল ইসলাম শকু নির্বাচিত

মৌলভীবাজার-২ (কুলাউড়া) আসনে ১০৩টি কেন্দ্রের মধ্যে সবকটি ও পোস্টাল ভোটের ফলাফলে ধানের শীষের প্রার্থী শওকতুল ইসলাম শকু ৭৪ হাজার ৬ শত ৩৬ ভোট পেয়ে নির্বািচত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের ইঞ্জিনিয়ার এম সাহেদ আলী পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৫৭ ভোট । ভোটের ব্যবধান ২১ হাজার ৫ শত ৩৯ ভোট।

কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে ফজলুর রহমানের জয়

কিশোরগঞ্জ-৪ (ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম) আসনে বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান বেসরকারি ফলাফলে ৭৭ হাজার ৭০৪ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে ফজলুর রহমান মোট এক লাখ ৩২ হাজার ৫০৩ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট রোকন রেজা শেখ পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৭৯৯ ভোট। সবগুলো কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের মাধ্যমে পাওয়া রেজাল্টশিটের ভিত্তিতে বেসরকারি এই ফলাফল জানা গেছে।

সুনামগঞ্জ-৫ আসনে বিএনপির কলিম উদ্দিন নির্বাচিত

সুনামগঞ্জ-৫ (ছাতক-দোয়ারাবাজার) আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। মোট ৫৩ হাজার ৬৯ ভোটের ব্যবধানে তার বিজয় নিশ্চিত হয়।

১৭০টি ভোটকেন্দ্রের বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী মোট ভোট পড়েছে দুই লাখ ৫২ হাজার ৯২৫টি। এর মধ্যে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী মিলন পেয়েছেন এক লাখ ৫২ হাজার ৯৯৭ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী আবু তাহির মোহাম্মদ আব্দুস সালাম আল মাদানি পেয়েছেন ৯৯ হাজার ৯২৮ ভোট।

রূপগঞ্জে বিএনপির মোস্তাফিজুর রহমান নির্বাচিত

নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনের বিএনপির প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান ভূঁইয়া দিপু ধানের শীষ প্রতীকে এক লাখ ৫৫ হাজার ৪২১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আনোয়ার হোসেন মোল্লা দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯০ হাজার ২৮৯ ভোট।

ময়মনসিংহের ১১টি আসনের ফলাফল

ময়মনসিংহ-৩ গৌরীপুর আসনে বেসরকারিভাবে বিএনপির ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেইন ধানের শীষ প্রতীকে ভোট ৭৭ হাজার ১৫২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। অন্যান্য আসনের প্রাপ্ত ফলাফলে দু’টি আসনে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং একটি আসনে জামায়াতে ইসলামী ও একটি আসনে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস এগিয়ে আছেন।

ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনের ১৪৩ কেন্দ্রের মধ্যে ৭২ কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র সালমান ওমর রুবেল পেয়েছেন ৬৪ হাজার ১৩৯ ভোট। নিকটতম বিএনপির সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৭৬৬ ভোট।

ময়মনসিংহ-২ (তারাকান্দা-ফুলপুর) আসনে ১৭৪ কেন্দ্রের মধ্যে ৭৬ কেন্দ্রের ফলাফলে খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদুল্লাহ (রিক্সা) প্রতীকে পেয়েছেন ৫১ হাজার ৬২৭ ভোট। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোতাহার হোসেন তালুকদার (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৫২৯ ভোট।

ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে বিএনপির ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেইন ধানের শীষ প্রতীকে ৭৭ হাজার ১৫২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৬৪ হাজার ৫৩৬ ভোট।

ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনের মোট ১৭৯টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০০টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির আবু ওয়াহাব আকন্দ ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ১,০০,৭৪৭টি। নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ কামরুল আহসান এমরুল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯০,১৮০ ভোট।

ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনের ১০৪ টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬২ কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির জাকির হোসেন বাবলু ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৭০,২০৮ ভোট। নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর অ্যাডভোকেট মো: মতিউর রহমান আকন্দ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৫৬,১১১ টি।

ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনের ১২১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৩৭টি কেন্দ্রের ফলাফলে জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ কামরুল হাসান মিলন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৪৫,৯১৯টি। নিকটতম বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আখতার সুলতানা ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৩৫,৫৮৪ ভোট। জামায়াতে বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী জসিম উদ্দিন ঘোড়া প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৩০,৫৫৭ ভোট এবং বিএনপির মো: আখতারুল আলম ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ২৯,৫৩৮।

ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনের ১২১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬০টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির ডা: মাহবুবুর রহমান লিটন ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৪৯,৬৬১ ভোট। নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর মো: আছাদুজ্জামান সোহেল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৩৯,১৯৯ ভোট।

ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের ৯২টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮১টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রকৌলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু ধানের শীষ প্রতীকে ৯৫,৬১৯ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন। নিকটতম এলডিপির মো: আওরঙ্গজেব বেলাল ছাতা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৪০৮৮৭টি।

ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনের ১২১টি কেন্দ্রের মধ্যে ১০০টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির ইয়াসের খান চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৭৯,৪৫৪টি। নিকটতম ডেভেলপমেন্ট পার্টির এ কে এম আনোয়ারুল ইসলাম ফুলকপি প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৫৮,৭০১টি।

ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনের ১১টি কেন্দ্রের মধ্যে ৬২ কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিকুর রহমান হাঁস প্রতীকে ৬৩,০২৪ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন। নিকটতম বিএনপির মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু ধানের শীষ প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৪৭,৬৬৪টি এবং জামায়াতে ইসলামীর মো: ইসমাইল হোসেন সোহেল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৪৬,৪২৭টি।

ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনের ১০৭টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮১ কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির ফখরউদ্দিন আহমেদ বাচ্চু ধানের শীষ প্রতীকে ৭৭,৩৬৪ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্র্থী মো: মোর্শেদ আলম হরিণ প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৫২,৮২৩টি এবং এনসিপির জাহিদুল ইসলাম শাপলা কলি প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ১৬,৬৭৫টি।

ভোলা-১ আসনে ব্যারিস্টার পার্থ বিজয়ী : ভোলা-১ (সদর) আসনে বেসরকারিভাবে বিএনপি সমর্থিত বিজেপি চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিভ রহমান পার্থ গরুর গাড়ি প্রতীক নিয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি ১০৪৪৬২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। এই আসনে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। এর আগে তিনি ২০০৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে বিজয়ী হয়েছেন।

অপর দিকে তার নিটকতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট সমর্থিত জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম ৭৩৭৭৩ পেয়েছেন। বেসরকারিভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে।

ভোলা-৩ আসনে মেজর হাফিজ জয়ী : ভোলা-৩ আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বেসরকারিভাবে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে জয়ী হয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ (বীরবিক্রম)। তিনি ১ লাখ ৫১ হাজার ৭৭৪ ভোট পেয়েছেন। এ নিয়ে মেজর হাফিজ সপ্তমবারের মতো ভোলা-৩ আসন থেকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

অপর দিকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী মুহাম্মদ নিজামুল হক নাঈম ফুলকপি প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৬৬০ ভোট। ভোট কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত এজেন্টদের দেয়া তথ্যে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। বিজয়ী প্রতিক্রিয়ায় মেজর (অব:) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম) বলেন, এই বিজয় আমার একার নয়, এটি লালমোহন-তজুমদ্দিনের মানুষের বিজয়। আগামীতে মানুষের অধিকার, উন্নয়ন ও গণতন্ত্র রক্ষায় আমি আপসহীন থাকবো।

প্রসঙ্গত, লালমোহন-তজুমদ্দিন উপজেলা নিয়ে গঠিত ভোলা-৩ আসন। এ আসনে ১টি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়ন রয়েছে। আসনটিতে মোট ভোট কেন্দ্র ১১৯টি। এ আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৮৫ হাজার ৫৯৭ জন। যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৯৭ হাজার ১৭ জন, মহিলা ভোটার ১ লাখ ৮৭ হাজার ৫৭৭ জন এবং হিজড়া ভোটার রয়েছেন ৩ জন।

মাগুরার ২টি আসনেই বিএনপির জয় : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাগুরা জেলার দুটি আসনেই বিএনপি প্রার্থীদের বিজয়ের মধ্য দিয়ে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের আভাস মিলেছে। অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে দেখা গেছে, বেসরকারি ফলাফলে মাগুরা-১ ও মাগুরা-২ এ দুই আসনেই উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয় পেয়েছেন বিএনপির প্রার্থীরা।

মাগুরা-১ আসনে মোট ১৫৬টি কেন্দ্রে বিএনপি প্রার্থী মো: মনোয়ার হোসেন পেয়েছেন ১ লাখ ৮৪ হাজার ১৮৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী আব্দুল মতিন পেয়েছেন ৮৩ হাজার ৭৮৩ ভোট।

অপর দিকে মাগুরা-২ আসনে ১৪৫টি কেন্দ্রের পূর্ণ ফলাফলে বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী পেয়েছেন ১ লাখ ৫০ হাজার ১৮০ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী এম বি বাকের পেয়েছেন ১ লাখ ১৭ হাজার ৮০৭ ভোট।

দুটি আসনেই বিএনপির প্রার্থীদের এমন ফলাফল স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। ভোটারদের উপস্থিতি, কেন্দ্রভিত্তিক ফলাফলের ধারা এবং ব্যবধান, সব মিলিয়ে দলটির সাংগঠনিক শক্তি ও মাঠপর্যায়ের সক্রিয়তার প্রতিফলন দেখা গেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। তবে এসব ফলাফল অনানুষ্ঠানিক। নির্বাচন কমিশনের চূড়ান্ত ঘোষণার পরই আনুষ্ঠানিক ফলাফল নিশ্চিত হবে।

বগুড়া-৫ এ বিএনপির জিএম সিরাজ বিজয়ী : বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন।

শেরপুর উপজেলা ৯৯টি কেন্দ্রে বেসরকারি ফলাফলে ধানের শীষ পেয়েছে ১,২৭,০৩২ ভোট ও দাঁড়িপাল্লা পেয়েছে ৮৮,৮৫২ ভোট।

অপর দিকে ধুনট উপজেলায় ৮৯ কেন্দ্রে ধানের শীষ পেয়েছে ১,২৬,৬৩৫ ভোট ও দাঁড়িপাল্লা ৫৩,৪০১ ভোট। এখানেও বড় ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন ধানের শীষ প্রার্থী। দুই উপজেলা মিলে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ ১,১১,২৫৯ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন।

দিনাজপুরের ৬টি আসনে বিএনপির বিজয় : দিনাজপুরের ছয়টি আসনের পাঁচটিতে বিএনপি ও একটিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিজয়ী হয়েছে। বিজয়ী প্রার্থীরা হচ্ছেন দিনাজপুর-১ আসন থেকে বিএনপির মঞ্জুরুল ইসলাম, দিনাজপুর-২ থেকে বিএনপির সাদিক রিয়াজ চৌধুরী, দিনাজপুর-৩ থেকে বিএনপির সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, দিনাজপুর-৪ থেকে বিএনপির আক্তারুজ্জামান চৌধুরী, দিনাজপুর-৫ থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী (বিএনপির বিদ্রোহী) এ জেড এম রেজওয়ানুল হক ও দিনাজপুর-৬ বিএনপির ডাক্তার জাহিদ হোসেন।

সাতক্ষীরার ৪টি আসনেই জামায়াত বিজয়ী : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট গণনা শেষে বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফলে সাতক্ষীরার চারটি আসনেই জামায়াত মনোনীত প্রার্থীরা জয়লাভ করেছেন।

বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী সাতক্ষীরায়-১ (তালা-কলারোয়া) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ ইজ্জতুল্লা পোস্টাল ভোটসহ ২,২০,৩৩০ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাবিবুল ইসলাম হাবিব পেয়েছেন ১১৪৩৩২ ভোট।

সাতক্ষীরা-২ (সদর ও দেবহাটা) আসলে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক পোস্টাল ভোট ছাড়া ২৬০৮২৩ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো: আব্দুর রউফ পেয়েছেন ১১৪৩৩২ ভোট।

সাতক্ষীরা-৩ (আশাশুনি-কালিগঞ্জ) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থীর মুহাদ্দিস রবিউল বাশার পোস্টাল ভোট ছাড়া ১৫৫১২৭ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী ডাক্তার শহিদুল আলম ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৮৩৪৬২ ভোট।

সাতক্ষীরা-৪ (শ্যামনগর আসনে) আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী গাজী নজরুল ইসলাম পোস্টাল ভোট ছাড়া ১০৫৪৬২ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ড. মনিরুজ্জামান ৮৪৪২৪ ভোট পেয়েছেন।

ফরিদপুর-২ আসনে শামা ওবায়েদ বিজয়ী : বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত চূড়ান্ত ফলাফলে ফরিদপুর-২ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শামা ওবায়েদ ইসলাম ৭,৫৭৮ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৫৩ হাজার ৭৯৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোটের রিকশা প্রতীকে মাওলানা শাহ্ আকরাম আলী পেয়েছেন ৪৬ হাজার ৩৫৯ ভোট।

বাঁশখালীতে বিপুল ভোটে বিজয়ী জামায়াত : চট্টগ্রাম-১৬ বাঁশখালী আসনে ১১ দলীয় জোটের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীক প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা জহিরুল ইসলাম বেসরকারিভাবে জয়ী হন। তিনি ৮৯ হাজার ৮৬১ ভোট পেয়ে অধ্যক্ষ জহিরুল ইসলাম বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম চৌধুরী পাপ্পা (ধানের শীষ) প্রতীকে ৮২ হাজার ২১০ ভোট এবং স্বতন্ত্র থেকে বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী লিয়াকত আলী (ফুটবল) প্রতীকে পেয়েছেন ৫৪ হাজার ৯৪৯ ভোট।

যশোর-১ আসনে জামায়াতের মাওলানা আজিজুর রহমান বিজয়ী : যশোর-১ আসনে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মাওলানা আজিজুর রহমান ১ লাখ ১৮ হাজার ২৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী আলহাজ নুরুজ্জামান লিটন পেয়েছেন ৯২ হাজার ৯০৯ ভোট। প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে যশোর ১ শার্শা আসনে সকাল থেকে উৎসবমুখর পরিবেশে ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। সকালের দিকে ভোটারের উপস্থিতি কম থাকলেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটারদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। তবে সকাল থেকেই নারী ভোটার উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিল।

এ উপজেলার বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে ঘুরে দেখা দেখা গেছে ভোটার, উপস্থিতি সন্তোষজনক। তবে নারী ভোটারের উপস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিল। ভোট গ্রহণ চলাকালীন সময়ে উপজেলার কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি। রাত ৮টার দিকে বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে ফলাফল আসার পর শার্শা উপজেলা সহকারী রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় থেকে বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

বরিশাল-১ আসনে ধানের শীষের জয় : বরিশাল-১ (গৌরনদী-আগৈলঝাড়া) আসনে বেসরকারি ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন বিজয়ী হয়েছেন।

গতকাল রাত সাড়ে ১০টার দিকে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে বেসরকারি এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়।

ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন পেয়েছেন ৫৮ হাজার ৬৫০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো: কামরুল ইসলাম খান পেয়েছেন ২৯ হাজার ৯৪৪ ভোট।

এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী ফুটবল প্রতীকে আবদুস সোবাহান পেয়েছেন ২০ হাজার ৮৫৭ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকে মো: রাসেল সরদার পেয়েছেন ৩ হাজার ৫ ভোট। জাতীয় পার্টি (জেপি) মনোনীত বাইসাইকেল প্রতীকে ছেরনিয়াবাত সেকান্দার আলী পেয়েছেন ১ হাজার ৯৫ ভোট। ফলাফল অনুযায়ী, এ আসনে মোট বৈধ ভোট পড়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫৫১টি। বাতিল ভোট রয়েছে ২ হাজার ৫৭টি। সর্বমোট প্রদত্ত ভোট ১ লাখ ১৫ হাজার ৬০৮।

গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ২৮ হাজার ১৯৯ জন। এর মধ্যে গৌরনদী উপজেলায় ১ লাখ ৮৬ হাজার ৬৯৪ জন এবং আগৈলঝাড়া উপজেলায় ১ লাখ ৪১ হাজার ৫০৫ জন ভোটার রয়েছেন।

ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতের ব্যারিস্টার আরমান বিজয়ী : ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ব্যারিস্টার আহমদ বিন কাশেম আরমান বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। এ আসনে মোট কেন্দ্র ১৭৩। গতকাল রাত ১১টায় সব কেন্দ্রের ফলাফল পাওয়া যায়। এতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ব্যারিস্টার আরমান ৯৬ হাজার ৭৮৪ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী সানজিদা ইসলাম তুলি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ৮০ হাজার ৯২৭ ভোট। ব্যারিস্টার আরমান ১৫ হাজার ৮৫৭ ভোটের ব্যবধানে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। ব্যারিস্টার আরমান আওয়ামী ফ্যাসিবাদী আমলে প্রায় আট বছর ধরে গুমের শিকার ছিলেন। তিনি বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শহীদ মীর কাসেম আলীর ছেলে।

ফরিদপুর-৪ আসন : বিএনপির বাবুল বিজয়ী : বেসরকারিভাবে প্রাপ্ত চূড়ান্ত ফলাফলে ফরিদপুর-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী শহিদুল ইসলাম বাবুল ১৬ হাজার ৩৬১ ভোট বেশি পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ৬০ হাজার ৭৭৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে মাওলানা ছরোয়ার হুসাইন পেয়েছেন ৪৪ হাজার ৪১৪ ভোট।

ঝালকাঠি-১ আসনে মো: রফিকুল ইসলাম জামাল বিজয়ী

ঝালকাঠি-১ (রাজাপুর-কাঁঠালিয়া) আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো: রফিকুল ইসলাম জামাল ৪৪৭০৩ ভোট পেয়ে নির্বাচিত।

কুষ্টিয়া-৪ জামায়াত প্রার্থী আফজাল হোসেন বিজয়ী

কুষ্টিয়া-৪ (কুমারখালী-খোকসা) আসনে জামায়াত প্রার্থী আফজাল হোসেন ১ লাখ ৪৫ হাজার ৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। নিকটতম বিএনপির প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী ১ লাখ ৩৯ হাজার ৫৬ ভোট পেয়েছেন।

সিলেট-৬ বিএনপি প্রার্থী এমরান চৌধুরী বিজয়ী

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৬ গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার আসনে ১৯২টি ভোট কেন্দ্রে ১ লাখ ৮ হাজার ৬২২ ভোট পেয়ে জামায়াত প্রার্থী মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিনকে পরাজিত করে বেসরকারি ভাবে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী (ধানের শীষ)।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ১১ দলীয় ঐক্য জোটের জামায়াতের মনোনীত প্রার্থী কেন্দ্রীয় জামায়াত নেতা মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন (দাঁড়িপাল্লা) পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৭৪৮ ভোট। তার নিকটতম স্বতন্ত্র প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম (হেলিকপ্টার) পেয়েছেন ২৩ হাজার ৬৩৪ ভোট। গণঅধিকার পরিষদের মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট জাহিদুর রহমান (ট্রাক) পেয়েছেন ১ হাজার ৩৭৮ ভোট ও জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী আব্দুন নূর (লাঙ্গল) পেয়েছেন ১ হাজার ১৩৪ ভোট।

বরিশাল-২ বিএনপির এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু বিজয়ী

বরিশাল- ২ (উজিরপুর-বরিশাল) আসনে বিএনপির প্রার্থী এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৭০ হাজার ৫৪৮ ভোট বেশি পেয়ে বেসরকারি ফলাফলে বিজয়ী হয়েছেন। ধানের শীষ প্রতীকে এস সরফুদ্দিন আহমেদ সান্টু পেয়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ২৮০ ভোট এবং তার নিকটতম দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মাস্টার আব্দুল মান্নান পেয়েছেন ৭০ হাজার ৭৩২ ভোট।

মৌলভীবাজার-১ আসনে বিএনপির মিঠু বিজয়ী

মৌলভীবাজার-১ (বড়লেখা ও জুড়ী) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। ১১৩টি ভোটকেন্দ্রের প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, মিঠু ধানের শীষ প্রতীকে ৯৭ হাজার ৫৩৪ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী, ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী মাওলানা মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম পেয়েছেন ৭৯ হাজার ৬১৯ ভোট।

মৌলভীবাজার-১ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৮১৬ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭২ হাজার ৯৯৮ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৬৪ হাজার ৮১৬ জন।

নওগাঁ-৬ আসনে নির্বাচিত শেখ রেজাউল ইসলাম রেজু

নওগাঁ-৬ আসনে বেসরকারি ফলাফলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির শেখ রেজাউল ইসলাম রেজু ১ লাখ ৮ হাজার ৭০ ভোট পেয়ে এমপি নির্বাচিত হলেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী খবিরুল ইসলাম (দাঁড়িপাল্লা) প্রতীক নিয়ে ভোট পেয়েছেন ৯৫ হাজার ৮৮৬। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিরতিহীনভাবে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত অবাধ শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়। এই আসনে ১১৫ ভোট কেন্দ্রে মোট ভোটার ছিলেন ৩ লাখ ৪১ হাজার ৪৫৬। এই আসনে মোট ৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

ভালুকায় বিএনপির ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু বিজয়ী

বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণের পর থেকেই বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে প্রিজাইডিং কর্মকর্তারা উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো: ফিরোজ হোসেনের কাছে ফলাফল জমা দেন। সেখানে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ফলাফল সংগ্রহ ও পরিবেশন করে।

১০৭টি কেন্দ্রের ফলাফলে দেখা যায় ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু ১ লাখ ১০ হাজার ২১৪ ভোট পেয়েছেন। তার নিকটতম স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম পেয়েছেন ৬৫ হাজার ৫৯১ ভোট। ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চু ৪৪ হাজার ৬২৩ ভোটে বিজয়ী হোন। এ ছাড়াও গণভোটে ভোটাররা হ্যাঁ ভোট দেন ১ লাখ ১৭ হাজার ২৯৮ এবং না ভোট দেন ৫৮ হাজার ৮৫১।

টাঙ্গাইল-৮ আসনে জয়ী বিএনপির আহমেদ আযম খান

টাঙ্গাইল-৮ (সখীপুর-বাসাইল) আসনে বেসরকারি ফলাফলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছের কেন্দ্রীয় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান। তিনি ১ লাখ ১৩ হাজার ২১৪ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী স্বতন্ত্র প্রার্থী শিল্পপতি সালাউদ্দিন আলমগীর রাসেল (হরিণ প্রতীক) পেয়েছেন ৭৬ হাজার ৪৪৮ ভোট। এ আসনে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক মাওলানা শফিকুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৫৩,৬২১ ভোট।

গাইবান্ধা-১ সুন্দরগঞ্জে নির্বাচিত জামায়াতের অধ্যাপক মাজেদুর

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯, গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) সংসদীয় আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অধ্যাপক মাজেদুর রহমান। তিনি ১২৩টি ভোট কেন্দ্রে (দাঁড়িপাল্লা) প্রতীক ১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৯৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন । তার নিকট তম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির প্রার্থী অধ্যাপক ডা: খন্দকার জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মদ আলী, (ধানের শীষ) পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৭৩৮ ভোট।

কুষ্টিয়া-১ বিএনপির রেজা আহমেদ বিজয়ী

কুষ্টিয়া-১ দৌলতপুর আসনে বিএনপির প্রার্থী ধানের শীষের প্রতীকে রেজা আহমেদ ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দাঁড়িপাল্লার প্রতীকে মাওলানা বেলাল উদ্দীন ৮৫ হাজার ৮৫ হাজার ভোট পেয়েছেন।

বিজয়ের পর তৎকালীন প্রতিক্রিয়ায় নির্বাচিত প্রার্থী রেজা আহমেদ (বাচ্চু মোল্লা) বলেন, এ বিজয় মাটি ও মানুষের বিজয়। দৌলতপুর আপামর জনগণের বিজয়। তাই দৌলতপুরের মানুষের পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করব।

কুষ্টিয়া-২ জামায়াত প্রার্থী আব্দুল গফুর বিজয়ী

কুষ্টিয়া-২ (ভেড়ামারা-মিরপুর) আসনে জামায়াত প্রার্থী আব্দুল গফুর ১ লাখ ৮৯হাজার ৮১৬ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রার্থী বিএনপির ব্যারিস্টার রাগিব রউফ চৌধুরী ১ লাখ ৪৩ হাজার ২৮ ভোট পান। বেসরকারি ফলাফলে এ তথ্য জানা যায়।

নীলফামারী-১ আসনে জামায়াতের আব্দুস সাত্তার জয়ী

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে নীলফামারী-১ (ডোমার-ডিমলা) আসনে ১২ দলীয় জোট মনোনীত প্রার্থী ও নীলফামারী জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।

বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় আসনের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তারা ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: ইমরানুজ্জামান এবং ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শায়লা সাঈদ তন্বী বেসরকারিভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করেন।

বেসরকারি ফলাফল অনুযায়ী, আসনের ১৫৪টি কেন্দ্রে অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুস সাত্তার পেয়েছেন ১ লাখ ৫০ হাজার ৮২৪ ভোট।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি-জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব মাওলানা মনজুরুল ইসলাম আফেন্দী খেজুর গাছ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ১৩ হাজার ৩৭৪ ভোট।

কুড়িগ্রামে ৪টি আসনে জামায়াতের প্রার্থীরা বিজয়ী

কুড়িগ্রাম-১ আসনে জামায়াত প্রার্থী আনোয়ারুল ইসলাম, ১৭২৯২ ভোটে, কুড়িগ্রাম-২ আসনে ড. আতিক মুজাহিদ (এনসিপি) ১০৪০০ ভোটে, কুড়িগ্রাম-৩ আসনে জামায়েত প্রার্থী ব্যারিস্টার মাহবুবুল আলম সালেহি ২৭৬৩১ ভোটে, এবং কুড়িগ্রাম-৪ আসনে ২০ হাজার ৯৯৮ ভোট বেশি পেয়ে জামায়াত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মোট ১৩০টি কেন্দ্রের মধ্যে ১৩০টি কেন্দ্র গণনা সম্পন্ন হয়েছে। গণনা শেষে দেখা যায়, দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৯৪৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী আজিজুর রহমান পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৯৪৫ ভোট।

দুই প্রার্থীর মধ্যে ভোটের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে ২০ হাজার ৯৯৮। এ ব্যবধানে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান মোস্তাক বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।

ঝিনাইদহের ১ ও ২ আসনে যারা জয়ী

ঝিনাইদহ-১ আসনে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৩৮১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবেব বিএনপির মো: আসাদুজ্জামান নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবু সালেহ মো: মতিয়ার রহমান পেয়েছেন ৫৭ হাজার ৫৫ ভোট।

ঝিনাইদহ-২ আসনে ১ লাখ ৯৫ হাজার ৭০ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আলী আজম মো: আবুবকর নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মো: আবদুল মজিদ পেয়েছেন ১ লাখ ৭৫ হাজার ৯৮৪ ভোট।

লালমনিরহাট ৩টি সংসদীয় আসনে ধানের শীষের প্রার্থীর জয়

লালমনিরহাট-১, ২ ও ৩ সংসদীয় আসনে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়লাভ হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাত ১১টায় রিটার্নিং অফিসারের কার্যালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রাপ্ত ফলাফলে জানা গেছে, লালমনিরহাট-১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনে ৯২ হাজার ৭৯৮ ভোট পেয়ে ধানের শীষের প্রার্থী ব্যারিস্টার হাসান রাজিব প্রধান বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের আনোয়ারুল ইসলাম রাজু দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৮৫ হাজার ৪৮৯ ভোট।

লালমনিরহাট-২ (আদিতমারী-কালীগঞ্জ) আসনে বিএনপি প্রার্থী রোকন উদ্দিন বাবুল এক লাখ ২৩ হাজার ৩৪৩ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট ফিরোজ হায়দার লাভলু দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন এক লাখ ১৬ হাজার ২৩৬ ভোট।

লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনে বিএনপির প্রার্থী অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু এক লাখ ৪০ হাজার ১০৫ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবু তাহের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৩৮৭ ভোট।

বরিশাল-১ আসনে ধানের শীষের জয়

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বরিশাল-১ (গৌরনদী–আগৈলঝাড়া) আসনে বেসরকারি ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন বিজয়ী হয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) রাত ১১টার দিকে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকে জহির উদ্দিন স্বপন পেয়েছেন ৯৯ হাজার ৪১৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মো. কামরুল ইসলাম খান পেয়েছেন ৪৫ হাজার ১৪০ ভোট।

এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুস সোবাহান (ফুটবল) পেয়েছেন ৪৩ হাজার ৮০৮ ভোট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মনোনীত হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী মো. রাসেল সরদার পেয়েছেন ৬ হাজার ৭৬০ ভোট। জাতীয় পার্টি (জেপি) মনোনীত বাইসাইকেল প্রতীকের প্রার্থী সেকান্দার আলী পেয়েছেন ১ হাজার ৭২৫ ভোট।

ফলাফল অনুযায়ী, দুই উপজেলায় মোট বৈধ ভোট পড়েছে ১ লাখ ৯৬ হাজার ৮৫১টি। বাতিল ভোট ৩ হাজার ৭৫৭টি। সর্বমোট প্রদত্ত ভোটের সংখ্যা ২ লাখ ৬০৮।

মোট ভোটারের মধ্যে ৬২ দশমিক ০১ শতাংশ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছেন। এর মধ্যে গৌরনদী উপজেলায় ৬২ দশমিক ০১ শতাংশ এবং আগৈলঝাড়া উপজেলায় ৬১ দশমিক ৭১ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে। পাশাপাশি এ আসনে প্রাপ্ত পোস্টাল ব্যালটের সংখ্যা ৩ হাজার ২৬৭টি।

গৌরনদী ও আগৈলঝাড়া উপজেলা নিয়ে গঠিত বরিশাল-১ আসনে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়।

ময়মনসিংহে ৮টিতে বিএনপি, ১টিতে জামায়াত ও ১টিতে ১১ দলীয় জোট ও ১টিতে স্বতন্ত্র বিজয়ী

ময়মনসিংহে ১১টি সংসদীয় আসনের মধ্যে ৬টির বেসরকারি ফলাফলে বিএনপি ৮টি, বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী ১টি এবং একটিতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। ময়মনসিংহ-১ হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া আসনে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেল, ময়মনসিংহ-২ ফুলপুর-তারাকান্দা আসনে খেলাফত মজলিসের মোহাম্মদুল্লাহ, ময়মনসিংহ-৩ গৌরীপুর আসনে বিএনপির ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেইন, ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনে বিএনপির আবু ওয়াহাব আকন্দ, ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনে বিএনপির জাকির হোসেন বাবলু, ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ কামরুল হাসান মিলন, ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনে বিএনপির ডা: মাহবুবুর রহমান লিটন, ময়মনসিংহ-৮ আসনে বিএনপির প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাছেদ বাবু, ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে বিএনপির ইয়াসের খান চৌধুরী, ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে বিএনপির মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু এবং ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে বিএনপির ফখরউদ্দিন আহমেদ বাচ্চু বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন।

ময়মনসিংহ-১ (হালুয়াঘাট-ধোবাউড়া) আসনে বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী সালমান ওমর রুবেল ১,০৭,২৪১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম বিএনপির সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স পেয়েছেন ১,০০,৭৩৬ ভোট।

ময়মনসিংহ-২ (তারাকান্দা-ফুলপুর) আসনে ১৭৪ কেন্দ্রের ফলাফলে খেলাফত মজলিসের মুহাম্মদুল্লাহ (রিক্সা) প্রতীকে ৮০৭৭১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির মোতাহার হোসেন তালুকদার ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৫৪৫২২ ভোট।

ময়মনসিংহ-৩ (গৌরীপুর) আসনে বিএনপির ইঞ্জিনিয়ার এম ইকবাল হোসেইন ধানের শীষ প্রতীকে ভোট ৭৭,১৫২ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র আহাম্মদ তায়েবুর রহমান হিরণ ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৬৪,৫৩৬ ভোট।

ময়মনসিংহ-৪ (সদর) আসনে বিএনপির আবু ওয়াহাব আকন্দ ধানের শীষ প্রতীকে ১,৭৭,৮৯১ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ কামরুল আহসান এমরুল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১,৬৯,৫৮০ ভোট।

ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনে বিএনপির জাকির হোসেন বাবলু ধানের শীষ প্রতীকে ১,২৭,৯১৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর অ্যাডভোকেট মো: মতিউর রহমান আকন্দ দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৯,৯৬৬ ভোট।

ময়মনসিংহ-৬ (ফুলবাড়িয়া) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মুহাম্মদ কামরুল হাসান মিলন দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ৭৫,৯৪৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আখতার সুলতানা ফুটবল প্রতীকে পেয়েছেন ৫২,৬৬৯ ভোট। স্বতন্ত্র প্রার্থী জসিম উদ্দিন ঘোড়া প্রতীকে পেয়েছেন ৫১,২৩৪ ভোট এবং বিএনপির মো: আখতারুল আলম ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ৪৮,৯৯৪ ভোট।

ময়মনসিংহ-৭ (ত্রিশাল) আসনে বিএনপির ডা: মাহবুবুর রহমান লিটন ধানের শীষ প্রতীকে ৯৮,৫৭৯ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম জামায়াতে ইসলামীর মো: আছাদুজ্জামান সোহেল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৮২,৯৬২ ভোট।

ময়মনসিংহ-৮ (ঈশ্বরগঞ্জ) আসনের ৯২টি কেন্দ্রের মধ্যে ৮১টি কেন্দ্রের ফলাফলে বিএনপির প্রকৌশলী লুৎফুল্লাহেল মাজেদ বাবু ধানের শীষ প্রতীকে ৯৫,৬১৯ ভোট পেয়ে এগিয়ে আছেন। নিকটতম এলডিপির মো: আওরঙ্গজেব বেলাল ছাতা প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৪০৮৮৭ টি।

ময়মনসিংহ-৯ (নান্দাইল) আসনে বিএনপির ইয়াসের খান চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে ৮৪,৮৮৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম ডেভেলপমেন্ট পার্টির একেএম আনোয়ারুল ইসলাম ফুলকপি প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ৬৬,৮৯৮ ভোট।

ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে বিএনপির মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান বাচ্চু ধানের শীষ প্রতীকে ৭৪,৬৩৮ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আবু বকর সিদ্দিকুর রহমান হাঁস প্রতীকে ৬৬,৪২৪ ভোট এবং জামায়াতে ইসলামীর মো: ইসমাইল হোসেন সোহেল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৬৪,১৬৯ ভোট।

ময়মনসিংহ-১১ (ভালুকা) আসনে বিএনপির ফখরউদ্দিন আহমেদ বাচ্চু ধানের শীষ প্রতীকে ১,১০,২১৪ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী মো: মোর্শেদ আলম হরিণ প্রতীকে পেয়েছেন ৬৫,৫৯১ ভোট এবং এনসিপির জাহিদুল ইসলাম শাপলা কলি প্রতীকে ভোট পেয়েছেন ১৬,৬৭৫টি।