কমেছে ডিমের দাম, মাছ মুরগির বাজার স্থিতিশীল
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
শীত মৌসুমে নিত্যপণ্যের বাজারে দামের ওঠানামার মধ্যে ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। সরবরাহ ভালো থাকায় ডিমের চাহিদা কমেছে, ফলে খুচরা বাজারে দাম কমে এসেছে। তবে এই স্বস্তির বিপরীতে মাছ ও মুরগির বাজারে তেমন কোনো পরিবর্তন নেই। আগের কয়েক সপ্তাহের মতোই মাছের দাম চড়া রয়েছে, আর মুরগির বাজার মোটামুটি স্থিতিশীল আছে।
গতকাল রাজধানীর মিরপুর ও কাজিপাড়া এলাকার বিভিন্ন বাজার ঘুরে এবং ক্রেতা-বিক্রেতাদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, বর্তমানে ফার্মের ডিম প্রতি ডজন ১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে; যা মাসখানেক আগেও ১২০ টাকা ছিল। সেই সাথে সাদা ডিম ১২০ থেকে ১২৫ টাকা এবং দেশী হাঁসের ডিম ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় মিলছে।
ডিম ব্যবসায়ীরা বলছেন, শীতকালে শাকসবজি ও দেশী মাছের সরবরাহ বাড়ায় ডিমের ওপর চাপ কমে। ফলে দামও কিছুটা নামছে। পাইকারি বাজারে প্রতিটি ডিমের দাম বর্তমানে আট টাকার নিচে নেমে এসেছে।
মিরপুর-৬ বাজারের খুচরা বিক্রেতা হৃদয় মিয়া বলেন, ডিমের দাম কমলেও বিক্রি খুব একটা বাড়েনি। বাজারে এখন মাছ ও সবজির সরবরাহ ভালো থাকায় অনেকেই ডিম কম কিনছেন। সে কারণে চাহিদানুযায়ী বিক্রি হচ্ছে না।
এ দিকে গোশতের বাজারে গরু ও খাসির দামে বড় কোনো পরিবর্তন নেই। গরুর গোশত আগের মতোই ৭৫০ থেকে ৯৫০ টাকা, খাসির গোশত এক হাজার ২০০ টাকা কেজি দামে বিক্রি হচ্ছে। সপ্তাহ বা মাসের ব্যবধানে এ দাম অপরিবর্তিত থাকলেও ক্রেতারা বলছেন, অপরিবর্তিত মানে স্থিতিশীল নয়; এখনকার এই দামই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে।
অন্য দিকে মুরগির বাজারে দামে কোনো বড় পরিবর্তন নেই। গতকাল ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। সোনালি মুরগির দাম ২৭০ থেকে ২৮০ টাকা কেজি। বিক্রেতারা বলছেন, মুরগির সরবরাহ ও চাহিদা- দুটোই প্রায় সমান থাকায় দাম আগের জায়গাতেই স্থির রয়েছে।
কাজীপাড়া কাঁচাবাজারের মুরগি বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, শীতের কারণে খামারিরা মুরগি দীর্ঘদিন ধরে রাখতে চান না। নিয়মিত বাজারে মুরগি আসছে। আবার বড় ধরনের চাহিদাও নেই। তাই দামে তেমন কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।
তবে ক্রেতাদের কেউ কেউ মনে করছেন, মুরগির দাম আরো কমার সুযোগ আছে। বাজারে মুরগি কিনতে আসা বেসরকারি চাকরিজীবী আবদুল ওয়াদুদ বলেন, বছরের শুরুতে ব্রয়লার ১৫০-১৬০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। তখন তো ব্যবসায়ীরা লোকসানে ছিলেন না। এখন দাম কমছে না কেন, সেটি বোঝা যায় না। দোকানে তো মুরগির ঘাটতি চোখে পড়ে না।
মাছের বাজারে দেখা গেছে, আগের কয়েক সপ্তাহের মতোই দাম চড়া রয়েছে। সরবরাহ ভালো থাকলেও দামে তেমন কোনো স্বস্তি নেই। কোরাল মাছ ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা, আইড় ৬০০ থেকে ৭৫০ টাকা কেজি দামে বিক্রি হচ্ছে। টেংরা ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা, সরপুঁটি ৩০০ থেকে ৪৫০ টাকা এবং শিং মাছ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। রুই মাছ ও কাতলা মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা কেজি দরে।
চাষের মাছের মধ্যে পাঙ্গাশ ও সিলভার কার্প ২০০ থেকে ২৮০ টাকা, বড় সাইজের তেলাপিয়া ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি।। সামুদ্রিক মাছের মধ্যে বড় আকারের চিংড়ি ৭৫০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা এবং ছোট চিংড়ি এক হাজার থেকে এক হাজার ২০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
এ দিকে বাজারে ইলিশের দামও চড়াই। এক কেজি সাইজের ইলিশ দুই হাজার ২০০ থেকে দুই হাজার ৫০০ টাকা এবং দুই কেজির বেশি ওজনের ইলিশ দুই হাজার ৬০০ থেকে তিন হাজার টাকা কেজি দামে বিক্রি হচ্ছে।
বেসরকারি চাকরিজীবী এক ক্রেতা আল মামুন বলেন, মাছের বাজারে দরদাম করার সুযোগ প্রায় নেই। যে দাম বলা হয়, তা দিয়েই কিনতে হয়। ডিমের দাম কমেছে, সেটি ভালো। কিন্তু মাছের দামে কোনো স্বস্তি না থাকায় বাজেট মেলানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
বাজার পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, ডিমের ক্ষেত্রে সরবরাহ বাড়া ও বিকল্প পণ্যের উপস্থিতি দামে সরাসরি প্রভাব ফেলেছে। তবে মুরগির বাজারে সেই চাপ তৈরি হয়নি। ফলে ডিমে সাময়িক স্বস্তি মিললেও মুরগির বাজারে ক্রেতারা এখনো অপেক্ষায় রয়েছেন, দাম কমার আশায়।