রিটার্নিং অফিসার থেকে প্রতীক নিয়ে প্রার্থীরা

আইনশৃঙ্খলা নিয়ে শঙ্কা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

  • আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনের দায় প্রার্থীদের ওপরই বর্তাবে: ইসি

  • পরিবেশ ঠিক রাখায় প্রার্থীদেরও ভূমিকা চায় আইনশৃঙ্খলাবাহিনী

নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রার্থীরা বলেছেন, আমরা আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কার মধ্যে আছি। এখানে কোনো ধরনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নেই। বড় দলগুলো আচরণবিধি মানছে না। অথচ এসব নিয়ে ইসির কোনো মাথাব্যথা নেই। প্রার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে যদি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন করতে হয়। আর কোনো প্রার্থীর কর্মীরা যদি আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন করে, তাহলে তার দায় প্রার্থীদের ওপর বর্তাবে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা-১৫ ও ১৩-এর রিটার্নিং কর্মকর্তা মো: ইউনুচ আলী। আইনশৃঙ্খলাবাহিনীর দায়িত্বে নিয়োজিত কর্মকর্তারা বলেছেন, পরিবেশ ও নিরাপত্তা ঠিক রাখা কেবল নিরাপত্তাবাহিনীর না, প্রার্থীদেরও ভূমিকা রয়েছে। আমরা প্রত্যাশা করব তারা আচরণ বিধি মেনে চলবেন।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (ইটিআই) ভবনে গতকাল প্রতীক বরাদ্দ ও প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সাথে মতবিনিময় সভায় প্রার্থীদের বক্তব্যের জবাবে রিটার্নিং কর্মকর্তা এই মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন- ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতের আমিরের পক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মো: মোবারক হোসাইন, বিএনপির প্রার্থী মো: শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন, ডা: আহমেদ সাজেদুল হক, ঢাকা-১৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সোহেল রানা, ইনসানিয়াত বিপ্লবের ফাতেমা আক্তার মুনিয়া, বিএনপির প্রার্থী ববি হাজ্জাজ, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান প্রমুখ। এ ছাড়া মোহাম্মদপুর থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার জুয়েল রানা, সেনাবাহিনীর মেজর নাফিসা, সেনাবাহিনীর মেজর আবু সালেহ মো: ইয়াহিয়া, মিরপুরের পুলিশের এডিসি ফারজানা। গতকাল ২৯৮ আসনে মোট এক হাজার ৯৭২ জন প্রার্থীকে প্রতীক বরাদ্দ করা হলো।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৫ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী দলের আমির ডা: শফিকুর রহমানের পক্ষে প্রতীক দাঁড়িপাল্লা গ্রহণ করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মো: মোবারক হোসাইন। ধানের শীষের প্রতীক নেন প্রার্থী শফিকুল ইসলাম খান নিজেই।

রিটার্নিং কর্মকর্তা মো: ইউনুচ আলী বলেন, আগামীকাল থেকে যেহেতু নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা শুরু হবে, আমি আশা করব আপনারা আচরণ বিধিমালা মেনে চলবেন। আপনারা আপনাদের কর্মীদেরকেও মেনে চলতে বলবেন। তারা যদি আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন করে সেটির দায় কিন্তু প্রার্থীদের ওপরই বর্তাবে। তাই আমি বলব আপনারা আচরণ বিধি মেনে চলবেন আপনাদের কর্মীদেরকেও মেনে চলতে বলবেন। তিনি বলেন, আমি বলতে চাই নির্বাচনী পরিবেশ সুন্দর রাখা কেবল নিরাপত্তাবাহিনীর ওপর নয়। প্রার্থীদেরও এই ব্যাপারে কাজ করতে হবে। অবশ্যই আচরণ বিধিমালা মেনে চলতে হবে। আর আমাদের আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ডেপ্লয়েড আছে, তারা নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করবেন।

এডিসি জুয়েল রানা বলেন, ঢাকা-১৩ আসনে পুলিশের পক্ষ থেকে দায়িত্বে থাকব আমি। এখানে কাজ করাটা চ্যালেঞ্জিং হবে। তবে কোনো অনিয়ম হবে না বলে আমি বলতে পারি। আমরা ঢাকা-১৩ আসনে কোনো ছাড় দেবো না। এ সময় প্রার্থীদের আচরণ বিধিমালা মেনে চলার অনুরোধ জানান তিনি। আমরা চাই সবাইকে নিয়ে সুন্দর একটি নির্বাচন করতে। ঢাকা-১৫ আসনের সেনাবাহিনীর মেজর নাফিসা বলেন, আমরা ২৪ ঘণ্টা ডেপ্লয়েড আছি। আপনাদের নিরাপত্তায় আমরা কাজ করব। তবে আপনাদের কাছে অনুরোধ করব আপনারা আচরণ বিধিমালা মেনে চলবেন, কোনো ধরনের মব সৃষ্টি করবেন না, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবেন না। আমরা মিরপুর ক্যাম্পে (ইনডোর স্টেডিয়ামে) আপনাদের নিরাপত্তায় অবস্থান করছি।

ঢাকা-১৩ আসনের সেনাবাহিনীর মেজর আবু সালেহ মো: ইয়াহিয়া বলেন, আসন্ন নির্বাচন সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে হবে সেটি আমরা প্রত্যাশা করি। তবে আমি বলতে চাই পরিবেশ ও নিরাপত্তা ঠিক রাখা কেবল নিরাপত্তাবাহিনীর নয়, প্রার্থীদেরও ভূমিকা রয়েছে। আমরা প্রত্যাশা করব তারা আচরণ বিধি মেনে চলবেন। এতে করে আমরা অবাধ, সুষ্ঠু ও সুন্দর একটি নির্বাচন করতে পারব, যেটা সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা।

প্রতীক গ্রহণের আগে দেয়া বক্তব্যে মোবারক হোসাইন বলেন, আচরণবিধি কোনো ধরনের লঙ্ঘন হলে বা কোনো প্রার্ধী লঙ্ঘন করলে তার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাচনী কর্মকর্তা ও বিভিন্ন টিম রয়েছে। প্রার্থীর কর্মীদের মারধর করার দায়িত্ব কি অপর প্রার্থীর কর্মীদের? গতকাল পীরেরবাগে জামায়াতের ১৬ জনকে আহত করা হয়েছে, যারা এখন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি বলেন, আমরা একটা ভালো, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন চাই। সেই ধরনের নির্বাচনের অপেক্ষায় আমরা। তিনি বলেন, যে আচরণবিধি দেয়া হয়েছে তা হলো হাত-পা বেঁধে নদীতে ফেলে সাঁতরাতে বলা।

ঢাকা-১৫ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী শরিফুল ইসলাম খান মিল্টন অভিযোগে বলেছেন, নির্বাচনে অন্য প্রার্থীরা আচরণবিধি লঙ্ঘন করলেও নির্বাচন কমিশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বিশেষ করে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা নিয়ম ভেঙে প্রচার চালাচ্ছেন এবং সাধারণ ভোটারদের নাজেহাল করছেন বলে দাবি করেন তিনি।

অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা বলেন, আচরণবিধি ভঙ্গ করা হচ্ছে, রিটার্নিং কর্মকর্তাকে বললেও কোনো কাজ হচ্ছে না। আপনারা নিজেরাই আচরণবিধি পালন করেননি। বলেছেন প্রার্থীসহ তিনজনকে আসতে, বড় দলগুলো এটা মানেনি। আপনারাও কিছু বলেননি তাদেরকে। যত আচরণবিধি আইন ছোট দলের প্রতি। তারা বলেন, নির্বাচন আদৌ হবে কি না- এটা ভোটারদের বলাটা ইসির ব্যর্থতা। জামায়াতের কর্মীরা আচরণবিধি ভঙ্গ করে ২১ তারিখের আগেই প্রচারণা চালাচ্ছে। ইসি দেখছে না।

ঢাকা-১৩ আসন

ইনসানিয়াত বিপ্লবের ফাতেমা আক্তার মুনিয়াকে আপেল, বিএনপির প্রার্থী ববি হাজ্জাজকে ধানের শীষ, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দলের মোহাম্মদ খালেকুজ্জামানকে মই, গণ অধিকার পরিষদের মিজানুর রহমানকে ট্রাক, খেলাফত মজলিসের মো: মামুনুল হককে রিকশা, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির মো: শাহাবুদ্দিনকে রকেট, বাংলাদেশ মুসলিম লীগের শাহরিয়ার ইফতেখারকে হ্যারিকেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ মো: রবিউল ইসলামকে ঘুড়ি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী সোহেল রানাকে কলস প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

ঢাকা-১৫ আসন

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির আহাম্মদ সাজেদুল হককে কাস্তে, জনতার দলের খান শোয়েব আমানুল্লাহকে কলম, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির মোবারক হোসেনকে একতারা, বাংলাদেশ জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের মো: আশফাকুর রহমানকে মোটরগাড়ি, আমজনতার দলের মো: নীলাদ পারভেজকে প্রজাপতি, জামায়াতে ইসলামীর আমির মো: শফিকুর রহমানকে দাঁড়িপাল্লা, বিএনপির মো: শফিকুল ইসলাম খানকে ধানের শীষ এবং জাতীয় পার্টির (জাপা) মো: শামসুল হককে লাঙ্গল প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

আইন অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। আর আজ ২২ জানুয়ারি থেকে শুরু হবে আনুষ্ঠানিক প্রচার-প্রচারণা।