দাদীর জানাজা ফেলে এডিএমের বাসায় কাজের নির্দেশ

Printed Edition

পটুয়াখালী প্রতিনিধি

সরকারি দায়িত্বের বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের (এডিএম) বাসার ব্যক্তিগত কাজ করতে বাধ্য করা এবং দাদীর মৃত্যুর দিনেও জানাজা ফেলে কাজে যোগ দেয়ার নির্দেশ দেয়ার মতো গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। পটুয়াখালীর এডিএম মোহাম্মদ তারেক হাওলাদারের বিরুদ্ধে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে এই লিখিত অভিযোগ করেছেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সংস্থাপন শাখার বেয়ারার আল মামুন রিয়াদ।

জানা যায়, ২০২৩ সালে যোগদানের পর থেকেই রিয়াদকে দিয়ে সরকারি দায়িত্বের বাইরে এডিএমের বাসার ঘর ঝাড়ু দেয়া, কাপড় ধোয়া, হাঁস-মুরগি দেখাশোনা ও সন্তানদের স্কুলে আনা-নেয়ার মতো ব্যক্তিগত কাজ করানো হতো। এমনকি ২০২৫ সালের মার্চে অসুস্থ হওয়ার পরও তাকে দিয়ে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা ও ছুটির দিনেও খাটানো হতো। সবচেয়ে নির্মম ঘটনাটি ঘটে গত ২৪ এপ্রিল রিয়াদের দাদী মারা যাওয়ার পর। ২৫ এপ্রিল সকালে জানাজা ও দাফনের প্রস্তুতির সময় এডিএম ফোন করে তাকে দ্রুত বাসায় কাজের জন্য ডাকেন। দাদীর মৃত্যুর কথা জানিয়ে সময় চাইলেও এডিএম ক্ষুব্ধ হয়ে লাইন কেটে দেন। পরে ২৬ এপ্রিল অফিসে গেলে রিয়াদকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হয়।

নিরুপায় হয়ে রিয়াদ গত ২৭ এপ্রিল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ জানান। এর প্রেক্ষিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ ও বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। গত ২৫ জুন জেলা প্রশাসকের কক্ষে এই তদন্ত শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তবে ভুক্তভোগী রিয়াদের অভিযোগ, তদন্ত শুরুর পর থেকেই নেজারত শাখার সহকারী নাজির সাব্বির হোসেনসহ বিভিন্ন মহল থেকে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে এবং এডিএমের পা ধরে ক্ষমা চেয়ে অভিযোগ প্রত্যাহারের চাপ দেয়া হচ্ছে; অন্যথায় দুর্গম রাঙ্গাবালী উপজেলায় বদলির হুমকিও দেয়া হয়। শুনানির দিনও তার মুঠোফোন রেখে দিয়ে কক্ষ তল্লাশি করা হয়।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত এডিএম তারেক হাওলাদারের মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্তের দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসক এবং বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ জানিয়েছেন, বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় এ মুহূর্তে কোনো মন্তব্য করার সুযোগ নেই; তদন্ত শেষে প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে।