শর্তের বেড়াজালে সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ!

কাওসার আজম
Printed Edition

  • সংবিধান সংস্কারে গঠিত বিশেষ কমিটিতে নাম না দিলে সভাপতির পদ না দেয়ার অভিযোগ
  • সরকারি হিসাব কমিটি, প্রিভিলেজ কমিটি, অনুমিত হিসাব কমিটি ও সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটিসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদ আসন অনুপাতে বিরোধী দল থেকে নির্বাচনের কথা
  • জুলাই সনদে বিএনপিসহ ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোট এ বিষয়ে একমত হলেও বাস্তবায়ন নিয়ে টানাপড়েন

সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদ বণ্টন নিয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে নতুন করে রাজনৈতিক টানাপড়েন শুরু হয়েছে। ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’-এ ক্ষমতাসীন বিএনপিসহ ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোট বিরোধী দলকে আসন সংখ্যানুপাতে সংসদীয় কমিটির সভাপতি করার বিষয়ে একমত হলেও সেই ঐকমত্যের বাস্তবায়ন এখন অনিশ্চয়তার মুখে। বিরোধী দলের অভিযোগ, সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত বিশেষ কমিটিতে প্রতিনিধি না দেয়াকে কেন্দ্র করে সরকার সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ বণ্টনকে শর্তযুক্ত করছে। বিশেষ কমিটিতে নাম না দিলে আসন অনুপাতে সভাপতি পদ দেয়া হবে না- সরকারের পক্ষ থেকে এমন বার্তা দেয়া হয়েছে বলে দাবি তাদের। ফলে যে সংস্কারকে জুলাই সনদে রাজনৈতিক ঐকমত্যের অন্যতম প্রতীক হিসেবে দেখানো হয়েছিল, সেটিই এখন সরকার ও বিরোধী দলের পারস্পরিক আস্থার পরীক্ষায় পরিণত হয়েছে।

৩০ দলের ঐকমত্য, বাস্তবায়নে শর্ত

ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে দীর্ঘ সংলাপের পর প্রণীত হয় ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’। এতে মোট ৮৪টি ধারা রয়েছে। বেশ কিছু ধারায় ক্ষমতাসীন বিএনপি নোট অব ডিসেন্ট দিলেও সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সংক্রান্ত ২৪ নম্বর ধারায় বিএনপিসহ ৩০টি রাজনৈতিক দল ও জোট একমত হয়েছে। সনদের ওই ধারায় সরকারি হিসাব কমিটি, প্রিভিলেজ কমিটি, অনুমিত হিসাব কমিটি ও সরকারি প্রতিষ্ঠান কমিটির সভাপতি পদসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি পদ সংসদে আসন সংখ্যানুপাতে বিরোধী দলের মধ্য থেকে নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে। বিষয়টি স্থায়ীভাবে সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও রয়েছে। কিন্তু রাজনৈতিক ঐকমত্যের এ জায়গাতেই এখন দেখা দিয়েছে বাস্তবায়নগত জটিলতা।

বিরোধী দলের অভিযোগ, সংবিধান সংশোধনের জন্য সরকার যে বিশেষ কমিটি করেছে, তাতে তারা প্রতিনিধি না দেয়ায় এখন সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদকে ওই কমিটিতে অংশগ্রহণের সাথে যুক্ত করা হচ্ছে। বিরোধী দলকে বলা হচ্ছে, বিশেষ কমিটিতে নাম না দিলে আসনসংখ্যানুপাতে সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ দেয়া হবে না।

বিরোধীদলীয় হুইপ ও সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, সরকার শর্তের জালে বিরোধী দলের সংসদীয় কমিটির সভাপতির পদ আটকে রয়েছে। তিনি বলেন, আমরা সংবিধান সংস্কারের পক্ষে; কিন্তু সরকার সংবিধান সংশোধনে কমিটি গঠন করেছে। যাতে বিরোধী দল নাম দেবে না, তা আগেই স্পষ্ট করা হয়েছে। বিরোধী দলের একাধিক নেতা ও সংসদ সদস্য জানিয়েছেন, সরকারি দল সংসদীয় কমিটির সদস্য দেয়ার জন্য তাদের কাছে নাম চেয়েছিল। তখন জুলাই সনদ অনুযায়ী আসনসংখ্যানুপাতে সভাপতি পদ দেয়ার বিষয়টি তোলা হয়। জবাবে সরকারি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়- বিরোধী দল সংবিধান সংশোধন কমিটিতে নাম না দিলে সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ দেয়া হবে না। তবে, এ বিষয়ে সরকারদলীয় স্পষ্ট বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বিশেষ কমিটি নিয়েই মূল বিরোধ

গত ১৩ জুলাই সংবিধান সংশোধনের লক্ষ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে সভাপতি করে ১২ সদস্যের বিশেষ কমিটি গঠন করে জাতীয় সংসদ। বিরোধী দলকে ওই কমিটিতে পাঁচজনের নাম দেয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছিল। কিন্তু তারা কোনো নাম দেয়নি। বিরোধী দলের বক্তব্য, তারা জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কারের পক্ষে। তাদের আপত্তি সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে নয়; বরং সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত বিশেষ কমিটি গঠন এবং সংস্কার বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে।

বিরোধী দল প্রতিনিধি না দিলেও বিশেষ কমিটি কাজ শুরু করেছে। সরকারি দলের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিরোধী দলের প্রতিনিধি দেয়ার সুযোগ এখনো রয়েছে। তারা নাম দিলে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

সরকারি দলের একটি সূত্রের ভাষ্য, জুলাই সনদ যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেভাবেই তা বাস্তবায়ন করা হবে। সংবিধান সংশোধন কমিটি সেই বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ারই একটি অংশ। বিরোধী দলকে সংসদীয় কমিটির সভাপতি করার বিষয়টিও এর সাথে সম্পর্কিত। কিন্তু বিরোধী দল বিশেষ কমিটিতে প্রতিনিধি দিচ্ছে না। সংবিধান সংশোধনের পর জুলাই সনদের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।

৫০ কমিটির মধ্যে বিরোধীদের প্রত্যাশা

জাতীয় সংসদে বিষয়ভিত্তিক ১১টি এবং মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত ৩৯টি- মোট ৫০টি স্থায়ী কমিটি রয়েছে। জুলাই সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী চারটি গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সভাপতি বিরোধী দল থেকে হওয়ার কথা। পাশাপাশি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটিগুলোর সভাপতি পদ আসনসংখ্যানুপাতে বণ্টন হলে বিরোধী দল আরো উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কমিটির নেতৃত্ব পাবে। সব মিলিয়ে বিরোধী দলের হিসাবে অন্তত ১৪টি কমিটির সভাপতি পদ পাওয়ার কথা।

চলতি সংসদের প্রথম দুই অধিবেশন শেষে বিষয়ভিত্তিক ছয়টি এবং মন্ত্রণালয়ভিত্তিক ৯টি- মোট ১৫টি স্থায়ী কমিটি গঠিত হয়েছিল। তৃতীয় অধিবেশনের প্রথম দিন কয়েকটি কমিটি পুনর্গঠন করা হয়েছে।

বিরোধী দলের একটি সূত্র জানায়, সরকারি হিসাব কমিটির মতো গুরুত্বপূর্ণ কমিটির সভাপতি পদ দ্বিতীয় অধিবেশনে তাদের দেয়ায় প্রত্যাশা বেড়েছিল। বিষয়ভিত্তিক আরো ৩টি কমিটির সভাপতি ও মন্ত্রণালয়ভিত্তিক অন্তত ১০টি কমিটির সভাপতি পদ আসনসংখ্যানুপাতে পাওয়ার আশা ছিল তাদের।

‘সংবিধান সংশোধন না হলেও সভাপতি দেয়া সম্ভব’

বিদ্যমান ব্যবস্থায় বিরোধী দলকে সংসদীয় কমিটির সভাপতি করার বাধ্যবাধকতা নেই। তবে সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি কিংবা সংবিধানেও এমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই যে কমিটির সভাপতি অবশ্যই সরকারি দলের সদস্য হতে হবে।

কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী, সংসদে গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী কমিটির সদস্যরা নিযুক্ত হন। সংসদ কোনো সদস্যকে সভাপতি হিসেবে মনোনীত না করলে কমিটির সদস্যরা নিজেদের মধ্য থেকে একজনকে সভাপতি নির্বাচন করতে পারেন। কার্য উপদেষ্টা কমিটি ও পিটিশন কমিটিসহ কয়েকটি কমিটির সদস্য স্পিকার মনোনয়ন করেন। অন্য বিষয়ভিত্তিক ও মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত কমিটি সংসদে ভোটের মাধ্যমে গঠিত হয়।

সরকারের জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার স্বার্থে সংসদীয় কমিটিগুলো দ্রুত গঠন করা উচিত বলে মনে করেন সাবেক জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেছেন, জুলাই সনদ অনুযায়ী চারটি কমিটির সভাপতি বিরোধী দল থেকে পাওয়ার কথা।

জুলাই সনদকে সরকার উপেক্ষা করার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন সাবেক জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সদস্য ও সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) প্রধান নির্বাহী ড. বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, সংসদীয় কমিটির কাঠামো ও সদস্যসংখ্যা নির্ধারণের বিষয়টি মূলত সিদ্ধান্ত নেয়ার ব্যাপার। কমিটিগুলোর কাঠামো নির্ধারণের একটি প্রক্রিয়া রয়েছে এবং সাধারণভাবে প্রতিটি কমিটিতে ১০ জন করে সদস্য থাকার বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। জুলাই সনদে এ বিষয়ে যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সেটি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের উদ্যোগ নেয়া উচিত।

সরকার পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে- সংবিধান সংস্কারসংক্রান্ত কমিটিতে বিরোধী দল তাদের প্রতিনিধির নাম দেয়নি, এ কারণে সংসদীয় কমিটির সভাপতির পদ বিরোধীদের দেয়া হচ্ছে না- এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, জুলাই সনদকে পাশ কাটানোর জন্যই তারা এই কমিটি (সংবিধান সংশোধন) করেছে। কারণ, তাদের এই কমিটি করার দরকার নাই। জুলাই সনদে বিষয়টি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, তারা (নির্বাচিত এমপিরা) সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেবে। তারপর জনগণ যে রায় দিয়েছে সেগুলো বাস্তবায়ন করবে। এগুলো তো (সংবিধান সংশোধন) ওটিকে (সংবিধান সংস্কার) পাশ কাটানোর জন্য করেছে। মানে করবে না ওটা (সংবিধান সংস্কার)। তাদের মেজরিটি আছে, যা ইচ্ছা তারা করতে পারে। কিন্তু জনগণ যে সিদ্ধান্ত (গণভোটের রায়) দিয়েছে, সেটিই শেষ কথা।

অতীতেও বিরোধীদের দেয়া হয়েছিল গুরুত্বপূর্ণ কমিটি

এর আগে একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদেও সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি পদ বিরোধী দলকে দেয়া হয়েছিল। একাদশ সংসদে যোগাযোগ মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতির দায়িত্বও বিরোধী দলের সদস্যদের দেয়া হয়েছিল। সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, কমিটি গঠনের আগে সাধারণত সরকারি দল বিরোধী দলের সাথে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করে। কোন কমিটিতে বিরোধী দলের কোন সদস্য থাকবেন, সে বিষয়েও তাদের পরামর্শ নেয়া হয়। এবারও কমিটি গঠনের আগে এমন আলোচনা হয়েছে বলে বিরোধী দলের সূত্র জানিয়েছে।

এ বিষয়ে জাতীয় সংসদের সরকারদলীয় চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনিকে একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ করেননি। তবে, সম্প্রতি তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, অতীতের রীতি অনুযায়ী এবার সংসদীয় কমিটি গঠন করা হবে। অতীতে সরকারি হিসাব কমিটির সভাপতি বিরোধী দল থেকে দেয়া হয়েছিল। এবারো তা করা হয়েছে। তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জুলাই সনদ যেভাবে স্বাক্ষরিত হয়েছে, সেভাবেই তা বাস্তবায়ন হবে। এ জন্য সংবিধান সংশোধনে বিশেষ কমিটি কাজ করছে।

১৫ কমিটির নেতৃত্বে যারা

বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত ৯টি কমিটির মধ্যে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির সভাপতি জহির উদ্দিন স্বপন (আগে ছিলেন আব্দুল মঈন খান), অর্থ মন্ত্রণালয় মুশফিকুর রহমান, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির ( আগে ছিলেন আন্দালিভ রহমান পার্থ), মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে মনিরুল হক চৌধুরী, শিল্প মন্ত্রণালয়ে মো: আবুল কালাম, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জহরত আদিব চৌধুরী, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে মো: খালেদ হোসেন মাহবুব,পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জয়নুল আবেদীনকে সভাপতি করা হয়েছে।

বিষয়ভিত্তিক ছয়টি কমিটির মধ্যে সরকারি হিসাবসংক্রান্ত কমিটির সভাপতি করা হয়েছে বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা: সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহেরকে। এ ছাড়া পদাধিকারবলে কার্য উপদেষ্টা কমিটি এবং বিশেষ অধিকার কমিটির সভাপতি স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম, সংসদ কমিটির সভাপতি সরকারদলীয় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, লাইব্রেরি কমিটির সভাপতি ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং বেসরকারি সদস্যদের বিল ও সিদ্ধান্ত- প্রস্তাব কমিটির সভাপতি করা হয়েছে মো: শাহজাহানকে।

রাজনৈতিক আস্থার অগ্নিপরীক্ষা

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংসদে নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহি নিশ্চিত করার সবচেয়ে কার্যকর কাঠামোগুলোর একটি হচ্ছে স্থায়ী কমিটি। মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রম পর্যালোচনা, অনিয়ম ও অভিযোগ তদন্ত এবং বিভিন্ন বিল পরীক্ষা-নিরীক্ষার ক্ষমতা রয়েছে এসব কমিটির। ফলে বিরোধী দলের হাতে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক কমিটির নেতৃত্ব দেয়া হলে সংসদীয় নজরদারিতে ভারসাম্য তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আর এ কারণেই জুলাই সনদের এই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয়েছে বাড়তি আগ্রহ। সংসদীয় কমিটির সভাপতি পদ নিয়ে চলমান টানাপড়েনকে তাই নিছক পদ বণ্টনের বিরোধ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। এর সাথে জড়িয়ে আছে জুলাই-পরবর্তী রাষ্ট্র সংস্কারের রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা, সংসদীয় জবাবদিহি এবং সরকার বিরোধী দলের পারস্পরিক আস্থার প্রশ্ন।