বিশ্বকাপ ফুটবল ২০২৬
ডাচদের হারিয়ে শেষ ষোলোয় মরক্কো
Printed Edition
ক্রীড়া প্রতিবেদক
ইউরোপ বনাম আফ্রিকার রুদ্ধশ্বাস লড়াই। ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর এই মহারণে নেদারল্যান্ডসের প্রতিপক্ষ ছিল মরক্কো। সমানে সমানের লড়াই নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময় শেষ হয় ১-১ গোলে সমতায়। টাইব্রেকারে আর পেরে উঠল না টোটাল ফুটবলের দেশটি। মিসের মহড়া ছিল দুই দলের ফুটবলারদেরই। ম্যাচের রুদ্ধশ্বাস রোমাঞ্চের পর শেষ হাসি ‘আটলাসের সিংহ’দের। গ্রুপ পর্বের ম্যাচে মরক্কোর নায়ক ছিলেন ইসমায়েল সাইবারি। নকআউটের ম্যাচে পুরোটা সময় মিইয়ে থাকলেও টাইব্রেকারে শেষ শটে দলকে জেতানোর গুরুভার পড়ল তার ওপরই। প্রবল চাপের মধ্যে ঠাণ্ডা মাথায় বল জালে জড়ালেন তিনি। ৩-২ গোলের জয়ে ডাচদের বিদায় করে শেষ ষোলোয় জায়গা করে নিলো মরক্কোই।
এস্তাদিও মন্টেরেই স্টেডিয়ামে গতকাল পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল মরক্কো। কোডি গাকপোর গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর নির্ধারিত ৯০ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে ছিল গত আসরের সেমিফাইনালিস্টরা। যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে আফ্রিকার দেশটির ত্রাতা হয়ে এলেন ইসা দিওপ। দুর্দান্ত হেডে গোল করে মরক্কোকে সমতায় ফেরান ফুলহ্যামের এই সেন্টারব্যাক। এরপর অতিরিক্ত সময় আর কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। ডাচদের হয়ে প্রথম শট নিতে এসে টিউন কোপমেইনারস জালের দেখা পেলেও মিস করেন মরক্কোর নিল এল আয়নাউই। দ্বিতীয় শট নিতে এসে পোস্টে মেরে মিস করেন জাস্টিন ক্লুইভার্ট। আফ্রিকার দেশটির সুফিয়ান রাহিমির শট ঠেকিয়ে দিয়েছিলেন ডাচ গোলরক্ষক বার্ট ভারব্রুগেন। কিন্তু বল তার শরীরের নিচ দিয়ে বেরিয়ে পায়ে লেগে কোনোরকমে গোল লাইন পেরিয়ে যায়। পরের শটে ডাচদের হয়ে ওয়াউট ওয়েঘোর্স্ট ও মরক্কোর কেমসডাইন তালবি বল পাঠান জালে। চতুর্থ শটে কুইন্টেন টিম্বার ও আশরাফ হাকিমি দু’জনেই মিস করেন। নেদারল্যান্ডসের হয়ে শেষ শট নিতে এসে গড়বড় করে ফেলেন ক্রেসেন্সিও সামারভিল। তার নেয়া মাঝ ববরার শটটি ডানদিকে সরার পথে থাকলেও ইয়াসিন বোনু বাম হাতে ঠেকিয়ে দেন বল। শেষ শটে গোলরক্ষকের উল্টো প্রান্তের জালে বল পাঠিয়ে খ্যাপাটে উল্লাসে মেতে উঠেন সাইবারি।
মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নেদারল্যান্ডসকে দফায় দফায় রক্ষা করেন বার্ট ভারব্রুগেন। পুরো ম্যাচে মোট পাঁচটি সেভ করেন তিনি, এর অন্তত দু’টি ছিল প্রায় অবিশ্বাস্য। কিন্তু সতীর্থদের ব্যর্থতায় তার বীরত্বও যথেষ্ট হলো না শেষ পর্যন্ত। বিশ্বকাপে এই নিয়ে পাঁচ টাইব্রেকারের চারটিই হারল ডাচরা। ম্যাচের ৭০ শতাংশ সময় বল নিজেদের কাছে রেখে দারুণ সব আক্রমণ করলেও ফিনিশিংয়ে ব্যর্থ ছিল মরক্কো। দুই দলই গতিময় শুরু করলেও প্রথম ১৫ মিনিটে উত্তেজনা ছড়ায়নি। আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা করে দুই দলই। ১৬ মিনিটে মরক্কোর হাই-লাইন রক্ষণ ভেঙে বিপজ্জনকভাবে বক্সে ঢুকে পড়েন সামারভিল। তবে বল হারান বক্সে ঢুকে। অফসাইডও ছিলেন তিনি।
মরক্কোর জবাবও আসে দ্রুতই। চার মিনিট পর টানা দু’টি দুর্দান্ত সেভে দলকে রক্ষা করেন ডাচ গোলরক্ষক। ২০ মিনিটে কর্নার থেকে এল আয়নাউইয়ের জোরাল শটে অসাধারণ রিয়্যাকশন সেভ করেন ভারব্রুগেন। পরের মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে আশরাফ হাকিমির শটও ঠেকিয়ে দেন ব্রাইটনের এই গোলরক্ষক। হাইড্রেশন বিরতির পর ৪৪ মিনিটে নেদারল্যান্ডসের মিকি ফন দে ফেনের দূরপাল্লার শট কোনোরকমে আঙুলে ছুঁইয়ে ওপর দিয়ে পাঠিয়ে দেন বোনু। প্রথমার্থে শেষ পর্যন্ত গোলশূন্যভাবেই মাঠ ছাড়তে হয় দুই দলকে।
বিরতি থেকে ফিরে ৫১ মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করেন হাকিমি। উনায়ির দারুণ এক পাস থেকে বক্সের ভেতরে ডান পাশ থেকে জোরাল শট নেন মরক্কো অধিনায়ক। কিন্তু বল ক্রসবারে লেগে চলে যায় ওপর দিয়ে। একটু পরই আবার তুমুল গতিতে বক্সে ঢুকে যান হাকিমি। দুর্দান্ত ট্যাকল করে রক্ষা করেন ফন দে ফেন। ৬১ মিনিটে বাঁদিক থেকে সাইবারি বিপজ্জনকভাবে ঢুকে শট নিলেও ব্লক করেন ভার্জিল ফন ডাইক।
৭২ মিনিটে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন সামারভিল। তবে মরক্কোর দুই ডিফেন্ডারকে এড়াতে গিয়ে বক্সে পড়ে যান তিনি। বসে থেকেই কোনোরকমে বল বাড়ান পাশে। ছুটে এসে গাকপো জোরাল শটে আগুয়ান গোলরক্ষকের পাশ দিয়ে বল জড়ান জালে। ১-০তে এগিয়ে যাওয়ার পর রক্ষণে মনোযোগী হয়ে উঠে ডাচরা। আর সমতা ফেরাতে প্রাণপণ চেষ্টা চালায় মরক্কো। নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে যোগ করা হয় ছয় মিনিট। প্রথম মিনিটেই কাক্সিক্ষত গোল পেয়ে যায় তারা। বদলি নামা তালবি নিখুঁত এক ক্রস করেন বক্সের মাঝখানে। ফন ডাইকের পেছন থেকে অনেকটা লাফিয়ে হেডে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন জিওপ।
২০২২-এর বিশ্বকাপে কোয়ার্টার ফাইনালে আর্জেন্টিনার কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নিয়েছিল নেদারল্যান্ডস। আর মরক্কো দ্বিতীয় রাউন্ডে স্পেনকে টাইব্রেকারে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল।