হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শার্শায় চলছে অবৈধ ইটভাটা, বিপর্যস্ত পরিবেশ

Printed Edition

শার্শা (যশোর) সংবাদদাতা

হাইকোর্টের সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা ও নির্দেশনা উপেক্ষা করে যশোরের শার্শা উপজেলায় একাধিক অবৈধ ইটভাটা দাপটের সাথে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এতে পরিবেশ দূষণ, কৃষিজমির টপ সয়েল ধ্বংস, ফসলি জমি নষ্ট, বৃক্ষ নিধন ও ভয়াবহ বায়ুদূষণের মাধ্যমে স্থানীয় জনজীবন ও জনস্বাস্থ্য মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

আদালতের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল ও জনবসতি থেকে নির্ধারিত দূরত্বের মধ্যে ইটভাটা স্থাপন করা যাবে না। একই সাথে কৃষিজমিতে ভাটা স্থাপন, জ্বালানি কাঠ ব্যবহার, পরিবেশগত ছাড়পত্র ও বৈধ লাইসেন্স ছাড়া ভাটা পরিচালনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এসব শর্ত লঙ্ঘনকারী ভাটা তাৎক্ষণিকভাবে বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেয়ারও নির্দেশ রয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে গত ১২ মার্চ ২০২৪ তারিখে হাইকোর্টে দায়ের করা একটি রিটের পর গঠিত পরিদর্শন কমিটি শার্শা উপজেলার ২৩টি ইটভাটা সরেজমিন পরিদর্শন করে। এতে দেখা যায়, ২৩টির মধ্যে অন্তত ২০টি ভাটা কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে। পরিদর্শন শেষে উপজেলা প্রশাসন ইট পোড়ানো ও কাঁচা ইট তৈরিসহ সব কার্যক্রম বন্ধের নির্দেশ দেয় এবং ভাটা মালিকদের কাছ থেকে অঙ্গীকারনামা গ্রহণ করে।

তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, লক্ষণপুর ইউনিয়নের মেসার্স কেএএ ব্রিকস, বাগআঁচড়া ইউনিয়নের টেংরা জামতলার মেসার্স রিফা ব্রিক্স ও মেসার্স বিশ্বাস ব্রিক্স, কুচেমোড়া হাড়িখালির টাটা ব্রিক্স, গোগা ইউনিয়নের মেসার্স রাজ ব্রিক্স, ইছাপুর এলাকার মেসার্স এসটি ব্রিকস, কায়বা ইউনিয়নের মেসার্স নাইস ব্রিকস এবং পিঁপড়াগাছীর মেসার্স সাফা ব্রিক্সসহ প্রায় ২০টি ভাটা এখনো সক্রিয় রয়েছে। অপরদিকে আর্থিক সঙ্কট ও লাইসেন্স জটিলতার কারণে তিনটি ভাটা সাময়িকভাবে বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।

ভাটা মালিকদের দাবি, একসময় সরকারি বিধি মেনে লাইসেন্স নেয়া হলেও দীর্ঘদিন ধরে নবায়ন ও নতুন লাইসেন্স প্রক্রিয়া বন্ধ থাকায় তারা সঙ্কটে পড়েছেন। লাইসেন্স নবায়নের সুযোগ পেলে পরিবেশ আইন ও শ্রম আইন মেনে ভাটা পরিচালনার আশ্বাস দেন তারা।

তবে স্থানীয় পরিবেশবাদী ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, আদালতের নির্দেশ থাকার পরও অবৈধ ইটভাটা বন্ধে প্রশাসনের কঠোরতা না থাকায় আইনের শাসন প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। দ্রুত উচ্চ আদালতের নির্দেশ বাস্তবায়ন, নিয়মিত মনিটরিং ও অবৈধ ভাটা স্থায়ীভাবে বন্ধের দাবি জানিয়েছেন তারা।