খুবিতে মীর মুগ্ধের দ্বিতীয় শাহাদতবার্ষিকী পালিত

Printed Edition
back-1
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে মীর মুগ্ধের শাহাদতৎবার্ষিকীতে আলোচনা সভায় অতিথিরা : নয়া দিগন্ত

খুবি প্রতিনিধি

জুলাই আন্দোলনে শহীদ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি) সাবেক শিক্ষার্থী (২০১৯ ব্যাচ) মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধের দ্বিতীয় শাহাদতবার্ষিকী উপলক্ষে গতকাল দিনব্যাপী নানা কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে তাদের স্বপ্নের বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।

দিবসের প্রধান আয়োজন হিসেবে বেলা ১১টা ১৫ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক লিয়াকত আলী মিলনায়তনে ‘জুলাই বিপ্লব থেকে নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ভিসি অধ্যাপক ড. মো: রেজাউল করিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন খুলনা-১ আসনের এমপি আমীর এজাজ খান, খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কেডিএ) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট এস এম শফিকুল আলম মনা, খুলনা ওয়াসার চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক শফিকুল আলম তুহিন, শহীদ মীর মুগ্ধের বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান, শহীদ সাকিব রায়হানের বাবা শেখ আজিজুর রহমান, প্রোভিসি অধ্যাপক ড. মো: হারুনর রশীদ খান এবং ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো: নূরুন্নবী। স্বাগত বক্তব্য দেন দিবস উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক ও ছাত্রবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক ড. মো: নাজমুস সাদাত।

আলোচনা সভায় শিক্ষকদের পক্ষে বক্তব্য দেন গণিত ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক ড. মো: আজমল হুদা। শিক্ষার্থীদের পক্ষে অনুভূতি ব্যক্ত করেন আইন ডিসিপ্লিনের ২০১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী আল শাহরিয়ার এবং গণিত ডিসিপ্লিনের ২০২২ ব্যাচের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম। এ সময় শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নসংক্রান্ত বিভিন্ন দাবি সংবলিত স্মারকলিপি সংসদ সদস্যের হাতে তুলে দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে শহীদ মীর মুগ্ধের স্নাতক পরীক্ষার সনদ তার বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমানের হাতে তুলে দেয়া হয়। পাশাপাশি শহীদ মীর মুগ্ধ ও শহীদ সাকিব রায়হানের পরিবারকে সম্মাননা জানানো এবং জুলাই আন্দোলনে আহতদের সম্মাননা স্মারক দেয়া হয়।

আলোচনা সভার শুরুতে পবিত্র কুুুরআন তেলাওয়াত করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম কারি মুস্তাকিম বিল্লাহ। পরে জুলাই শহীদদের আত্মার মাগফিরাত এবং আহতদের সুস্থতা কামনা করে বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।

এর আগে সকাল সাড়ে ১০টায় অদম্য বাংলা চত্বরে জুলাই আন্দোলনের স্থিরচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়। পরে অতিথিরা প্রদর্শনী পরিদর্শন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।

দিনব্যাপী কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুলের ডিন, ডিসিপ্লিন প্রধান, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারী, রাজনৈতিক ও নাগরিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক এবং বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। দিবসের কর্মসূচির অংশ হিসেবে বাদ মাগরিব বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে বিশেষ দোয়া আয়োজন করা হয়।