মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে ৩ ধাপ পেছাল বাংলাদেশ
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
বিশ্বজুড়ে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার মানচিত্রে আরো অবনতি হয়েছে বাংলাদেশের। রিপোর্টার্স উইদাউট বর্ডার্স (আরএসএফ) প্রকাশিত ২০২৫ সালের বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের তুলনায় আরো তিন ধাপ নিচে নেমে গেছে। গতকাল ভোরে সংস্থাটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এই সূচকে ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৫২তম, যা আগের বছর ছিল ১৪৯।
সূচক অনুসারে, প্রতিবেশী দেশ ভারতের অবস্থাও অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আগের বছরের তুলনায় গত বছর ছয় ধাপ পিছিয়েছে দেশটি। এবার তাদের অবস্থান ১৫৭, যা আগের বছর ছিল ১৫১তম। অন্য দিকে, রাজনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যেও সূচকে কিছুটা উন্নতি হয়েছে পাকিস্তানের। আগের বছর (২০২৪) ১৫৮তম অবস্থানে থাকা পাকিস্তান এবার পাঁচ ধাপ এগিয়ে ১৫৩তম অবস্থানে উঠে এসেছে।
সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে টানা ১০ বছরের মতো শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে নরওয়ে। আর তালিকার একেবারে তলানিতে অর্থাৎ ১৮০তম অবস্থানে টানা তৃতীয় বছরের মতো রয়েছে ইরিত্রিয়া।
আরএসএফ জানিয়েছে, এমন এক সময়ে এই তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে যখন ‘সংবাদমাধ্যমের ওপর রাজনৈতিক চাপ তীব্রতর হচ্ছে, কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা বাড়ছে এবং গণমাধ্যম বাজার ব্যাপকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।’ সংস্থাটির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিশ্বের ১০০টি দেশ ও অঞ্চলে সাংবাদিকতার পরিবেশের আশঙ্কাজনক অবনতি ঘটেছে। আরএসএফ বলছে, ১৮০টি দেশের মধ্যে ১০০টি দেশেই সংবাদপত্রের স্বাধীনতার স্কোর কমেছে।
ভারতের বিষয়ে আরএসএফ বলেছে, সেখানে স্বাধীন সংবাদমাধ্যমের ওপর বিচারিক হয়রানি তীব্রতর হচ্ছে। বিশেষ করে মানহানি ও জাতীয় নিরাপত্তা আইনের মতো ফৌজদারি আইনের ক্রমবর্ধমান ব্যবহার সরাসরি সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করছে।
পাকিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির সংবাদপত্রগুলো বর্তমানে বিধিনিষেধের নিরবচ্ছিন্ন ঢেউয়ের মুখোমুখি। একটি প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্যে কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকতার বিষয়বস্তু নিয়ন্ত্রণ এবং কিছু ক্ষেত্রে দমনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
সংবাদপত্রের স্বাধীনতার দিক দিয়ে বড় পতন হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রেরও। ২০২৪ সালে ৫৭তম অবস্থানে থাকা দেশটি এবার নেমে গেছে ৬৪তম স্থানে। আরএসএফের মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর পরিস্থিতি আরো জটিল হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাবলিক ব্রডকাস্টার এনপিআর ও পিবিএসের অর্থায়ন কমিয়ে দেয়া, সংবাদমাধ্যমের মালিকানায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং অপছন্দের সাংবাদিক ও গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত তদন্তের মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে পরিকল্পিতভাবে ব্যবহার করছেন। বিক্ষোভ চলাকালীন সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা উল্লেখ করে আরএসএফ বলেছে, এটি আধুনিক যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে অন্যতম গুরুতর সঙ্কট।
বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম সূচকের ইতিহাসে এবারই প্রথম অর্ধেকের বেশি দেশ সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে ‘কঠিন’ বা ‘খুবই গুরুতর’ শ্রেণীতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সূচক অনুযায়ী, গত ২৫ বছরের মধ্যে ১৮০টি দেশের গড় স্কোর কখনোই এত নিচে নামেনি।
আরএসএফ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, ২০০১ সাল থেকে বিশেষ করে জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত কঠোর আইনের বিস্তার গণতান্ত্রিক দেশগুলোতেও তথ্যের অধিকারকে সঙ্কুুচিত করছে। গত এক বছরে সূচকের আইনি নির্দেশক সবচেয়ে বেশি নিচে নেমেছে, যা স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকতাকে ক্রমশ অপরাধ হিসেবে গণ্য করার প্রবণতা বাড়ছে।