ঝিনাইদহ-৪ আসন
জনপ্রিয়তা প্রমাণ করতে চায় জামায়াত কঠিন পরীক্ষার মুখে বিএনপি
Printed Edition
রুহুল আমিন সৌরভ কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)
নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বেশ সরগরম হয়ে উঠেছে ঝিনাইদহ-৪ আসনে ভোটের মাঠ। নতুন ভোটার এবং দীর্ঘ দিন ভোট দিতে না পারা ভোটাররা মুখিয়ে আছেন তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে। তরুণ প্রজন্মের ভোটই মূলত জয় পরাজয়ের নিয়ামক হিসাবে কাজ করবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এই আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন গণ অধিকার পরিষদের রাশেদ খান। মনোনয়ন পেলেও খুশি হওয়ার চেয়ে তার কপালে চিন্তার ভাঁজই যেন বেশি। কারণ বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দলের সিদ্ধান্তের বাইরে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন।
রাশেদ খান ঝিনাইদহ-২ আসনের বাসিন্দা হলেও জোটের বুঝাপড়ায় তাকে আসতে হয়েছে ঝিনাইদহ-৪ আসনে। মনোনয়ন ঘোষণায় দেরি হওয়ায় এ এলাকায় সময় না দিতে পারায় সাধারণ মানুষের সাথে তার কিছুটা দূরত্ব রয়ে গেছে। শেষ মুহুর্তে মনোনয়ন পেলেও নির্বাচনী প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় তিনি পাননি। এ ছাড়া দলের মধ্যে গ্রুপিং আর প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকায় নেতাকর্মীরা একতাবদ্ধভাবে নির্বাচন করবেন না। সেই সাথে তৃণমূলে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছাতে না পারাটা রাশেদ খানের জন্য দুর্বল পয়েন্ট হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।
পাশাপাশি বিএনপির বিরাট অংশের নেতাকর্মীরা দলের মধ্যে কেউ নমিনেশন না পাওয়ায় হতাশায় ঝিমিয়ে পড়েছেন। সেই সাথে জয়ের ব্যাপারেও দু’ভাগে ভাগ হয়ে গেছেন নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। নেতাকর্মীদের মধ্যে এই কোন্দল আর গ্রুপিংয়ে বিভ্রান্ত সাধারণ কর্মী সমর্থকরা। যে কারণে নির্বাচনী মাঠে দেখা মিলছে না অধিকাংশ নেতাকর্মীদের। ফলে এ আসনে অনেকটা কোনঠাসা হয়ে পড়ছে বিএনপি।
বিএনপির মনোনয়ন বঞ্চিত সাইফুল ইসলাম ফিরোজ (সতন্ত্র) প্রার্থী। তীব্র প্রতিদ্বন্দিতার প্রত্যাশায় জয় পরাজয়ের হিসেব নিকেশ কষেই নিজেদের মতো করে প্রচার প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এলাকায় দীর্ঘ দিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা তাকে ভোটের মাঠে বাড়তি সুবিধা দিবে বলে দাবি করছেন তার সমর্থক কর্মীরা।
এদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে শক্ত অবস্থানে আছে জামায়াত। নির্বাচনের মাঠে দীর্ঘ দিনের পরিচিত মুখ কালীগঞ্জ উপজেলা আমির মাওলানা আবু তালিব যেন রীতিমতো ভোটের মাঠে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। দীর্ঘ দিন আওয়ামী লীগের জুলুম নির্যাতনের মাধ্যেও আসনটির মাটি কামড়ে পড়ে রয়েছেন তিনি। জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা আবু তালিব সারা বছর এলাকায় থাকেন, মিশেন সাধারণ মানুষের সাথে। সুখে দুঃখে খোঁজ রাখেন দলমত ও ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে সবার। ফলে এ এলাকার প্রতিটি ভোটার ও সাধারণ মানুষ তাকে খুব কাছে থেকেই চেনেন। প্রথমবারের মতো এ আসনে বিজয় নিশ্চিত করতে একাট্টা হয়ে মাঠে নেমে পড়েছেন জামায়াতের নেতাকর্মী-সমর্থকরাও। এ আসনে নিজেদের জনপ্রিয়তার স্বাক্ষর রাখতে চায় জামায়াত, যে কোনো মূল্যে মাওলানা আবু তালিবকে বিজয়ী করতে তারা যেন বদ্ধপরিকর। উঠান বৈঠক গণসংযোগে দিনরাত কাজ করছেন তারা। শহর গ্রাম, হাট বাজার মাঠে-ঘাটে নিরলস প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন দাঁড়িপাল্লার পক্ষে। পরিশ্রমের ফল হিসাবে সাধারণ মানুষের ব্যাপক সাড়াও পাচ্ছেন তারা। এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে ভোটের ফলাফল অনুকূলে আসবে বলেও দৃঢ বিশ্বাস জামায়াতের নেতাকর্মীদের।