বাঘ ও কুমিরের বন্ধুত্ব : মীর ফয়সাল নোমান

Printed Edition
agdum-4
বাঘ ও কুমিরের বন্ধুত্ব : মীর ফয়সাল নোমান

এক জঙ্গলে বাঘ ও কুমির বাস করত তাদের মধ্যে ছিল দারুণ বন্ধুত্ব। তাদের মধ্যে কোনো অনুষ্ঠান হলে একে অন্যকে দাওয়াত দিত এবং এইভাবে তাদের মধ্যে একটা সুন্দর সম্পর্ক ছিল, একে অন্যকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দাওয়াত দিতো, এটা জঙ্গলে অনেক পশু পাখি সহ্য করতে পারত না, জঙ্গলে ছিল এক খরগোশ সে সব সময় একজনের কথা অন্যজনকে লাগাত, তাই সে বাঘের কাছে গিয়ে বলল, আপনি নাকি অনেক মোটা, খান অনেক বেশি। কুমিরের কাছে গিয়ে বলল, আপনি নাকি বাঘের সাথে শক্তিতে পেরে উঠবেন না। এসব কথা হওয়ার পর বাঘ ও কুমিরের বিশাল যুদ্ধ বেধে যায়। জলে এবং স্থলে যুদ্ধ ৩-৪ দিন যুদ্ধ চলতে থাকে। জঙ্গলে অশান্তি শুরু হয়।

একদিন বুদ্ধিমান শিয়াল জঙ্গল দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিল, বাঘ ও কুমিরের যুদ্ধ দেখে শিয়াল প্রশ্ন করল- আপনারা কী নিয়ে যুদ্ধ করছেন? বাঘ বলল, সে আমাকে বলেছে, আমি নাকি অনেক মোটা, খাই নাকি অনেক বেশি। কুমির আপনাকে কী বলছে? আমি নাকি তার সাথে শক্তিতে পেরে উঠব না। এই কথা আপনি নিজের কানে শুনছেন, নাকি আপনাকে কেউ বলেছে? বাঘ বলল, না। কুমির ভাই আপনি কী শুনছেন? সে বলল, না আমি শুনিনি। এরপর জিজ্ঞেস করল, এই কথা আপনাদের কাছে কে বলেছে? বলল, খরগোশ বলেছে। এরপর খরগোশকে ডেকে এনে তার বিচার বসানো হয় এবং খরগোশকে জিজ্ঞেস করা হয়- তোমার ব্যাপারে যা শুনেছি এটা কি সত্যি? হ্যাঁ কিংবা না। খরগোশ বলল, না। যখন বাঘ কুমির তার দিকে এগিয়ে আসে- শিয়াল বলে দাঁড়াও, আমি জিজ্ঞেস করছি। তুমি যদি মিথ্যা বলো তাহলে তোমার ঘরের ছোট বাচ্চাকে আমরা খেয়ে ফেলব। তখন তার বাচ্চার কথা চিন্তা করে খরগোস সব সত্যি কথা বলে দেয়।

তারপর শিয়াল বলে, দেখছেন? এর কথা শুনে আপনাদের মধ্যে বন্ধুত্ব নষ্ট করছেন। এরপর খরগোশকে কুমির এবং বাঘ মেরে গাছের সাথে ঝুলিয়ে রাখে। তারপর থেকে কুমির ও বাঘ তাদের মধ্যে ভুল বুঝাবুঝি মিটিয়ে একসাথে সুখে শান্তিতে বসবাস করতে লাগল।