দোহায় যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরোক্ষ আলোচনা
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
মার্কিন ও ইরানি আলোচকদের চলতি সপ্তাহে দোহা যাওয়ার কথা ছিল; কিন্তু ইরান বলেছে, কোনো বৈঠক নির্ধারিত হয়নি। গতকাল মঙ্গলবার কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপদেষ্টা ও জামাতা জ্যারেড কুশনার বর্তমানে রাজধানী দোহায় অবস্থান করছেন। তবে তাদের সঙ্গে ইরানের কোনো কর্মকর্তার সরাসরি বৈঠক হবে না। খবর আলজাজিরার।
সোমবার কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানান, মার্কিন প্রতিনিধিদ্বয় মধ্যস্থতাকারীদের সাথে বৈঠক করবেন এবং চলমান আলোচনা ও কূটনৈতিক অগ্রগতি পর্যালোচনা করবেন। তবে ইরানের প্রতিনিধিদের সাথে কোনো প্রত্যক্ষ বৈঠকের সূচি নেই।
এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ইরানের অনুরোধে মঙ্গলবার দোহায় দুই দেশের মধ্যে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। কিন্তু ইরান শুরু থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সরাসরি আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করে আসছে। কাতারের এ বক্তব্যও সেই অবস্থানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।
এ দিকে কাতার আরো জানিয়েছে, দক্ষিণ কোরিয়ায় জব্দ থাকা ইরানের ৬০০ কোটি মার্কিন ডলার সমমূল্যের স্থগিত সম্পদ এখনো তেহরানের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে কাতার গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে। তবে সরাসরি বৈঠক না হওয়ায় ভবিষ্যৎ আলোচনার অগ্রগতি নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার জামাতা জ্যারেড কুশনার ও তার দূত স্টিভ উইটকফকে মার্কিন আলোচক দলের নেতৃত্ব দেয়ার জন্য দোহা পাঠাচ্ছেন বলে জানিয়েছিলেন হোয়াইট হাউজের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলাইন লেভিট। অন্য দিকে চলতি সপ্তাহে ইরান তাদের বিশেষজ্ঞ দলকে কাতারে পাঠাচ্ছে। কিন্তু ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি জানিয়েছেন, এই বিশেষজ্ঞ দলের কাতার যাওয়ার সাথে আমেরিকানদের সফরের ‘কোনো সম্পর্ক নেই’ আর দুই পক্ষের মধ্যে কোনো বৈঠক নির্ধারিত হয়নি। বাকায়ি বলেছেন, “সামনের দিনগুলোতে আমেরিকান পক্ষের সঙ্গে আমাদের কোনো পর্যায়েই কোনো আলোচনা সভা নেই।”
শনি ও রোববার দু’পক্ষ পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর পর এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এতে চার মাস পুরনো যুদ্ধের অবসান ঘটানোর জন্য ১৭ জুন দু’পক্ষের মধ্যে হওয়া অন্তর্বর্তী চুক্তি পরীক্ষার মুখে পড়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে হামলা চালানোর মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধ শুরু করেছিল। কিন্তু মার্কিন কংগ্রেসের নভেম্বরের নির্বাচনকে সামনে রেখে এই যুদ্ধ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য একটি রাজনৈতিক মাথাব্যথা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
কারণ যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরান বিশ্বের তেল-গ্যাস সরবরাহের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালী কার্যকরভাবে বন্ধ করে রেখেছিল আর তাতে জ্বালানির দাম অস্বাভাবিক রকম বেড়ে গিয়েছিল। এর ফলে মার্কিন ভোটারদের জ্বালানির জন্য বাড়তি মূল চোকাতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া ১৪ দফার সমঝোতা স্মারক বাস্তবায়নের জন্য দু’পক্ষ নিজেদের জন্য অন্তত ৬০ দিন বরাদ্দ রেখেছে। এই সময়ের মধ্যে এপ্রিলে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ আরো বাড়ানো, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা। কিন্তু একে অপরের বিরুদ্ধে সমঝোতা চুক্তির শর্ত ভাঙার অভিযোগ আনায় অগ্রগতি থেমে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া শান্তি আলোচনায় ইসরাইলকে রাখা হয়নি আর তেল আবিবও তেহরান ও ওয়াশিংটনের এই অন্তর্বর্তী চুক্তি থেকে নিজেকে দূরে রাখছে। লেবাননের লড়াই বন্ধ করা নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে পৃথক একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি হলেও লেবাননের প্রতিরোধ শক্তি হিজবুল্লাহ তা প্রত্যাখ্যান করায় এর ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। হিজবুল্লাহর মিত্র লেবাননের পার্লামেন্টের স্পিকার নাবিহ বেরি এই চুক্তি লেবাননে রক্তপাত বন্ধে কার্যকর হবে কি না, তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন।
গত সপ্তাহান্তে দুই দেশের মধ্যে ঘটে যাওয়া পাল্টাপাল্টি হামলার পরই এই কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হলো। ওই হামলা গত ১৭ জুনের অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তিকে বড় পরীক্ষার মুখে ফেলেছে। ১৪ দফার ওই চুক্তিতে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ভবিষ্যৎসহ বিভিন্ন জটিল বিষয়ের সমাধানের জন্য দু’পক্ষকে ৬০ দিন সময় দেয়া হয়েছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, ইরান ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন দিয়ে অন্তত দু’টি বাণিজ্যিক জাহাজে আঘাত করেছে এবং এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের সামরিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালিয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় গত রোববার কুয়েত ও বাহরাইনে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায় ইরান। দু’পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে।
এই যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিয়েছে, যা আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে দেশের ভেতরে ট্রাম্পকে তীব্র রাজনৈতিক চাপে ফেলেছে। এই নির্বাচনের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে। এ পরিস্থিতিতে সোমবার হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, মরক্কো থেকে ফসফেট সার আমদানির ওপর কিছু শুল্ক সাময়িকভাবে স্থগিত করার অনুমোদন দিয়েছেন ট্রাম্প। কারণ হরমুজ প্রণালী দিয়ে সারের সরবরাহ যুদ্ধ-পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরতে আরো সময় লাগবে, যার দরুন মার্কিন কৃষকরা তীব্র সার সঙ্কটে ভুগছেন।
হরমুজ নিয়ে ফ্রান্সের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান
এ দিকে পারস্য উপসাগরের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে মাইন অপসারণে ফ্রান্সের অংশগ্রহণের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। সাম্প্রতিক পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুযায়ী প্রণালীতে মাইন অপসারণের কাজ শুধু ইরানই করবে বলে জানিয়েছেন দেশটির আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যম প্রেস টিভি বলছে, এর আগে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ঘোষণা দেন, ওমানের সাথে সমন্বয় করে এবং মিত্র দেশগুলোর সহযোগিতায় ফ্রান্স হরমুজ প্রণালীতে মাইন অপসারণের উদ্যোগ নেবে; যাতে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে নিরাপদ ও অবাধ চলাচল নিশ্চিত করা যায়। তার এ কথার পর গারিবাবাদি এ মন্তব্য করেন। এর জবাবে ইরানের শীর্ষ এই কূটনীতিক বলেন, ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী মাইন অপসারণের কাজ কেবল ইরানই করবে, অন্য কোনো দেশ নয়। কাজেম গারিবাবাদি আরো বলেন, বর্তমান ‘সংবেদনশীল ও জটিল’ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালিতে মাইন অপসারণের কাজে কোনো বিদেশী হস্তক্ষেপ ইরান মেনে নেবে না। ফ্রান্সকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘আমরা দৃঢ়ভাবে পরামর্শ দিচ্ছি, উসকানিমূলক পদক্ষেপ নিয়ে পরিস্থিতিকে আরো জটিল করবেন না।’ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছিল। বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালী দিয়ে পরিবহন হয়।
গত ১৭ জুলাই পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র একটি ১৪ দফা সমঝোতা স্মারকে সই করে। এতে সব ফ্রন্টে স্থায়ীভাবে সঙ্ঘাত বন্ধ, ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির জন্য আলোচনা অব্যাহত রাখা এবং বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য অন্তত ৬০ দিন টোলমুক্ত চলাচল নিশ্চিত করা। পাশাপাশি ৩০ দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালীতে পূর্ণাঙ্গ নৌ চলাচল পুনরুদ্ধারের প্রতিশ্রুতিও রয়েছে। তবে ইরান পুনর্ব্যক্ত করেছে যে, হরমুজ প্রণালী যুদ্ধ-পূর্ব অবস্থায় ফিরে যাবে না এবং এই কৌশলগত জলপথের ওপর নিজেদের সার্বভৌম অধিকার বজায় রাখবে।
৬০০ কোটি ডলারের অবরুদ্ধ সম্পদ : কূটনীতির বড় পরীক্ষা
কাতারে সংরক্ষিত ইরানের প্রায় ৬০০ কোটি ডলারের অবরুদ্ধ সম্পদ দীর্ঘদিন ধরে তেহরান-ওয়াশিংটন সম্পর্কের অন্যতম বিতর্কিত ইস্যু। কাতারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই অর্থ এখনো ইরানের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি এবং বিষয়টি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অগ্রগতির সাথে সম্পর্কিত।
তেহরানের রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলী আকবর দারেইনির মতে : ‘যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা স্মারকের শর্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করছে না। স্বাক্ষরিত সমঝোতা অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের অবিলম্বে ও নিঃশর্তভাবে ইরানের অবরুদ্ধ সম্পদ মুক্ত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তারা ইরানের অর্থ আটকে রেখে কার্যত জিম্মি অবস্থায় রেখেছে।’
হরমুজ প্রণালী : যুদ্ধ-পরবর্তী নিরাপত্তা উদ্বেগ
বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও গ্যাস সরবরাহের অন্যতম প্রধান পথ হরমুজ প্রণালী সাম্প্রতিক সঙ্ঘাতের সময় গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ অভিযানের পর সৃষ্ট উত্তেজনা এই কৌশলগত নৌপথে শতাধিক দিন ধরে নৌপরিবহন কার্যক্রমে ব্যাপক বিঘœ সৃষ্টি করে।
তেহরান স্পষ্ট জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালীতে মাইন অপসারণ বা নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় কোনো বিদেশী সহায়তার প্রয়োজন নেই। বহিরাগত হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরো জটিল করবে।
কাতার জানিয়েছে, উত্তেজনা কমাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি বিশেষ ‘ডি-এসকেলেশন হটলাইন’ ব্যবহার করা হয়েছে। বর্তমানে কাতার ও ওমান যৌথভাবে হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
লেবানন-ইসরাইল চুক্তি ও গাজা যুদ্ধবিরতির সমীকরণ
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ও কূটনীতির সমান্তরাল বাস্তবতায় নতুন একটি অধ্যায়ের সূচনা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় লেবানন ও ইসরাইলের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি কাঠামোগত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।
চুক্তি অনুযায়ী, ইসরাইলি বাহিনী ধাপে ধাপে লেবাননের দখলকৃত অঞ্চল থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে।
লেবাননে কিছুটা অগ্রগতি হলেও গাজা উপত্যকায় মানবিক পরিস্থিতির অবনতি অব্যাহত রয়েছে। হামাসের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল কায়রোতে মিসরীয় মধ্যস্থতাকারীদের সাথে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা করছে। হামাস নেতা তাহের আল-নুনু জানান, তাদের প্রধান লক্ষ্য ইসরাইলি হামলা বন্ধ এবং ত্রাণ প্রবেশ নিশ্চিত করা।
ক্রীড়াঙ্গনেও রাজনীতির ছায়া : যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনায় ইরান
রাজনৈতিক এই উত্তেজনা কেবল কূটনীতিতেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং তা ছড়িয়ে পড়েছে ক্রীড়াঙ্গনেও। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র দাবি করেছেন, ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে ইরান জাতীয় দলকে ‘অত্যন্ত রাজনৈতিকভাবে’ মোকাবেলা করা হয়েছে।
ইরানের অভিযোগ, তাদের দলের অনেক কর্মকর্তা ও কারিগরি কর্মীকে ভিসা দেয়া হয়নি এবং দলকে মূল ভেনু থেকে দূরে অবস্থান করতে বাধ্য করা হয়েছে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার ইরানের বিশ্বকাপ থেকে বিদায় উদযাপনমূলক মন্তব্যেরও কঠোর সমালোচনা করেছে তেহরান।