মেগা বাজেট পাস

বাজেট ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা

কাওসার আজম
Printed Edition
first-1
জাতীয় সংসদে গতকালের অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াত আমির ডা: শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে বিরোধী দল (বামে) ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকারি দলের সদস্যরা : নয়া দিগন্ত

  • ঘাটতি ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা
  • করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা
  • কালো টাকা সাদা করার সুযোগ বাতিল
  • কোম্পানি কর, ভ্যাট ও আয়কর ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার মেগা বাজেট পাস হয়েছে। করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা, কালো টাকা সাদা করার বিধান প্রত্যাহার এবং কোম্পানি কর, ভ্যাট ও আয়কর ব্যবস্থায় একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী এনে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি রেখেই বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়।

প্রায় তিন সপ্তাহের দীর্ঘ আলোচনা, ছাঁটাই প্রস্তাব ও রাজনৈতিক বিতর্ক শেষে গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে নির্দিষ্টকরণ বিল, ২০২৬ পাসের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর অনুকূলে ব্যয় বরাদ্দ চূড়ান্তভাবে অনুমোদন দেয়া হয়।

বিরোধী দলের ১ হাজার ৩৪২টি ছাঁটাই প্রস্তাবের মধ্যে কিছু নিয়ে আলোচনা হলেও পরে সময় সাশ্রয়ের স্বার্থে বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান সব প্রস্তাব প্রত্যাহার করে নেন। ফলে গিলোটিন পদ্ধতিতে অবশিষ্ট মঞ্জুরি দাবিগুলো একযোগে পাস করা হয়। গত ১২ ফেব্রুয়ারির ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার গঠনের পর এটি বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট। অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গত ১২ জুন এই বাজেট সংসদে উপস্থাপন করেন। দীর্ঘ আলোচনার ধারাবাহিকতায় গত সোমবার অর্থ বিল, ২০২৬ সংশোধিত আকারে পাস হওয়ার পর গতকাল মঙ্গলবার নির্দিষ্টকরণ বিলের মাধ্যমে বাজেটের চূড়ান্ত অনুমোদন সম্পন্ন হয়।

নির্দিষ্টকরণ বিলে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের ব্যয় নির্বাহের জন্য সর্বোচ্চ ১৫ লাখ ১৫ হাজার ৪৩৯ কোটি ৮ লাখ ৩৮ হাজার টাকা সংযুক্ত তহবিল থেকে ব্যয়ের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। যার মধ্যে ৮ লাখ ৩০ হাজার ৪১৪ কোটি ১ লাখ ৩৮ হাজার টাকা সংসদীয় ভোটে অনুমোদিত এবং অবশিষ্ট ৬ লাখ ৮৫ হাজার ২৫ কোটি ৭ লাখ টাকা সংযুক্ত তহবিলের দায় হিসেবে রাখা হয়েছে। একই সাথে বাজেটে রাজস্ব আহরণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা; যার মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে।

বাজেটের আকারে ইতিহাসের সর্বোচ্চ বৃদ্ধি

২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের আকার নির্ধারণ করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের মূল বাজেট ছিল ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা। ফলে এক অর্থবছরের ব্যবধানে বাজেটের আকার বেড়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা, যা শতকরা হিসাবে ১৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ। এটি বাংলাদেশের বাজেটের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বার্ষিক বৃদ্ধি।

এই বাজেটে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৯ হাজার কোটি টাকা, যা ইতোমধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় অনুমোদিত হয়েছে। রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) থেকে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা, নন-এনবিআর উৎস থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা এবং কর বহির্ভূত (এনটিআর) উৎস থেকে ৬৬ হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

আগামী অর্থবছরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করা এবং মূল্যস্ফীতি কমিয়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সাথে বাজেটের মোট আকার সম্ভাব্য জিডিপির ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ এবং বাজেট ঘাটতি জিডিপির ৩ দশমিক ৬ শতাংশের মধ্যে সীমিত রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রী ‘৩আর (৩জ) কৌশল’ ঘোষণা করেছেন। এই কৌশলের তিনটি ধাপ হলো, রিকভারি অ্যান্ড স্ট্যাবিলাইজেশন, রিস্টোরেশন এবং রিকনস্ট্রাকশন ফর অ্যাকসেলারেশন। আগামী এক থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ধাপে ধাপে এই কৌশল বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি

এবারের বাজেটে মোট ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই ঘাটতি পূরণে সরকারকে আগের মতোই বিদেশী ঋণ ও অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী বাজেট ঘাটতির ৪৬ শতাংশ অর্থ বিদেশী উৎস থেকে সংগ্রহ করা হবে, যা জিডিপির প্রায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ। বাকি ৫৪ শতাংশ অর্থায়ন করা হবে অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ব্যবস্থা ও সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ গ্রহণের মাধ্যমে।

বাজেট বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন ব্যয়সহ ৫৯টি মঞ্জুরি দাবি সংসদে উত্থাপন করেন। এসব দাবির বিপরীতে বিরোধী দলের পক্ষ থেকে ১ হাজার ৩৪২টি ছাঁটাই প্রস্তাব দেয়া হয়। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এবং স্বতন্ত্র সদস্যসহ ৪৩ জন সংসদ সদস্য ৩৬টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের ওপর ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করে আলোচনায় অংশ নেন।

বাজেট অধিবেশনে বিরোধীদলীয় নেতা ডা: শফিকুর রহমান বলেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ছাঁটাই প্রস্তাব দেয়া হলেও সেগুলো গৃহীত হওয়ার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। তাই সংসদের মূল্যবান সময় বাঁচানোর স্বার্থে সব ছাঁটাই প্রস্তাব একসাথে প্রত্যাহার করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, রেওয়াজের প্রতি সম্মান রেখেই বিরোধী দল প্রস্তাবগুলো দিয়েছিল। কিন্তু যেহেতু সেগুলো গৃহীত হওয়ার সম্ভাবনা নেই, তাই প্যাকেজ আকারে সব প্রস্তাব প্রত্যাহার করলে সরকারি দলের কাজও সহজ হবে।

তার বক্তব্যের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ জানান, ট্রেজারি বেঞ্চ বিষয়টি গ্রহণ করেছে। এরপর গিলোটিন (দীর্ঘ অমীমাংসিত বিষয়গুলো একসাথে ভোটে দেয়া) পদ্ধতি প্রয়োগ করে অবশিষ্ট মঞ্জুরি দাবিগুলো বিস্তারিত আলোচনা ছাড়াই কণ্ঠভোটে অনুমোদন দেয়া হয়। নির্দিষ্টকরণ বিল পাসের সময় বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সদস্যরা সংসদে উপস্থিত ছিলেন এবং বিল গৃহীত হওয়ার বিষয়ে কোনো আপত্তি জানাননি।

করমুক্ত আয়সীমা বেড়ে ৪ লাখ : কোম্পানি কর কাঠামোয় পরিবর্তন

অর্থ বিলে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানের প্রস্তাবে ব্যক্তিগত করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হয়েছে। একই সাথে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজ, বেসরকারি ডেন্টাল কলেজ, বেসরকারি ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ এবং শুধু তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ে শিক্ষাদানকারী বেসরকারি কলেজের আয়ের ওপর করহার ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে।

সংশোধিত অর্থ বিলে কোম্পানি করের কাঠামোতেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। যেসব পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানির পরিশোধিত মূলধনের অন্তত ১০ শতাংশ শেয়ার আইপিও, ডাইরেক্ট লিস্টিং, রাইট ইস্যু বা আরপিওর মাধ্যমে হস্তান্তরিত হয়েছে, তাদের করহার ২২ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সব লেনদেন ব্যাংক ট্রান্সফারের মাধ্যমে হলে করহার হবে ২০ শতাংশ।

যেসব পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানির ১০ শতাংশের কম শেয়ার বাজারে রয়েছে, তাদের করহার ২৫ শতাংশ এবং সব লেনদেন ব্যাংকিং চ্যানেলে হলে তা হবে ২২ দশমিক ৫ শতাংশ। অন্যান্য কোম্পানির করহার ২৭ দশমিক ৫ শতাংশ, তবে ব্যাংকিং চ্যানেলে সব লেনদেন হলে করহার ২৫ শতাংশ হবে।

ব্যাংক, বীমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে পাবলিকলি ট্রেডেড কোম্পানির করহার ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ এবং নন-পাবলিক কোম্পানির করহার ৪০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। তামাকজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের করহার ৪৫ শতাংশ এবং মোবাইল ফোন অপারেটর কোম্পানির করহারও ৪৫ শতাংশ রাখা হয়েছে। তবে পাবলিকলি ট্রেডেড মোবাইল অপারেটরের করহার হবে ৪০ শতাংশ।

ভ্যাট, বিআইএন ও রিটার্নে নতুন বিধান

মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক আইনে সংশোধনী এনে নিবন্ধিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানকে প্রতি তিন কর মেয়াদ শেষে ১৫ দিনের মধ্যে রিটার্ন জমা দেয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, বীমা কোম্পানি এবং শূন্য রিটার্ন দাখিলকারীরা তিন কর মেয়াদ শেষে ২০ দিনের মধ্যে রিটার্ন দিতে পারবে। জনস্বার্থে এনবিআর সুদ ও জরিমানা ছাড়া রিটার্ন জমার সময়সীমা বাড়াতে পারবে।

ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব খোলা, ঋণ গ্রহণ, ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন, মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট খোলা, বাণিজ্য সংগঠনের সদস্যপদ গ্রহণ, বিদ্যুৎ-গ্যাসসংযোগ নেয়া এবং প্রতিষ্ঠানের নামে যানবাহন নিবন্ধনের ক্ষেত্রে বিআইএন (ইওঘ) বা তালিকাভুক্তির প্রমাণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

আমদানিকৃত সেবাকে করযোগ্য সরবরাহ হিসেবে বিবেচনা করে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে। এই ভ্যাট পরিশোধের দায় থাকবে সেবা গ্রহণকারীর ওপর। খুচরা বিক্রেতার কাছে পণ্য বিক্রির সময় উৎপাদনকারী, আমদানিকারক, পরিবেশক বা আড়তদারকে ০ দশমিক ২ শতাংশ হারে উৎসে অগ্রিম আয়কর সংগ্রহ করতে হবে। স্বর্ণ, রৌপ্য, প্লাটিনাম ও ডায়মন্ড ব্যবসার ক্ষেত্রে ক্রয়মূল্যের ওপর ০ দশমিক ৫ শতাংশ উৎসে কর কর্তনের বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া প্রতি ভরি স্বর্ণ ও প্লাটিনামের ওপর ২ হাজার ৫০০ টাকা, রৌপ্যের ওপর ১০০ টাকা এবং ডায়মন্ডের ক্ষেত্রে প্রতি গ্রামে ২ হাজার ৫০০ টাকা ভ্যাট নির্ধারণ করা হয়েছে।

১ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আয়কর রিটার্ন জমা দিলে করদাতারা পরিশোধযোগ্য করের ৫ শতাংশ অথবা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত প্রণোদনা পাবেন। ১ অক্টোবর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কোনো প্রণোদনা বা অতিরিক্ত কর থাকবে না। অন্য দিকে ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত রিটার্ন দিলে ২ শতাংশ অথবা কমপক্ষে ৩ হাজার টাকা অতিরিক্ত কর এবং ১ এপ্রিল থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত রিটার্ন দাখিলে ৫ শতাংশ অথবা কমপক্ষে ৫ হাজার টাকা অতিরিক্ত কর দিতে হবে।

ফ্রিল্যান্সিং, এসএমই ও তামাকপণ্যে নতুন সুবিধা

ফ্রিল্যান্সিং ও কনটেন্ট ক্রিয়েশনকে কর অব্যাহতির আওতায় আনা হয়েছে। নারী ও প্রতিবন্ধী মালিকানাধীন এসএমই প্রতিষ্ঠানের ৭০ লাখ টাকা পর্যন্ত এবং অন্যান্য এসএমইর ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত বার্ষিক আয়করমুক্ত থাকবে। তবে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে এসএমই ফাউন্ডেশনে নিবন্ধিত হতে হবে।

গোষ্ঠীবীমা থেকে কর্মচারীর প্রাপ্ত সুবিধা করমুক্ত করা হয়েছে। সেন্টার ফর জাকাত ম্যানেজমেন্টে দেয়া অনুদান কর রেয়াতযোগ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকোকে নতুন তামাকপণ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে যথাক্রমে ৩৫ শতাংশ ও ৬৭ শতাংশ কর নির্ধারণ করা হয়েছে। দেশে উৎপাদিত বিলাতি মদের ওপর প্রতি লিটার প্রুফে ৫০০ টাকা এবং অপ্রক্রিয়াজাত তামাকের ওপর প্রতি কেজিতে ৫০ টাকা নির্দিষ্ট ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে।

কাস্টমস ও কম্পিউটার যন্ত্রাংশে পরিবর্তন

কাস্টমস আইন সংশোধন করে ওয়্যারহাউজে সংরক্ষিত পণ্যের ক্ষেত্রে কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করার বিধান রাখা হয়েছে। প্রয়োজনে তালা ভেঙেও কর্মকর্তারা প্রবেশ করতে পারবেন।

এ ছাড়া কাস্টমস তফসিলে পারসোনাল ডেস্কটপ কম্পিউটার ও প্রসেসিং ইউনিটের জন্য পৃথক এইচএস কোড (ঐঝ ঈড়ফব) সংযোজন করা হয়েছে। পারসোনাল ডেস্কটপ কম্পিউটার ও প্রসেসিং ইউনিটে শূন্য শতাংশ শুল্ক এবং অন্যান্য কম্পিউটার যন্ত্রাংশে ৫ শতাংশ শুল্কহার নির্ধারণ করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয় ও বিভাগভিত্তিক বাজেট বরাদ্দ (একনজরে)

অর্থ বিভাগ : ৮,৩০,৫৫১ কোটি ৯৫ লাখ ৭৪ হাজার টাকা

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ : ৬৯,২৪৮ কোটি ৯০ লাখ ৬২ হাজার টাকা

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ : ৫৭,৩০১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা

স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ : ৪৯,৩৮৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা

প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিজ্ঞান মন্ত্রণালয় : ৪৬,৭৩৭ কোটি ৯২ লাখ টাকা

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় : ৪২,৪৯৭ কোটি ৪৫ লাখ ৩৯ হাজার টাকা

স্থানীয় সরকার বিভাগ : ৪০,২৪৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা

পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ : ৩৬,৯১৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা

পরিকল্পনা বিভাগ : ৩৬,২৫১ কোটি ৩৫ লাখ টাকা

খাদ্য মন্ত্রণালয় : ৩২,৪১৪ কোটি ৫৮ লাখ ৪৮ হাজার টাকা

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় : ৩১,০৯৮ কোটি ৮৮ লাখ ১৫ হাজার টাকা

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় : ৩০,৪৪২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা

কৃষি মন্ত্রণালয় : ২৮,৮৮১ কোটি ৩৯ লাখ টাকা

কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগ : ১৮,৪৫৭ কোটি টাকা

বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় : ১৮,১১৫ কোটি ৩ লাখ টাকা

বিদ্যুৎ বিভাগ : ১৪,৯৯৬ কোটি ২ লাখ টাকা

স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ : ১৩,৪৬৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা

পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় : ১০,৫৩২ কোটি ৮০ লাখ টাকা

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় : ১০,৩৪৯ কোটি ৫৮ লাখ ৭ হাজার টাকা

রেলপথ মন্ত্রণালয় : ৯,৯৪০ কোটি ৪৪ লাখ টাকা

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় : ৯,০৮০ কোটি ৩৮ লাখ টাকা

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় : ৭,৫১৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা

মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় : ৫,১৯৬ কোটি ১৩ লাখ ৫৭ হাজার টাকা

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় : ৫,০৭৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় : ৫,০৬৬ কোটি ংবং৬৯ লাখ টাকা

অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ : ৪,৬৫৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা

নির্বাচন কমিশন সচিবালয় : ৪,৪০০ কোটি ৭৯ লাখ টাকা

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় : ৩,৮৪৫ কোটি ৬৭ লাখ টাকা

আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ : ৩,৫৬৬ কোটি ২৩ লাখ টাকা

ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় : ২,৯৫৫ কোটি ৪২ লাখ টাকা

সেতু বিভাগ : ২,৯০৮ কোটি ৪৩ লাখ টাকা

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় : ২৭২৭ কোটি ৫১ লাখ ৭১ হাজার টাকা

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় : ২,৫৮৬ কোটি ৬ লাখ টাকা

ভূমি মন্ত্রণালয় : ২,৪৩৯ কোটি ৪৬ লাখ ৮৩ হাজার টাকা

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ : ২,৩৮৯ কোটি ২ লাখ টাকা

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় : ২,২৪০ কোটি ১২ লাখ টাকা

আইন ও বিচার বিভাগ : ২,১৮৭ কোটি ৫৮ লাখ টাকা

ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ : ২,১৪১ কোটি ২২ লাখ টাকা

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ : ২,০৪৯ কোটি ২ লাখ টাকা

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় : ১,৮৮৪ কোটি ১১ লাখ টাকা

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় : ১,৮৪৪ কোটি ৪৩ লাখ টাকা

শিল্প মন্ত্রণালয় : ১,৬৯১ কোটি ৯০ লাখ টাকা

পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় : ১,৪৫৭ কোটি ৮২ হাজার টাকা

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় : ১,১৮৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা

পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ : ১,১০৫ কোটি ৬৪ লাখ টাকা

প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় : ৮৭৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা

সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় : ৮২৫ কোটি ৭৫ লাখ টাকা

পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ : ৬৭২ কোটি ১৫ লাখ টাকা

বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় : ৫১১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা

শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় : ৪৬৬ কোটি ৮৪ লাখ টাকা

বাংলাদেশের মহাহিসাব-নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় : ৩৭৬ কোটি ৯০ লাখ টাকা

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় : ৩২৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা

বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট : ২৯১ কোটি ৩৮ লাখ টাকা

জাতীয় সংসদ : ২৯০ কোটি ৬০ লাখ টাকা

বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ : ২৩১ কোটি টাকা

দুর্নীতি দমন কমিশন : ১৯৬ কোটি ৫৮ লাখ টাকা

বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন : ১৩৮ কোটি ৪৯ লাখ টাকা

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ : ১০৫ কোটি ৪৯ লাখ টাকা

লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ : ৪৯ কোটি ৪২ লাখ টাকা

সশস্ত্রবাহিনী বিভাগ : ৪৩ কোটি ৯০ লাখ টাকা

রাষ্ট্রপতির কার্যালয় : ৩৪ কোটি ৪৮ লাখ টাকা