২৫ শীর্ষ ব্যবসায়ীর বিচার চেয়ে ট্রাইব্যুনালে আবেদন

জুলাই-আগস্ট আন্দোলন দমনে হাসিনাকে সহায়তার অভিযোগ

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-আন্দোলন দমনে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রত্যক্ষ সহায়তার অভিযোগে বাংলাদেশের ২৫ জন শীর্ষ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলন (বৈছাআ)।

গতকাল মঙ্গলবার ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে এই অভিযোগ জমা দেয়া হয়। অভিযোগপত্রে ২৫ জনের নাম উল্লেখ ছাড়াও আরো ২০০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। পরে এক সংবাদ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের সভাপতি রিফাত রশিদ সাংবাদকদের জানান, গত জুলাই মাসে ইন্টারনেট শাটডাউন চলাকালীন এই ব্যবসায়ীরা তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করে আন্দোলন দমনে আর্থিক ও নীতিগত সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।

অভিযুক্তদের তালিকায় যারা রয়েছেন : অভিযোগপত্রে নাম থাকা উল্লেখযোগ্য ব্যবসায়ীদের মধ্যে রয়েছেন : সালমান এফ রহমান, বেক্সিমকো গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা; মোহাম্মদ সাইফুল আলম : এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান; আহমেদ আকবর সোবহান (শাহ আলম) : বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান; নাসিম মঞ্জুর : এপেক্স গ্রুপের চেয়ারম্যান; নজরুল ইসলাম মজুমদার : নাসা গ্রুপের তৎকালীন চেয়ারম্যান; মাহবুব আলম : সাবেক এফবিসিসিআই সভাপতি; এস এম মান্নান কচি : সাবেক বিজিএমইএ সভাপতি।

এ ছাড়াও প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের মো: সানি, বিকেএমইএ সভাপতি মো: হাতেম এবং দোকান মালিক সমিতির তৎকালীন সভাপতি হেলাল উদ্দিনসহ আরো বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যবসায়ীকে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

২০২৪ সালের ২২ জুলাই দেশে ইন্টারনেট সেবা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকা অবস্থায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে এক বৈঠকে মিলিত হন এই ব্যবসায়ী নেতারা। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই বৈঠকে তারা ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে ‘নৈরাজ্য’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তা কঠোরভাবে দমনের জন্য সরকারকে পূর্ণ সমর্থনের আশ্বাস দিয়েছিলেন। ছাত্র-আন্দোলনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ওই সমর্থন আন্দোলনকারীদের ওপর রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নকে আরো জোরালো করেছিল, যা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের আইনে মানবতাবিরোধী অপরাধের সহায়তাকারী হিসেবে গণ্য হতে পারে।