হিউম্যান রাইটস ওয়াচ

রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিচারকার্য দ্রুত করার আহ্বান

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিচারিক কার্যক্রম দ্রুত করার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)। রোববার প্রকাশিত সংস্থার এক বিশেষ প্রতিবেদনে এ আহবান জানানো হয়। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর পুলিশ দলটির হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থককে গ্রেফতার করে। তাদের মধ্যে শত শত মানুষ কোনো ধরনের অভিযোগ ছাড়াই এখনো কারাগারে আছেন।

প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, হাসিনা সরকারের গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের সাথে কিছু কর্মকর্তার জড়িত থাকার প্রমাণ থাকতে পারে। তবে আন্দোলনকারী বিক্ষোভকারীদের হত্যার অভিযোগে কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ ছাড়াই অনেককে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরিবারের সদস্য ও আইনজীবীরা অভিযোগ করেছেন, তাদের অনেকেই বয়স্ক এবং কেউ কেউ গুরুতর অসুস্থ। তারপরও তারা জামিন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মতো মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১০ জন আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী কারাগারে মারা গেছেন। তাদের বেশির ভাগের বিরুদ্ধে কোনো সুনির্দিষ্ট অপরাধের অভিযোগ ছিল না।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়াবিষয়ক পরিচালক এলাইন পিয়ারসন বলেন, এক সরকারের পর আরেক সরকার শত শত বিরোধী দলের নেতাকর্মীকে কোনো প্রমাণ বা যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই কারাগারে আটকে রেখেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার সংস্কারের কথা বলেছে। সেই সংস্কারের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে তার উচিত রাজনৈতিক বিরোধীদের দীর্ঘদিন ধরে এভাবে আটকে রাখা বন্ধ করা।

সংস্থাটি বলেছে, সরকার সংস্কারের বদলে নতুন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন করছে। বর্তমান খসড়াটি যেভাবে আছে, সেভাবে আইনটি পাস হলে নতুন কমিশন বেআইনি বা অযৌক্তিকভাবে কাউকে গ্রেফতারের অভিযোগ তদন্ত করতে পারবে না। যাদের কোনো অভিযোগ ছাড়াই আটকে রাখা হয়েছে, তাদের মধ্যে আওয়ামী লীগের সাবেক এমপি কর্মীসহ হাসিনা সরকারের সমর্থক সরকারি কর্মকর্তা ও সাংবাদিক।

এ ছাড়া নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু সদস্যের বিরুদ্ধেও গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। এর মধ্যে আছে বিচারবহির্ভূত হত্যা, নির্যাতন ও গুমের অভিযোগ। কারো কারো বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, যেসব মামলায় কোনো প্রমাণ পেশ করা হয়নি, সেসব মামলাতেও রাষ্ট্রপক্ষ বারবার জামিন বাতিলের আবেদন করেছে। নি¤œ আদালত ও জেলা আদালতগুলোও নিয়মিত জামিন নাকচ করেছে। আবার হাইকোর্ট জামিন দিলেও সরকার নতুন মামলা দিয়ে তা আটকে দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে বিচার শুরু হওয়ার আগে কিছু ক্ষেত্রে আটক রাখা বা শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেয়ার সুযোগ আছে। তবে এমন আটক রাখাটা হতে হবে ব্যতিক্রমী বিষয়, সাধারণ নিয়ম নয়। আর কাউকে আটক রাখার প্রয়োজন আছে কি না, সেটি প্রত্যেক ব্যক্তির ক্ষেত্রে আলাদাভাবে বিবেচনা করতে হবে।

সংস্থাটি আরো বলেছে, বিচার শুরুর আগে কাউকে আটকে রাখার ক্ষেত্রে তার স্বাধীনতার অধিকার, যতক্ষণ না অপরাধ প্রমাণিত হচ্ছে ততক্ষণ নির্দোষ ধরে নেয়ার নীতি এবং সবার সমান অধিকারের বিষয়গুলো মানতে হবে।

বাংলাদেশ সরকারের উচিত তাদের আমলে কারাগারে হওয়া সব মৃত্যুর ঘটনায় স্বাধীন তদন্তের নির্দেশ দেয়া এবং কোনো অভিযোগ ছাড়াই মানুষকে দীর্ঘদিন অযৌক্তিকভাবে আটকে রাখা বন্ধ করা।