জুলাইয়ের চেতনার সাথে বেঈমানি বরদাশত করা হবে না : জামায়াত

Printed Edition
3rd-4
জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ বৈঠকে নেতৃবৃন্দ : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

২৪-এর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ফলে বিএনপি সরকার গঠন করলেও তাদের মাঝে জুলাইয়ের চেতনা দেখা যাচ্ছে না বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। উল্টো বর্তমান সরকার ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার পুরোনো পথেই হাঁটছে বলে অভিযোগ করেছেন দলটির নেতারা। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের রক্তের সাথে কাউকে বেঈমানি করতে দেয়া হবে না এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়নে কোনো আপোষ করা হবে না।

গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর একটি কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের কর্মপরিষদ বৈঠকে বক্তারা এসব কথা বলেন। বৈঠকে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচিও নির্ধারণ করা হয়। কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির মো: নূরুল ইসলাম বুলবুল এমপির সভাপতিত্বে বৈঠকে দলটির শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। বৈঠকে বক্তারা বলেন, জুলাইয়ের আকাক্সক্ষা করার উদ্যোগ নিয়েছে। ফাজিল-কামিল শিক্ষাকে মূলধারার উচ্চশিক্ষার সাথে আরো শক্তভাবে যুক্ত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশের শিক্ষাব্যবস্থায় নৈতিক শিক্ষা ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা এখন আরো বেশি অনুভূত হচ্ছে। ইসলামী শিক্ষা এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে এর জন্য প্রয়োজন দক্ষ শিক্ষক, আধুনিকায়িত শিক্ষাব্যবস্থা এবং বাস্তবমুখী কারিকুলাম। মাদরাসা খাতে শিক্ষক সঙ্কটের বিষয় তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অনেক প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় শিক্ষক নিয়োগ দেয়া যাচ্ছে না। বিশেষ করে ইসলামী শিক্ষায় দক্ষ শিক্ষক পাওয়া বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় কারিকুলাম উন্নয়ন ও শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো সক্রিয় হতে হবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, শুধু সনদ অর্জন নয়, জ্ঞান, গবেষণা ও দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে। ইসলামী শিক্ষার শিক্ষার্থীদেরও দেশের সব খাতে অবদান রাখার সক্ষমতা তৈরি করতে হবে। ফাজিল-কামিল শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা, বিসিএসসহ বিভিন্ন জাতীয় সুযোগের সাথে যুক্ত করার উদ্যোগ আরো সম্প্রসারণ করা হবে।

সভাপতির বক্তব্যে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবু জাফর খান বলেন, ফাজিল ও কামিল শিক্ষার স্বীকৃতি প্রতিষ্ঠিত হলেও এখনো বিভিন্ন ক্ষেত্রে এসব ডিগ্রিধারীরা কাক্সিক্ষত সুযোগ-সুবিধা ও মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সরকারি নিয়োগ ও উচ্চশিক্ষার বিভিন্ন পর্যায়ে ফাজিল-কামিল শিক্ষার্থীদের জন্য আরো সুস্পষ্ট স্বীকৃতি ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, মাদরাসা শিক্ষাকে আধুনিকায়ন ও মূলধারার শিক্ষার সাথে সমন্বয় করেই দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে হবে।

বিশেষ অতিথিদের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব, আবদুল খালেক এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের (মাউশি) মহাপরিচালক, প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল।

এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন, নওগাঁ বিশ^বিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো: হাছানাত আলী, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ^বিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান খান, ইসলামী আরবি বিশ^বিদ্যালয়ের প্রোভিসি (শিক্ষা) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শহীদুল ইসলাম, প্রোভিসি (প্রশাসন) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ইলিয়াছ ছিদ্দিকী, ট্রেজারার শাহীনুল ইসলাম, কামিল (স্নাতকোত্তর) শিক্ষা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কেন্দ্রের ডিন, প্রফেসর ড. মো: ইদ্রিস আলী, মাদরাসা পরিদর্শক (অতি: দায়িত্ব) প্রফেসর ড. মুহাম্মদ গোলাম রব্বানী, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) ফাহাদ আহমদ মোমতাজী এবং ইআবির শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ অধিভুক্ত মাদরাসাগুলোর অধ্যক্ষ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। বিজ্ঞপ্তি।