তালগাছ না পেয়ে নারিকেল গাছে বাবুই পাখির বাসা

Printed Edition

এম এ রকিব শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার)

এক সময় আবহমান বাংলার গ্রামগঞ্জে উঁচু তালগাছে ঝুলে থাকা বাবুই পাখির দৃষ্টিনন্দন বাসা ছিল চিরচেনা দৃশ্য। গ্রামের আকাশ ভরে থাকত তাদের কিচিরমিচির কলরবে। তবে কালের বিবর্তন, পরিবেশের অবক্ষয় এবং তালগাছের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় এখন সেই দৃশ্য প্রায় হারিয়ে যেতে বসেছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক বছরের মধ্যে দেশের প্রকৃতি থেকে বাবুই পাখি বিলুপ্ত হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

চায়ের রাজধানী ও পর্যটন নগরী মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে দিন দিন কমছে তালগাছ, সেই সাথে কমছে বাবুই পাখি ও তাদের শৈল্পিক বাসা। তবে আশার কথা হলো; যতটুকু বাবুই পাখি এখনো টিকে আছে, তারা বিকল্প হিসেবে বেছে নিচ্ছে নারিকেল ও সুপারি গাছকে। শ্রীমঙ্গলসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে এখন নারিকেল ও সুপারি গাছে বাবুই পাখির বাসা চোখে পড়ছে।

শ্রীমঙ্গল শহরের সবুজবাগ আবাসিক এলাকার বিভিন্ন বাসা-বাড়ির সুপারি গাছে বাবুই পাখির বাসা বাঁধতে দেখা গেছে। এ ছাড়া উপজেলার কালিঘাট ইউনিয়নের ভাড়াউড়া চা বাগানসহ বিভিন্ন গ্রামে নারিকেল ও সুপারি গাছে বাবুই পাখির বাসা দেখা গেছে। এসব দৃশ্য দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করছেন স্থানীয় ও দূর-দূরান্তের মানুষ। অনেকেই বাবুই পাখির এই শৈল্পিকভাবে নির্মাণ করা বাসা ক্যামেরাবন্দী করছেন।

ভাড়াউড়া চা বাগানের শ্রমিক সমিরণ হাজরা জানান, কয়েক বছর ধরে তাদের বাড়ির সামনে একটি নারিকেল গাছে বাবুই পাখিরা নিয়মিত বাসা তৈরি করছে। আমরা গাছ থেকে ডাব বা নারিকেল এমনভাবে সংগ্রহ করি যাতে পাখিদের কোনো ক্ষতি না হয়। মৌলভীবাজারের বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকর্তা মির্জা মেহেদী সারোয়ার নয়া দিগন্তকে বলেন, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এবং বাবুই পাখিকে টিকিয়ে রাখতে আমাদের সচেতন হতে হবে, পাশাপাশি তালগাছ রোপনের উদ্যোগ নিতে হবে। তালগাছ কমে যাওয়ায় শুধু যে বাবুই পাখি অন্য গাছে বাসা বুনছে তাই নয়, এতে বজ্রপাতের ঝুঁকিও বাড়ছে।

উল্লেখ্য, বাবুই পাখি প্রকৃতির ‘ইঞ্জিনিয়ার’ হিসেবে পরিচিত। খড়, পাতা ও লতা দিয়ে তারা নিপুণভাবে উল্টানো কলসির মতো বাসা তৈরি করে। দলবদ্ধভাবে বসবাস করা এ পাখিরা সাধারণত বীজ, ধান, পোকামাকড় ও ফুলের মধু খেয়ে বেঁচে থাকে। মে থেকে সেপ্টেম্বর তাদের প্রজননকাল। প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় বাবুই পাখি সংরক্ষণে এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো শুধু বইয়ের পাতাতেই এই শিল্পী পাখির নাম খুঁজে পাবে।