উখিয়াকে মডেল থানা করার দাবি

Printed Edition

উখিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা

মিয়ানমার সীমান্তঘেঁষা কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলা বর্তমানে দেশের অন্যতম স্পর্শকাতর জনপদ। ১৩ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা নাগরিকের অবস্থান এবং সীমান্ত পরিস্থিতির কারণে এখানকার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ক্রমেই চ্যালেঞ্জিং হয়ে উঠছে। এ বিশেষ প্রেক্ষাপটে উখিয়া থানাকে ‘মডেল থানা’ হিসেবে রূপান্তর করে জনবল ও কাঠামোগত সক্ষমতা বাড়ানোর জোরালো দাবি উঠেছে।

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের মতে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো কেন্দ্র করে মাদকপাচার, অস্ত্র ব্যবসা, মানব পাচার ও অপহরণের মতো অপরাধ ডালপালা মেলছে। বিশেষ করে সীমান্ত দিয়ে আসা ইয়াবার বড় বড় চালান ক্যাম্পে মজুত করে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দেয়া হচ্ছে। ক্যাম্পের নিরাপত্তায় এপিবিএন নিয়োজিত থাকলেও, অপরাধীদের আইনি প্রক্রিয়ার জন্য উখিয়া থানাতেই সোপর্দ করা হয়। বিজিবির হাতে আটক সীমান্ত অপরাধীদের চাপও এ থানার ওপর পড়ে। ফলে মামলার পাহাড় ও তদন্তের চাপে হিমশিম খাচ্ছেন সীমিত জনবলের পুলিশ সদস্যরা।

উখিয়া থানার নবাগত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মজিবুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা সঙ্কটের কারণে এখানকার বাস্তবতা সাধারণ থানার চেয়ে ভিন্ন ও অনেক বেশি চ্যালেঞ্জিং। মামলার চাপের তুলনায় আমাদের জনবল ও অবকাঠামো অপ্রতুল। উখিয়া থানাকে বিশেষায়িত ক্যাটাগরিতে এনে মডেল থানায় রূপান্তর করা এখন সময়ের দাবি। এটি সম্ভব হলে জনসেবা ও অপরাধ দমন আরও কার্যকর হবে।

দীর্ঘদিন ধরে থানাটিকে ঘিরে দালালচক্র ও নানা বিতর্কের অভিযোগ থাকলেও নতুন ওসি পরিবর্তনের অঙ্গীকার করেছেন। তিনি বলেন, আমি এখানে নতুন, দালাল চিনি না। আমার লক্ষ্য উখিয়া থানাকে দালালমুক্ত ও জনবান্ধব করা। মানুষ যাতে সহজে ন্যায়বিচার পায়, সেটিই আমার অগ্রাধিকার। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থেই উখিয়া থানাকে আধুনিক প্রযুক্তি ও পর্যাপ্ত জনবল দিয়ে শক্তিশালী করা জরুরি।