অভিজ্ঞতার সামনে গতির পরীক্ষা

বেলজিয়াম বনাম সেনেগাল

Printed Edition
khela-3
বেলজিয়ামের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে অনুশীলনে সাদিও মানের সেনেগাল : ইন্টারনেট

ক্রীড়া প্রতিবেদক

বিশ্বকাপ ফুটবলের নকআউটের জমজমাট লড়াইয়ে আফ্রিকার প্রতিপক্ষ ইউরো। ইউরোপের অন্যতম শক্তিশালী দল বেলজিয়াম ও আফ্রিকার পরাশক্তি সেনেগাল। দুই ভিন্ন ফুটবল দর্শনের লড়াই হিসেবেই দেখা হচ্ছে ম্যাচটিকে। গ্রুপের শেষ ম্যাচে ৫ গোল করে ফর্মে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছে উভয় দলই। এক দিকে অভিজ্ঞতা, কৌশল ও বলের নিয়ন্ত্রণে দক্ষ বেলজিয়াম; অন্য দিকে গতি, শারীরিক সক্ষমতা ও আক্রমণাত্মক ফুটবলে বিশ্বাসী সেনেগাল। আকর্ষণীয় এ ম্যাচটি বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় সিয়াটল স্টেডিয়ামে শুরু হবে।

গ্রুপ পর্বে মিশরের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র দিয়ে শুরু করেছিল বেলজিয়াম। পরের ম্যাচেও মধ্য এশিয়ার দেশ ইরানের সাথে গোলশূন্য ড্র। কিন্তু গ্রুপের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখিয়ে নকআউট নিশ্চিত করেছে বেলজিয়াম। দলের রক্ষণভাগ ছিল বেশ সংগঠিত, আর মাঝমাঠে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে প্রতিপক্ষকে চাপে রাখার কৌশলে ছিল সফল। তবে গোলের সুযোগ তৈরি করলেও অনেক সময় ফিনিশিংয়ে ঘাটতি দেখা গেছে। সেই দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারলে নকআউট পর্বের এই ম্যাচে আরো ভয়ঙ্কর হয়ে উঠতে পারে বেলজিয়াম।

অন্য দিকে আত্মবিশ্বাস নিয়ে এই ম্যাচে নামছে সেনেগালও। কারণ ‘আই’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী ফ্রান্সের বিপক্ষে ৩-১ ব্যবধানে পরাজয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও নরওয়ের বিপক্ষে লড়াই করে ৩-২ গোলের হার। কিন্তু গ্রুপের শেষ ম্যাচে এশিয়ার দেশ ইরাককে ৫-০তে উড়িয়ে তৃতীয় সেরা দল হিসেবে নকআউটের যোগ্যতা অর্জন করে আফ্রিকার অন্যতম সেরা দলটি। গ্রুপ পর্বে নিজেদের সামর্থ্যরে প্রমাণ দেয়া দলটির শক্তিশালী রক্ষণ, দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক এবং মাঝমাঠের দাপুটে ফুটবলই অন্যতম অস্ত্র। বড় দলের বিপক্ষে লড়াই করার অভিজ্ঞতাও রয়েছে সেনেগালের, যা নকআউট ম্যাচে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বেলজিয়ামের সবচেয়ে বড় ভরসা তাদের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়রা। আক্রমণে রোমেলু লুকাকু সুযোগ পেলে এখনো যেকোনো রক্ষণ ভেঙে দিতে সক্ষম। মাঝমাঠে কেভিন ডি ব্রুইনার সৃজনশীলতা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে। এ ছাড়া জেরেমি ডকু ও লোইস ওপেন্ডার গতি বেলজিয়ামের আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। কোচ চাইবেন শুরু থেকেই বলের দখল নিয়ে সেনেগালকে নিজেদের অর্ধে আটকে রাখতে।

অন্যদিকে সেনেগালের শক্তি দলগত পারফরম্যান্স। রক্ষণভাগকে নেতৃত্ব দেবেন অধিনায়ক কালিদু কুলিবালি। মাঝমাঠে ইদ্রিসা গানা গেইয়ের অভিজ্ঞতা এবং লামিন কামারার প্রাণশক্তি দলকে ভারসাম্য দেবে। আক্রমণে ইসমাইলা সারের গতি ও ড্রিবলিং বেলজিয়ামের রক্ষণকে কঠিন পরীক্ষায় ফেলতে পারে। বিশ্বকাপে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন এই ফরোয়ার্ড। ইরাকের বিপক্ষে তার চমৎকার পারফরম্যান্সে দলের বড় জয় নিশ্চিত করে। এর আগে নরওয়ের বিপক্ষেও দুইবার জালের দেখা পেয়েছেন সারে। সব মিলে সুযোগ পেলেই দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ওঠাই হবে সেনেগালের মূল পরিকল্পনা।

দুই দলের মাঝমাঠের লড়াই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ম্যাচটি হতে পারে দারুণ উপভোগ্য। নকআউট ম্যাচে মানসিক দৃঢ়তাও বড় বিষয়। বেলজিয়ামের ওপর প্রত্যাশার চাপ বেশি। দীর্ঘদিন ধরে ‘সোনালি প্রজন্ম’ নিয়ে আলোচনা হলেও বড় কোনো আন্তর্জাতিক শিরোপা জিততে পারেনি তারা। তাই এবার প্রতিটি ম্যাচই তাদের জন্য ফাইনালের মতো। অন্য দিকে সেনেগালের হারানোর তেমন কিছু নেই। নির্ভার ফুটবল খেলতে পারলে যেকোনো মুহূর্তে চমক দেখাতে সক্ষম আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।

অভিজ্ঞতা ও স্কোয়াডের গভীরতা বিবেচনায় বেলজিয়াম কিছুটা এগিয়ে থাকলেও কোনোভাবেই হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই সেনেগালকে। আফ্রিকান দলটি শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবল খেলতে পারলে এবং দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক কাজে লাগাতে পারলে বড় অঘটন ঘটাতেও সক্ষম। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এখন পর্যন্ত একবারও মুখোমুখি হয়নি দুই দল। ফিফা বিশ্বকাপের নকআউট পর্বের ম্যাচটিই আন্তর্জাতিক ফুটবলে এই দুই দেশের প্রথম দেখা।