ছিল না ফায়ার সার্ভিসের সেফটি প্ল্যান

ডেমরায় প্যাকেজিং কারখানায় ভয়াবহ আগুন : আহত ২

Printed Edition

ডেমরা (ঢাকা) প্রতিনিধি

রাজধানীর ডেমরায় আগুনে পুড়ে গেছে ইমোরটোফ্লেক্স নামে চিপস ও চানাচুরসহ বিভিন্ন খাদ্যপণ্যের একটি পলিস্টার প্যাকেজিং কারখানা। গতকাল দুপুরে আমুলিয়া মডেল টাউনের ভেতরে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় গুরুতর আহত শ্রমিক সুজনকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে খবর পেয়ে ডেমরা স্টেশনসহ ফায়ার সার্ভিসের ৮টি টিম ঘটনাস্থলে এসে ২ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে বিকেল ৫টার দিকে আগুন নির্বাপণে সক্ষম হয় তারা। এ সময় আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের এক সদস্য পায়ে আঘাত পেয়েছেন। আগুনে কারখানার মেশিন ও মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। বিশেষ করে কারখানাটিতে ধাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে প্রিন্টিং মেশিনের যন্ত্রাংশের ঘর্ষণে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, বড় বড় প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো ইমোরটোফ্লেক্স পলিস্টার প্যাকেজিং কারখানায় অগ্নি প্রতিরোধের সেফটি প্ল্যান ছিল না। তা ছাড়া কারখানাতে প্রিন্টিং, এলডি, লেমিনেশন ও পাউসসহ মোট চারটি মেশিন ছিল একটি ইউনিটে। মূলত প্রিন্টিং মেশিন থেকেই আগুন ছড়ায়। এক্ষেত্রে ট্রের মধ্যে থাকা কেমিক্যালের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় কারখানায় থাকা ফায়ার এক্সটিং গুসার দিয়ে প্রথমে শ্রমিকরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেয়। তারা যদি শুরুতেই ফায়ার সার্ভিসে খবর দিত তাহলে আগুন নিয়ন্ত্রণে এত বেগ পেতে হতো না।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢাকা ফায়ার সার্ভিসের সরকারি পরিচালক কাজী নজমুজ্জামান বলেন, কারখানাটিতে ফায়ার সার্ভিসের সেফটি প্ল্যান ছিল না। তা ছাড়া আগুন নেভানোর জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ চোখে পড়েনি। তবে এখানে কর্তৃপক্ষ কিভাবে কারখানাটি স্থাপন করেছে সে বিষয়টি আমরা তদন্তের মাধ্যমে বের করে আনব।

এ বিষয়ে ডেমরা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো: মুরাদ হোসেন বলেন, আহত ব্যক্তিকে ঢামেক হাসপাতালে বার্ন ইউনিটি ভর্তি করা হয়েছে। আগুন লাগার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেছে।