ব্যবসায়ীর পকেটে ইয়াবা দিয়ে মামলা, তদন্তে কমিটি গঠন
Printed Edition
নিজস্ব প্রতিবেদক
মালিবাগের ফরচুন মার্কেটে এক ব্যবসায়ীর পকেটে ইয়াবা দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করার ঘটনায় ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা জোনের ডিসি শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেছেন, যদি সত্যিই কেউ ইয়াবা দিয়ে ওই ব্যবসায়ীকে পুলিশে দিয়ে থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ঘটনার সাথে পুলিশের কেউ জড়িত থাকলে তাকেও বিচারের মুখোমুখি করা হবে। এ দিকে পকেটে ইয়াবা দিয়ে ইসমাইল হোসেন প্রধানিয়াকে পুলিশে দেয়ার ঘটনায় মামলা করছেন স্ত্রী আফরিন হোসেন মুন্নী।
তিনি বলেন, ২০০৯ সালে মৌচাক ও ফরচুন শপিংমলের পরিচালক আবুল হোসেনের হাত ধরে নাছির উদ্দিন দুলাল নামে একজন প্রতারণার মাধ্যমে ফরচুর অ্যাপার্টমেন্টের একটি ফ্লাটের মালিকানা নেয়। পরে গেন্ডারিয়া এলাকার সাবেক শহিদ কমিশনার, রমনার সাবেক কমিশনার আওয়ামী লীগ নেতা মোখলেছুর রহমান ও যুবলীগের সেক্রেটারি মঈনুল হোসেন নিখিলের আস্থাভাজন হয়ে প্রভাব বিস্তার করতে থাকেন নাছির উদ্দিন দুলাল। আওয়ামী নেতাদের ছত্রছায়ায় থেকে নাছির উদ্দিন দুলাল আর্থিক দুর্নীতি, এজমালি সম্পত্তি ক্রয়-বিক্রয়সহ হিন্দু সম্প্রদায়ের অর্থ আত্মসাৎ করতে শুরু করেন। দুর্নীতির কারণে তাকে ফরচুন শপিংমল ও অ্যাপার্টমেন্ট হতে বহিষ্কার করা হয়।
২০২৪ এর ৫ আগস্ট, আওয়ামী লীগ পালিয়ে গেলে পালিয়ে যান নাসির উদ্দিন দুলালও। কিন্তু পালিয়ে থেকেও তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকেন্দ্রিক হত্যা ও বিভিন্ন ফৌজদারি ঘটনায় মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে নতুন কমিটির সদস্যদের হয়রানি শুরু করেন। শুধু তাই নয় নতুন কমিটির ১নং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক প্রবাসী ইসমাইল হোসেন প্রধানিয়াকে মিথ্যা মামলায় হাসপাতাল থেকে ডিবি পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করায়। বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার শুরু হলে জামিন পান ইসমাইল হোসেন। শুধু প্রধানিয়াই নয় মার্কেট কমিটির ৯ জনের বিরুদ্ধে ২৮টি মিথ্যা মামলা করেন দুলাল।
২০২৬ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর কিছুদিন অপকর্ম বন্ধ রেখে পরে সরকারদলীয় কয়েকজন বিতর্কিত নেতা ও কর্মীর সহায়তায় ফরচুন শপিংমল দখলের চেষ্টা চালাতে শুরু করেন। সবশেষে রমনা থানা বিএনপি নেতা শামীম হোসেন, বদরুল আলম সবুজসহ কয়েকজনের কাধে ভর করে পুনরায় তার আগের দৌরাত্ম্য চালাতে চেষ্টা করেন। তারই অংশ হিসেবে গত শুক্রবার চক্রের সদস্যদের দিয়ে ইসমাইল হোসেন প্রধানিয়ার পকেটে ইয়াবা দিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেয়া হয়। যা সিসি ক্যামেরায় স্পষ্টভাবে ধারণ হয়েছে।
সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, ইসমাইল হোসেন ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের সপ্তম শ্রেণীতে পড়ুয়া মেয়ে ইমতিশাকে নিয়ে চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরছিলেন। মার্কেটের নিচে আসার পর মাস্ক পরা কয়েকজন লোক তাকে ধরে টানাহেঁচড়া শুরু করেন। একপর্যায়ে ইসমাইলের পকেটে কিছু একটা ঢুকানোর চেষ্টা করেন। ওই সময়ে ঘটনাস্থলের আশপাশে কিছু পুলিশও অপেক্ষমাণ ছিল। একটু পর ঘটনাস্থলে এসে ইসমাইলের পকেট থেকে ৯০ পিস ইয়াবা উদ্ধার দেখায় পুলিশ। শুধু তাই নয়, নাটকীয় এ ঘটনায় ব্যবসায়ী ইসমাইল হোসেন প্রধানিয়ার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা ও গ্রেফতার করা হয়।
এ ব্যাপারে জানতে বিএনপি নেতা শামীম হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। নাসির উদ্দিন দুলালকে ফোন করলে তিনি রিসিভ করে কোন কথা না বলে লাইন কেটে দেন।