পাঁচ শতকের নীরব সাক্ষী ভারুকাঠি জামে মসজিদ

Printed Edition
bangla-6
ঝালকাঠি সদর উপজেলার ভারুকাঠি গ্রামের জামে মসজিদ : নয়া দিগন্ত

আতিকুর রহমান ঝালকাঠি

ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাভারাম চন্দ্রপুর ইউনিয়নের ভারুকাঠি গ্রামে দাঁড়িয়ে আছে সময়ের সাক্ষী এক প্রাচীন স্থাপনা ভারুকাঠি মিঞাবাড়ি জামে মসজিদ। স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী, মুঘল সম্রাট শাহজাহানের দ্বিতীয় পুত্র শাহজাদা সুজার সফরসঙ্গী শেখ আব্দুল মজিদ এখানে আস্তানা গড়ে তিন গম্বুজবিশিষ্ট এ মসজিদ নির্মাণ করেন। ধারণা করা হয়, ১৬০০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে এর নির্মাণকাল।

স্থাপত্যশৈলীতে মসজিদটি মুঘল রীতির প্রভাব বহন করে। মূল কাঠামোয় তিনটি প্রবেশদ্বার, চারপাশে পিলারের ওপর ছোট-বড় পাঁচটি মিনার এবং মাঝখানে তিনটি গম্বুজ যার কেন্দ্রীয় গম্বুজটি বৃহত্তম। দেয়ালের পুরুত্ব প্রায় ৪২ ইঞ্চি, যা তৎকালীন নির্মাণকৌশলের দৃঢ়তার প্রমাণ। ভেতর-বাইরে সূক্ষ্ম কারুকাজ ও নকশা প্রাচীন শিল্পরুচির পরিচয় দেয়।

মসজিদের পূর্ব পাশে বিস্তৃত দীঘি পুরো স্থাপনাকে দিয়েছে নান্দনিক আবহ। স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য, মসজিদ ও দীঘি একই সময়ে নির্মিত। ইতিহাসবিদদের মতে, এ ধরনের ধর্মীয় স্থাপনা শুধু উপাসনালয় নয়, বরং অঞ্চলটির সামাজিক-সাংস্কৃতিক বিকাশেরও কেন্দ্র ছিল।

স্থানীয়দের বিশ্বাস ও নানা কিংবদন্তিও জড়িয়ে আছে এ মসজিদকে ঘিরে। একই সাথে শেরেবাংলা এ কে ফজলুল হকসহ ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বদের স্মৃতিচারণ এ স্থানকে আরো তাৎপর্যপূর্ণ করেছে।

যথাযথ সংরক্ষণ ও গবেষণার মাধ্যমে ভারুকাঠি মিঞাবাড়ি জামে মসজিদকে জাতীয় ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে তুলে ধরা গেলে এটি হতে পারে দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ প্রতœ-পর্যটন কেন্দ্র। পাঁচ শতকের ইতিহাস বয়ে চলা এ স্থাপনাটি আজও অতীতের গৌরবগাথা নীরবে স্মরণ করিয়ে দেয়।