নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ আচরণ করতে হবে : ডাকসু ভিপি

Printed Edition

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (ডাকসু) সহসভাপতি সাদিক কায়েম বলেছেন, জাতীয় রাজনীতির ক্ষেত্রে জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সময়ে বিশেষ করে দেশের তরুণ ভোটাররা, যারা গত তিনটি নির্বাচনে ভোট দেয়ার সুযোগ পায়নি- তাদের জন্য একটি অবাধ, সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য ও স্বচ্ছ জাতীয় নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি। এ ক্ষেত্রে রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে এবং নির্বাচন কমিশনকে নিরপেক্ষ থেকে সব দলের জন্য সমান সুযোগ বা ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, জুলাই বিপ্লবের সংস্কারকার্যক্রমকে টেকসই করতে গণভোট ও গণমতের বিজয় নিশ্চিত করতে হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার সদ্য নির্বাচিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের নেতৃবৃন্দের সাথে শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদির কবর জিয়ারত শেষে এ কথা বলেন তিনি।

আবু সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট একটি নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির জন্ম দিয়েছে, যার মূল কারিগর ছিলেন আন্দোলনের শহীদরা। শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি থেকে শুরু করে আজাদি আন্দোলনের সব শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই আজকের এই স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তাদের রক্তের দামে ক্যাম্পাসগুলো দীর্ঘদিনের ছাত্রলীগের সন্ত্রাস ও দখলদারিত্বের ‘কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্প’ থেকে মুক্ত হয়েছে এবং শিক্ষার্থীরা আবারো মুক্তভাবে মতপ্রকাশের অধিকার ফিরে পেয়েছে।

তিনি বলেন, বিপ্লবের পরপরই দেশের পাঁচটি বড় ক্যাম্পাস ডাকসু, জাকসু, রাকসু, চাকসু, জকসুতে সফলভাবে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা এই নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতার একটি বড় অর্জন। জকসু নির্বাচনের ক্ষেত্রে জুলাই বিপ্লবের শহীদদের পাশাপাশি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপসহীন নেত্রীর প্রতি উৎসর্গ করছি। এসব নির্বাচনে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত জয়-পরাজয়ের প্রশ্ন ছিল না; বরং এটি ছিল সাধারণ শিক্ষার্থীদের সম্মিলিত বিজয়। নির্বাচিত প্রতিনিধিরা বিপ্লবকালীন ঐক্য বজায় রেখে ক্যাম্পাসে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন।

তিনি আরো বলেন, ছাত্র সংসদগুলো ক্যাম্পাসে সুস্থ ধারার রাজনীতি প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে এবং শিক্ষার্থীদের দেয়া কথা বাস্তবায়নে পাঁচ গুণ বেশি কাজ করার অঙ্গীকার করেছে। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী ক্যাম্পাসে আর কোনো চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি বা ‘ফাও খাওয়ার’ সংস্কৃতি থাকবে না। একই সাথে গণরুম ও গেস্টরুমের নামে শিক্ষার্থীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে চলা নিপীড়ন চিরতরে বন্ধ করার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। পেশিশক্তিনির্ভর রাজনীতির বদলে মূল্যবোধ ও আদর্শভিত্তিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য একটি নিরাপদ ও মানবিক ক্যাম্পাস গড়ে তোলাই তাদের মূল লক্ষ্য।

তিনি বলেন, বিগত ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে সংঘটিত গুম, আয়নাঘরসহ সব ধরনের হত্যাকাণ্ড এবং জুলাই বিপ্লবে প্রায় দুই হাজার মানুষের হত্যা ও চল্লিশ হাজার মানুষের পঙ্গুত্বের জন্য দায়ীদের বিচার নিশ্চিত করার দাবি জোরালোভাবে উত্থাপিত হয়েছে। বিশেষ করে এসব হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী বা মাস্টারমাইন্ডদের স্বাধীন বাংলাদেশের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেয়ার কথা বলা হয়েছে। ফ্যাসিবাদী কাঠামো সম্পূর্ণভাবে বিলোপ করে শহীদদের রেখে যাওয়া আমানতের যথাযথ হক আদায় করাই আমাদের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।