স্বতন্ত্রের ১ শতাংশ স্বাক্ষরের বৈধতা চ্যালেঞ্জ রোববার শুনানি

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনসূচক স্বাক্ষর জমা দেয়ার বিধান চ্যালেঞ্জ করে করা রিভিউ (পুনর্বিবেচনা) আবেদনের শুনানির দিন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগ। ১৫ বছর আগে দেয়া উচ্চ আদালতের এক রায় পুনর্বিবেচনার চেয়ে করা এ আবেদনটির ওপর আগামী রোববার বিচারপতি মো: রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ শুনানির এ তারিখ নির্ধারণ করেন। দু’জন আইনজীবীসহ সাত ব্যক্তি গত বছরের নভেম্বরে আবেদনটি করেন। আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত হয়ে আবেদনটি আপিল বিভাগের আজকের কার্যতালিকায় ৯১ নম্বর ক্রমিকে ওঠে। আবেদনকারীদের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ওমর ফারুক এ বিষয়ে বলেন, রিভিউ আবেদনটি শুনানির জন্য আগামী রোববার দিন ধার্য করে দিয়েছেন আপিল বিভাগ। আপিল বিভাগের বিচারপতি মো: রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চে রিভিউ আবেদনের ওপর শুনানি হবে।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ১২(৩ক)(ক) বিধান অনুযায়ী নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসংবলিত স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা মনোনয়ন সাথে যুক্ত করে দিতে হবে। তবে শর্ত থাকে যে, কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী এর আগে জাতীয় সংসদের কোনো নির্বাচনে সদস্য নির্বাচিত হয়ে থাকলে ওই তালিকা প্রদানের প্রয়োজন হবে না।

আইনজীবীর তথ্য অনুসারে, ঢাকার একটি আসন থেকে ২০০৭ সালের ২২ অক্টোবর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাহবুব আহমেদ চৌধুরী নামের এক ব্যক্তি মনোনয়নপত্র নেন। পরে নির্বাচনের ওই তারিখ পিছিয়ে যায়। অন্য দিকে ২০০৮ সালে আরপিও দফা ১২ (৩ক)তে সংশোধনী আনা হয়। এ বিধান সংবিধানের কয়েকটি অনুচ্ছেদ ও আরপিওর ১২(১) ধারার পরিপন্থী উল্লেখ করে মাহবুব আহমেদ চৌধুরী ২০১০ সালে হাইকোর্টে রিট করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল দেন। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১০ সালের ১৬ আগস্ট হাইকোর্ট রুল ডিসচার্জ (খারিজ) করে রায় দেন। দফা (৩ক) সংবিধান পরিপন্থী নয় বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়।

হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ২০১০ সালে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন রিট আবেদনকারী। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ ২০১১ সালের ২৩ জানুয়ারি লিভ টু আপিল খারিজ করে রায় দেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী এলাকার ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনসংবলিত স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা মনোনয়ন সাথে যুক্ত করাসংক্রান্ত আরপিওর ১২ (৩ক)তে বেআইনি কিছু পাননি বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। ওই রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে দুই আইনজীবীসহ সাত ব্যক্তি গত বছর পুনর্বিবেচনার আবেদনটি করেন, যার ওপর শুনানি শুরু হতে যাচ্ছে। আবেদনকারী সাত ব্যক্তি হলেন ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন, মেজর (অব:) এস এম হারুনুর রশীদ, কাজী জাহেদুল ইসলাম, আইনজীবী এস এম আজমল হোসেন, মেজর (অব:) নিয়াজ আহমেদ জাবের, মেজর (অব:) মো: জিয়াউল আহসান ও সালাহ উদ্দিন।