নোয়াখালী-৪ আসনে বিএনপি জামায়াতের তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা

Printed Edition
bangla-1
মো: শাহজাহান (বিএনপি), ইসহাক খন্দকার (জামায়াত)

মুহাম্মদ হানিফ ভূঁইয়া নোয়াখালী

একটি পৌরসভা ও ১৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত নোয়াখালী-৪ (জেলা সদরের আংশিক ও সুবর্ণচর) আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক উত্তাপ চরমে উঠেছে। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা সাত লাখ ৩৩৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার তিন লাখ ৬৬ হাজার ৬৫৬ জন এবং নারী ভোটার তিন লাখ ৩৩ হাজার ৬৭৯ জন। জেলা শহর মাইজদী ও নোয়াখালী পৌরসভা অন্তর্ভুক্ত থাকায় আসনটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত।

এ আসনে মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মূল লড়াইটি হবে বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীর দুই প্রার্থীর মধ্যে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এ আসনে এবারের নির্বাচন হবে বিএনপি-জামায়াতের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক।

বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন দলটির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ও সাবেক সংসদ সদস্য মো: শাহাজাহান। অন্য দিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নোয়াখালী জেলা জামায়াতের আমির ও কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও শিক্ষাবিদ মো: ইসহাক খন্দকার।

জানা গেছে, জেলা বিএনপির এডহক কমিটির সাথে মো: শাহাজাহানের কিছুটা দূরত্ব রয়েছে। এ ছাড়া শুরুতে এ আসনে বিএনপির আরো তিনজন মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। শেষ পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্তে মো: শাহাজাহান মনোনয়ন পাওয়ায় স্থানীয় পর্যায়ে কিছু নেতাকর্মীর মধ্যে চাপা ক্ষোভ দেখা দিয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। তবে এসব অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ সত্ত্বেও মো: শাহাজাহান নিজে ও তার অনুসারীরা নিয়মিত গণসংযোগ ও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও ব্যক্তিগত পরিচিতিকে পুঁজি করে তিনি ভোটারদের কাছে সমর্থন চাইছেন।

অন্য দিকে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো: ইসহাক খন্দকার আওয়ামী ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হলেও সরকারবিরোধী আন্দোলন থেকে বিচ্যুত হননি। ভোটারদের কাছে তিনি একজন সৎ, শিক্ষিত ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবেই পরিচিত। নির্বাচনী এলাকায় তার ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতাকে বড় শক্তি হিসেবে দেখছে জামায়াত।

মো: ইসহাক খন্দকারের পক্ষে জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা শতভাগ মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। প্রতিদিনই ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ফলে জামায়াতের প্রচারণা বর্তমানে বেশ জোরালো অবস্থানে রয়েছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সম্প্রতি নির্বাচনী উত্তেজনার মধ্যে একটি সহিংস ঘটনারও অভিযোগ উঠেছে। কয়েকদিন আগে স্থানীয় নেয়াজপুর মসজিদে ছাত্রশিবিরের কুরআন তালিম চলাকালে বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের কিছু নেতাকর্মী লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিতভাবে হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠেছে। এতে শিবিরের প্রায় অর্ধশত নেতাকর্মী আহত হন। অভিযোগ রয়েছে, হামলার উদ্দেশ্য ছিল জামায়াত-শিবিরের নেতাকর্মীদের ভয় দেখিয়ে প্রচারণা থেকে সরিয়ে দেয়া। তবে ঘটনার পরও জামায়াত ও শিবিরের নেতাকর্মীরা আরো সংগঠিত হয়ে মাঠে সক্রিয় রয়েছেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।

সব মিলিয়ে নোয়াখালী-৪ আসনে রাজনৈতিক সমীকরণ এখনো অনিশ্চিত। কে বিজয়ী হবেন, সে বিষয়ে নিশ্চিত কোনো পূর্বাভাস দিতে পারছেন না স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা। কাজেই ফল জানতে ভোটের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করাই এখন একমাত্র উপায়।