অবসরে আর্জেন্টিনার রোমেরো
Printed Edition
ক্রীড়া ডেস্ক
২০১৪ সালে ৬ জুলাই ফুটবলের মেগা আসর বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল। ফাইনালে উঠার লড়াইয়ে সেই ম্যাচে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ নেদারল্যান্ডস। নির্ধারিত সময় ও অতিরিক্ত সময় গোলশূন্য ড্র। ম্যাচ গড়ায় টাইব্রেকারে। ডাচদের নেয়া পেনাল্টি শটের দু’টি ঠেকিয়ে আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তোলার নায়ক ছিলেন গোলরক্ষক সার্জিও রোমেরো। তবে সেই বিশ্বকাপের ফাইনালে জার্মানির কাছে ১-০ ব্যবধানে হেরে শিরোপা ঘরে তোলা হলো না আলবিসেলেস্তেদের। এর পর ২০১৮ বিশ্বকাপে চোটের কারণে খেলা হয়নি আর্জেন্টিনার গোলপোস্টের নিচের এই অতন্ত্রপ্রহরীর। এবার নিজেদের গ্লাভস জোড়া তুলে রাখার সিদ্ধান্ত নিলেন দেশটির হয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবলে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলা এই গোলরক্ষক। আর্জেন্টিনার আর্জেন্টিনার ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ৯৬টি ম্যাচ খেলা ৩৯ বছর বয়সী এই গোলকিপার ২০ বছরের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারের ইতি টানেন। পেশাদার ও আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসরের ঘোষণা দিলেও ফুটবলের সাথেই থাকছেন রোমেরো।
ফুটবল মাঠে গ্লাভস হাতে নিয়ে না দাঁড়ালেও ফুটবল ছাড়ছেন না রোমেরো। এবার তিনি কোচ হিসেবে আসছেন ডাগআউটে। আর্জেন্টাইন সাংবাদমাধ্যমের তথ্য মতে, প্রস্তুত হয়ে আছেন জীবনের নতুন এক ইনিংস শুরু করতে। ইতোমধ্যেই নিজের কোচিং স্টাফও গুছিয়ে নিয়েছেন রোমেরো।
ক্লাব ক্যারিয়ারে রেসিংয়ের হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন রোমেরো। খেলেছেন ইউরোপের অনেক নামী-দামি ক্লাবে। নেদারল্যান্ডসের ক্লাব এজেড আলকমার থেকে সাম্পদোরিয়া, মোনাকো হয়ে ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জার্সিতে অবশ্য ‘ব্যাকআপ’ গোলরক্ষক হিসেবে থাকতে হয়েছিল বেশির ভাগ সময়। তবে ২০১৭ সালে ইউনাইটেডের ইউরোপা লিগ জয়ে ছিল বড় অবদান ছিল তার।
ইউরোপ-অধ্যায় শেষ করে ফিরেছিলেন স্বদেশে। ক্যারিয়ারের গোধূলি লগ্নে রেসিং ক্লাবে ফাকুন্দো কামবেসেসের বিকল্প হিসেবেও খেলতে চেয়েছিলেন, কিন্তু সেই সুযোগ আর মেলেনি। শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনোস জুনিয়র্সের হয়ে কোপা আর্জেন্টিনায় নিজের শেষ ম্যাচটি খেলে বিদায় বলে দিলেন ফুটবলকে।
আর্জেন্টিনার ২০১৫ ও ২০১৬ কোপ আমেরিকায়ও পোস্টের নিচে ছিলেন আস্থার প্রতীক ছিলেন রোমেরো। আসল বিশ্বকাপ না জিতলেও রোমেরো ২০০৭ সালে জিতেছেন অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ। লিওনেল মেসিদের সাথে জিতেছিলেন সোনা ২০০৮ বেইজিং অলিম্পিকেও। ২০১৪ এর আগে ২০১০ বিশ্বকাপেও খেলেছেন তিনি।