সৌদি আলটিমেটামের পর ইয়েমেন থেকে বাহিনী সরাচ্ছে আমিরাত
Printed Edition
নয়া দিগন্ত ডেস্ক
সংযুক্ত আরব আমিরাত ইয়েমেনে থেকে যাওয়া তাদের অবশিষ্ট সব বাহিনী স্বেচ্ছায় প্রত্যাহার করে নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে। এর আগে ইয়েমেন এক আলটিমেটামে আমিরাতি বাহিনীকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশ ত্যাগের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল। সৌদি আরব ও আমিরাতকে তা মেনে নিতে বলেছিল। রয়টার্স।
ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় মুকাল্লা বন্দরে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলার পর আমিরাতের সাথে দেশটির উত্তেজনা বেড়েছে। সৌদি আরবের অভিযোগ, সংযুক্ত আরব আমিরাতের বন্দর থেকে ছেড়ে আসা দুটো জাহাজে করে দক্ষিণ ইয়েমেনে আমিরাত-সমর্থিত বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী ‘সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল’ (এসটিসি)-এর জন্য অস্ত্র আনা হচ্ছিল। এর প্রেক্ষাপটেই মুকাল্লা বন্দরে বিমান হামলা চালায় সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। আর এই হামলাকে কেন্দ্র করেই রিয়াদ ও আবুধাবির মধ্যকার দীর্ঘ দিনের মিত্রতায় বড় ধরনের সঙ্কট তৈরি হয়েছে। হামলার ঘটনার পরই সৌদি-সমর্থিত ইয়েমেনের প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল আমিরাতি বাহিনীকে দেশ ছাড়তে বলে এবং সৌদি আরবও তাতে সায় দেয়। গত মঙ্গলবার সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এর প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, তারা ইয়েমেনে থাকা তাদের সন্ত্রাসবিরোধী ইউনিট সরিয়ে নিচ্ছে। ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটে আমিরাত ২০১৯ সালেই তাদের সামরিক উপস্থিতির ইতি ঘটালেও বিশেষায়িত অল্প কিছু সেনার একটি দল সন্ত্রাসীবিরোধী অভিযানের জন্য রেখে দিয়েছিল। সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনীর এই মিশনও আমিরাত এখন স্বেচ্ছায় শেষ করছে বলে জানিয়েছে। আমিরাত ইয়েমেন থেকে তাদের বাহিনী সরিয়ে নেওয়াতে আপাতত উত্তেজনা প্রশমন হতে পারে। তবে আসল বিষয় হচ্ছে, আমিরাত এর পরও বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী এসটিসি-কে সমর্থন দিয়ে যাবে কি না সেটি।
আমিরাত-সমর্থিত এসটিসির লক্ষ্য ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চল নিয়ে ১৯৯০ সালের মতো একটি আলাদা রাষ্ট্র গঠন করা। এমন পরিস্থিতি কেবল ইয়েমেনের ভৌগোলিক অখণ্ডতার জন্য হুমকি নয় বরং সৌদি আরবের জন্যও মাথাব্যথার কারণ। চলতি মাসের শুরুতে ইয়েমেনের সবচেয়ে বড় প্রদেশ হারদামাউত দখল করে নেয় এসটিসি। এই গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে সৌদি আরব। ওদিকে, এসটিসি-কে আমিরাত সহায়তা করছে। এ নিয়েই বিরোধে জড়িয়েছে সৌদি আরব ও আরব আমিরাত।
সৌদি আরব সম্প্রতি ইয়েমেনে খুবই বিপজ্জনক কার্যকলাপের অভিযোগ তুলেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিরুদ্ধে। তবে আমিরাত এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে। তারা দু’টি জাহাজে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের হামলার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছে এবং বলেছে, এই জাহাজে করে ইয়েমেনে আমিরাতি বাহিনীর জন্য সরবরাহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের সাথে সমন্বয় করেই তা করা হচ্ছিল। সৌদি আরব এবং আরব আমিরাত দুই দেশই তেল রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ওপেক-এর প্রধান সদস্য। দুই দেশের এই বিরোধ তেল বিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আগামী রোববার ওপেক সদস্যদের একটি ভার্চুয়াল বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে এই উত্তেজনার প্রভাবে উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান শেয়ারবাজারগুলোতে দরপতন লক্ষ্য করা গেছে।