বীমা খাতে ভর করে পুঁজিবাজার সূচকের নামমাত্র উন্নতি

ডিএসইর প্রধান দুই সূচক পুনর্গঠন

Printed Edition

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

ভালোভাবে দিন শুরু করেও শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের উত্থান ধরে রাখতে পারেনি দেশের পুঁজিবাজার। দিনের শুরুতে সূচকে উল্লেখযোগ্য উল্লম্ফন হলেও লেনদেন বাড়ার সাথে সাথে বিক্রয়চাপ তীব্র হয়ে ওঠে। ফলে দিনশেষে সূচকের বেশির ভাগ অর্জনই হারিয়ে যায়। তবে বীমা খাতের শেয়ারগুলোর শক্তিশালী মূল্যবৃদ্ধি বাজারকে বড় পতন থেকে কিছুটা রক্ষা করেছে।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ৪ দশমিক ৬১ পয়েন্ট বেড়ে ৪ হাজার ৯৪৬ দশমিক ৬৬ পয়েন্টে দাঁড়ায়। দিনের শুরুতে সূচকটি ছিল ৪ হাজার ৯৪২ দশমিক ০৫ পয়েন্টে। লেনদেনের প্রথম ১৫ মিনিটের মধ্যেই সূচকটি বেড়ে ৪ হাজার ৯৭২ পয়েন্টে পৌঁছায়, যা প্রায় ৩০ পয়েন্টের উত্থান। তবে এই পর্যায় থেকেই বিক্রয়চাপ শুরু হয়। পরবর্তী আধঘণ্টায় সূচক নেমে আসে ৪ হাজার ৯৬২ পয়েন্টে। বেলা সোয়া ১১টার পর আবার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ালেও পরবর্তীতে নতুন করে বিক্রয়চাপ তৈরি হয়, যা লেনদেনের শেষ সময় পর্যন্ত বজায় থাকে।

একই সময়ে ডিএসইর বিশেষায়িত সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসই-৩০ সূচক ১ দশমিক ৩৭ পয়েন্ট বাড়লেও ডিএসই শরিয়াহ সূচক কমে ২ দশমিক ২১ পয়েন্ট।

বাজার সংশ্লিষ্টদের মতে, তারল্য সঙ্কট এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নানা অনিশ্চয়তা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আস্থাহীনতা বাড়িয়েছে। ইসলামী ধারার পাঁচটি ব্যাংক ও কয়েকটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগকারীদের বড় অংশের অর্থ আটকে থাকায় ব্যক্তি বিনিয়োগকারীরা বেশি চাপে রয়েছেন। সামান্য নেতিবাচক ইঙ্গিত পেলেই বড় লোকসানের আশঙ্কায় তারা বিক্রয়চাপে চলে যাচ্ছেন, যা বাজারকে অস্থির করে তুলছে।

তবে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, লোকসান সমন্বয়ে শেয়ার বিক্রি কোনো সমাধান নয়। সাময়িক অস্থিরতা কেটে গেলে হারানো পুঁজি ফিরে পাওয়ার সুযোগ নষ্ট হয়ে যেতে পারে। জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে বাজার কিছুটা চাপে থাকলেও নতুন সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর পরিস্থিতি উন্নত হতে পারে বলে তাদের প্রত্যাশা।

এ দিকে ডিএসই তাদের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স এবং বিশেষায়িত সূচক ডিএসই-৩০ পুনর্গঠন করেছে। ১২ জানুয়ারি সোমবার এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করে ডিএসইর ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। আগামী ১৮ জানুয়ারি থেকে নতুন কাঠামো কার্যকর হবে।

ডিএসইএক্স থেকে ১৬টি কোম্পানি বাদ দিয়ে ৯টি নতুন কোম্পানি যুক্ত করা হয়েছে। ফলে সংশোধনের পর সূচকে অন্তর্ভুক্ত শেয়ার ও ইউনিটের সংখ্যা দাঁড়াবে ৩১৯টিতে। বাদ পড়া কোম্পানির মধ্যে রয়েছে অ্যাপোলো ইস্পাত কমপ্লেক্স, ইউনিয়ন ক্যাপিটাল, মেঘনা কনডেনসড মিল্ক, আনলিমা ইয়ার্ন ডায়িং, হামিদ ফ্যাব্রিক্স, মেঘনা পিইটি, ইউনিলিভার কনজ্যুমার কেয়ার, ফনিক্স ফাইন্যান্স, আইসিবি ইসলামী ব্যাংক, মাইডাস ফাইন্যান্সিং, বাংলাদেশ এক্সপার্ট ইমপোর্ট, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক।

নতুন করে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশ ওয়েল্ডিং ইলেকট্রোডস, ডেসকো, দুলামিয়া কটন স্পিনিং, হাওয়েল টেক্সটাইলস, নর্দান ইসলামী ইন্স্যুরেন্স, সাফকো স্পিনিংস, শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ, স্ট্যান্ডার্ড সিরামিক ও জিল বাংলা সুগার মিলস।

ডিএসই-৩০ সূচক থেকেও তিনটি কোম্পানি বাদ দিয়ে সমানসংখ্যক নতুন কোম্পানি যুক্ত করা হয়েছে। বাদ পড়েছে হাইডেলবার্গ ম্যাটারিয়ালস বাংলাদেশ, জিপিএইচ ইস্পাত ও খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ। নতুন করে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে মেঘনা পেট্রোলিয়াম, বিএসআরএম স্টিলস ও ফাইন ফুডস।

গতকাল লেনদেনে শীর্ষে ছিল স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, যেখানে ১২ কোটি ১৭ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয়। দ্বিতীয় স্থানে ছিল ওরিয়ন ইনফিউশন। শীর্ষ দশে আরো ছিল ডমিনেজ স্টিল, সিটি ব্যাংক, ফাইন ফুডস, ক্রিস্টাল ইন্স্যুরেন্স, এসিআই, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, লাভেলো আইসক্রিম ও এশিয়াটিক ল্যাবরেটরিজ।

মূল্যবৃদ্ধির শীর্ষে ছিল প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স, যার দর বেড়েছে ৯ দশমিক ৮১ শতাংশ। দরপতনের শীর্ষে ছিল প্রিমিয়ার লিজিং, যা ১১ দশমিক ১১ শতাংশ কমেছে।