বিশ্বকাপের সেরা গোল কেপ ভার্দের কাবরালের
Printed Edition
ক্রীড়া ডেস্ক
যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডার যৌথ আয়োজনে সদ্য শেষ হয়েছে ফুটবল বিশ্বকাপের ২৩তম আসর। এই মেগা আসরে বিস্ময়ের নাম ছিল আফ্রিকার দেশ কেপ ভার্দে। বিশ্বকাপের নকআউটের ম্যাচে এই নবাগত দেশটি কাপন ধরিয়ে দিয়েছিল আর্জেন্টিনার। সেই ম্যাচে ২০২২ বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা দুইবার এগিয়ে গেলেও প্রতিবারই সমতায় ফেরে আফ্রিকা মহাদেশের পশ্চিম অঞ্চলের দেশটি। তিনবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়নরা দুইবার এগিয়ে যাওয়ার পর ৪০৩৩ বর্গকিলোমিটারের দেশটিকে দ্বিতীয়বার সমতায় ফেরানো গোলটি করেছিলেন সিডনি কাবরাল। তার সেই বাঁকানো শটের গোল প্রশংসা কুড়িয়েছিল সর্বমহলে। শেষ পর্যন্ত এই গোলটিই পেল বিশ্বকাপের সেরা গোলের স্বীকৃতি।
বিশ্বকাপের শেষ ৩২-এর ম্যাচে আর্জেন্টিনার কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরে কেপ ভার্দে বিদায় নিলেও আলোচনায় ছিল কাবরালের গোলটি। আন্তর্জাতিক ফুটবলের নিয়ন্তা সংস্থাটি বিশ্বকাপের ১২টি স্মরণীয় গোলের একটি সংক্ষিপ্ত তালিকা প্রকাশ করেছিল। অবশেষে ফিফা ওয়েবসাইটে আয়োজিত সমর্থকদের ভোটে সেরা গোল হিসেবে বিজয়ী হয় কাবরালের গোলটিই।
পুরস্কার জয়ের পর সিডনি কাবরাল বলেন, ‘ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে কিছুটা জায়গা পেয়ে ভাবলাম, একবার চেষ্টা করেই দেখি। আমি দুই পায়েই ভালো শট নিতে পারি। ফাঁকা জায়গা দেখে কোণ লক্ষ্য করে শট নিই। বলটি যখন জালে যেতে দেখলাম, তখন নিজেরই বিশ্বাস হচ্ছিল না। সতীর্থদের দিকে তাকিয়ে দেখি, সবাই মাথায় হাত দিয়ে উচ্ছ্বাসে চিৎকার করছে।’
ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ের ১৩ মিনিটে গোল করে ২-২ সমতা ফেরান কাবরাল। এর আগে আর্জেন্টিনার হয়ে লিওনেল মেসি ও লিসান্দ্রো মার্টিনেজ গোল করেন। কেপ ভার্দেকে প্রথম গোল হজম করার পর সমতায় ফেরান দেরয় দুরাতে। অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয়ার্ধের ষষ্ঠ মিনিটে ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর শট কেপ ভার্দের ডিফেন্ডার দিনেই বোর্গেসের গায়ে লেগে জালে জড়ায়। ৩-২ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নেয় আর্জেন্টিনা।
নকআউট পর্ব থেকে কেপ ভার্দে বিদায় নিলেও ৫ লাখ ৩০ হাজারের মতো জনসংখ্যার দেশটির বিশ্বকাপ অভিযানটা ছিল ঐতিহাসিক। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে অংশ নিয়ে দলটি গ্রুপ পর্বে অপরাজিত ছিল। তারা ড্র করেছিল ২০১০ ও বর্তমান চ্যাম্পিয়ন স্পেন, দুইবার বিশ্বকাপজয়ী উরুগুয়ে ও এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল সৌদি আরবের বিপক্ষে। এ ছাড়া বিশ্বকাপের দুই ফাইনালিস্ট আর্জেন্টিনা ও স্পেন দুই দলের বিপক্ষেই ৯০ মিনিটে হার না মানা একমাত্র দলও ছিল কেপ ভার্দে।